Breaking News

পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি দুষ্কৃতীদের হামলা

কোচবিহারে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং এআইডিএসও কর্মীদের উপর এবিভিপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা করে কোচবিহার শহরে ১৭ সেপ্টেম্বর বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ঘটনার সাথে যুক্ত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে কঠোর শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে ধিক্কার মিছিল হয়। নেতৃত্ব দেন এআইডিএসও কোচবিহার জেলা সম্পাদক আসিফ আলম, সভাপতি কৃষ্ণ বসাক ও এসএফআই জেলা সভাপতি জিৎ কুমার পাল প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ জানান, ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাসুদেব রায়কে এবিভিপি ছাত্ররা নির্মম ভাবে মারধর করে। অভিযোগ জানাতে গেলে উপাচার্য ও অধ্যাপকদের উপস্থিতিতেই এআইডিএসও-কর্মী সহ ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় এবিভিপি দুষ্কৃতীরা। আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর সময়ে অ্যাম্বুলেন্সের দরজা ভেঙে এআইডিএসও-র বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট সম্পাদিকা মুক্তা রায় সহ অন্যদের উপর নৃশংস হামলা এবং ছাত্রীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে তারা। ঘটনার ভিডিও তোলায় ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও হুমকির ঘটনা ক্যাম্পাসে চরম নৈরাজ্য ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

তাঁরা বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এআইডিএসও-র পক্ষ থেকে মহান মানবতাবাদী সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সাফল্যে ক্ষিপ্ত হয়েই এই পরিকল্পিত হামলা। এর আগে এবিএন শীল কলেজ হোস্টেল, মেখলিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালায় এবিভিপি। পুণ্ডীবাড়ি ও মাথাভাঙায় এসএফআই-এর সম্মেলন চলার সময়ে এবিভিপি-বিজেপি-আরএসএস দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মেখলিগঞ্জ কলেজের ছাত্র পবিত্র রায়কে ইউনিয়ন রুমে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে এবিভিপি দুষ্কৃতীরা। কয়েক দিন আগে তার ব্যাগ থেকে মনীষীদের জীবনী সহ নানা বইপত্র কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পেশিশক্তির সাহায্যে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের এই অপচেষ্টা বাংলার শিক্ষা সংস্কৃতির পরিপন্থী। শিক্ষার অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হলেই ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়ার হীন চক্রান্ত বাংলার মানুষ ও ছাত্রসমাজ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না।