
শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মী ও বুদ্ধিজীবী মঞ্চের সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তী ও সান্টু গুপ্ত ২১ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯ আগস্ট রাতে এবং তার পরদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবিভিপি দুষ্কৃতীরা যে ভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে, অবাধে মহিলা ও ছাত্রীদের গালিগালাজ করেছে তা গণতন্ত্রের কলঙ্ক এবং পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তা বরদাস্ত করে না। গণতন্ত্রপ্রিয় ও বামপন্থী সংগঠনগুলি যে ভাবে এর প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন, বুদ্ধিজীবী মঞ্চ তার জন্য তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুল, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, সুকান্ত সহ মনীষী ও প্রখ্যাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎসা ও মিথ্যা প্রচার চলছে, তেমনই চলছে তাঁদের মূর্তি ভাঙা, বিকৃত ও উৎপাটিত করার হুমকি। সরকার ও প্রশাসন নীরব দর্শক, কার্যত পরোক্ষ প্রশ্রয়দাতা। যাদবপুরে মহামতি লেনিনের মূর্তি ভাঙার হুমকি ও উদ্যোগ অব্যাহত আছে। এই সমস্ত কাজকে মনুষ্যত্ব ও নৈতিকতা ধ্বংসকারী অপকর্ম বলে অভিহিত করেছে মঞ্চ।
মঞ্চ বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতার শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করে যে ভাবে রুচিহীন গেরুয়াকরণ চলছে ও শাসক দলের ট্রেড ইউনিয়নের কার্যালয়ের নামে শিল্প সংস্কৃতি নাটক চলচ্চিত্র চিত্র প্রদর্শনীর ঐতিহ্যবাহী স্থলের অবমাননা করা হচ্ছে তা রুচিশীল কোনও মানুষ মেনে নিতে পারেন না।
সত্য ও সংস্কৃতি বিবর্জিত এই সব অশুভ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাট্যকর্মীদের যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ উদ্যোগ শুরু হয়েছে তার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করি।