
আমাদের অধ্যয়নের ধরনে এখনও কিছু ভুলত্রুটি রয়ে গেছে, পার্টির আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সম্পর্কের ধরনে এবং আমাদের লেখার ধরনের মধ্যেও বেশ কিছু ভুলত্রুটি রয়ে গেছে। অধ্যয়নের ধরনে কিছু কিছু ভুলত্রুটি বলতে আমরা মনগড়া চিন্তাপদ্ধতির ব্যাধির কথাই বোঝাচ্ছি। পার্টির সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি বলতে আমরা সংকীর্ণতাবাদের ব্যাধিকে বোঝাচ্ছি। লেখার ধরনে ভুলত্রুটি বলতে আমরা ছকে বাঁধা লেখার ব্যাধিকে বোঝাচ্ছি। … শত্রুকে উৎখাত করার কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য পার্টির অভ্যন্তরের এই কর্মরীতিগুলির সংশোধন করার কাজটি আমাদের সুসম্পন্ন করা চাই। অধ্যয়নের রীতি, লেখার রীতিও পার্টির কর্মরীতির অংশ।…
… অনেক মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী বই আমরা পড়েছি, কিন্তু আমরা কি দাবি করতে পারি যে আমরা তত্ত্ববিদদের পেয়েছি? পারি না। মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ হচ্ছে প্রয়োগের ভিত্তিতে মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন ও স্ট্যালিনের সৃষ্ট তত্ত্ব, তাঁদের সাধারণ সিদ্ধান্তগুলিতে তাঁরা পৌঁছেছেন ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক বাস্তবতা থেকে। আমরা যদি শুধু তাঁদের রচনাবলিই পড়ি কিন্তু চিনের ইতিহাস ও বিপ্লবের বাস্তবতাকে যদি তাঁদের তত্তে্বর আলোকে অধ্যয়ন করতে অগ্রসর না হই, অথবা আমরা যদি তত্ত্বকে সযত্নে চিনের বিপ্লবের ক্ষেত্রে প্রয়োগের বিষয়টিগভীর ভাবে ভেবে দেখার চেষ্টা না করি, তা হলে নিজেদের মার্ক্সবাদী তত্ত্ববিদ বলে গালভরা নাম না দেওয়াই আমাদের পক্ষে উচিত হবে। যদি চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হয়েও আমরা চিনের সমস্যাগুলির প্রতি চোখ বুজে থাকি এবং মার্ক্সবাদী রচনাগুলি থেকে শুধু কিছু বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত ও সূত্র মুখস্থ করি তা হলে তত্ত্বগত ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য নিতান্ত নগণ্য বলে বিবেচিত হবে। একজন লোক যদি শেষ পর্যন্ত শুধু মার্ক্সবাদী অর্থনীতি বা দর্শন মুখস্থ করতে পারেন, প্রথম অধ্যায় থেকে শুরু করে দশম অধ্যায় পর্যন্ত অনায়াসে উদ্ধৃতি দিতে পারেন, কিন্তু তাকে প্রয়োগ করতে একেবারেই অসমর্থ হন, তবে তাঁকে মার্ক্সবাদী তত্ত্ববিদ বলে গণ্য করা যায় কি? না, যায় না। আমরা কী ধরনের তত্ত্ববিদ চাই? আমরা তেমন তত্ত্ববিদই চাই যিনি মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদী অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইতিহাস ও বিপ্লবের গতিপথে যে বাস্তব সমস্যাগুলি দেখা দেবে তাকে সঠিক ভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, আর চিনের অর্থনীতিগত, রাজনীতিগত, সামরিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সমস্যাগুলির তত্ত্বগত বিশদ ব্যাখ্যা করতে পারবেন। এ ধরনের একজন তত্ত্ববিদ হতে গেলে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ, মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গির ও পদ্ধতির মর্মবস্তুর যথার্থ অধিকারী হতে হবে এবং উপনিবেশের বিপ্লব ও চিন বিপ্লব প্রসঙ্গে লেনিন ও স্ট্যালিনের তত্ত্বগুলিকে যথাযথ ভাবে আয়ত্ত করতে হবে এবং তাকে চিনের বাস্তব সমস্যাগুলি সুগভীর ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রয়োগের ব্যাপারে সমর্থ হতে হবে এবং এই সমস্যাবলীর বিকাশের নিয়মগুলিকে আবিষ্কার করতে পারার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। ঠিক এ ধরনের তত্ত্ববিদদেরই আমাদের যথার্থ প্রয়োজন। …
আমাদের পার্টি-স্কুলের কমরেডরা মার্ক্সবাদী তত্ত্বকে প্রাণহীন শাস্ত্রবাক্য বলে যেন মনে না করেন। মার্ক্সবাদী তত্ত্বকে আয়ত্ত করতে হবে একমাত্র প্রয়োগের উদ্দেশ্য নিয়েই। আপনি যদি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি-দুটি বাস্তব সমস্যার বিশদ ব্যাখ্যায় প্রয়োগ করতে পারেন তবে আপনাকে খানিকটা সাফল্যের কৃতিত্ব ও গৌরব দেওয়া যায়। যত বেশি সমস্যার বিশদ বিশ্লেষণ আপনি করবেন, যত বেশি পূর্ণাঙ্গ ভাবে এবং গভীর ভাবে আপনি তা করবেন, আপনারা সাফল্য ততই বেশি হবে।‘পার্টির কর্মরীতি সংশোধন করুন’, ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২