ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদে আসামে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটির বিক্ষোভ

ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন (এস আর) প্রক্রিয়ায় সত্যতা যাচাই না করে নির্বিচারে হাজার হাজার সংখ্যালঘু জনগণকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিশ পাঠানো বন্ধ করা এবং প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় রাখার দাবিতে ২৯ জানুয়ারি নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটি করিমগঞ্জ জেলা আয়ুক্ত কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখায়। কমিটির এক প্রতিনিধি দল জেলা আয়ুক্তের সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকপত্র দেয় এবং তার মাধ্যমে আসামের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও স্মারকপত্র দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন সুনীতরঞ্জন দত্ত, অরুণাংশু ভট্টাচার্য, রফিক আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হক চৌধুরী এবং সন্দীপ নন্দী। তাঁরা বলেন, বিশেষ সংশোধনীর নামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন আসাম সরকারের চক্রান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করা চলছে। তাদের শুনানিতে হাজির হতে নির্বিচারে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর লক্ষ্য করা গেছে যে, নিয়ম-নীতি ভেঙে একজন লোক শত শত নাগরিকের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করছে। এমনকি বহু জীবিত লোককে মৃত দেখিয়ে অভিযোগ দায়ের করে নাম কাটার হীন প্রচেষ্টা চলছে।

বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকের অজান্তেই তাদের এপিক ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে শত শত অভিযোগ জমা পড়েছে। যেগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। এ ধরনের যেমন খুশি আপত্তি দাখিলের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সাংঘাতিক হয়রানির শিকার হচ্ছে। অভিযোগের শুনানির নামে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার লোককে শুনানি কেন্দ্রে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। বৃহৎ সংখ্যক লোককে আগের দিন সন্ধ্যায় নোটিস দিয়ে সাত দিনের সময়সীমার নীতি লঙ্ঘন করে পর দিন সকালে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু লোক শুনানির সময় উপস্থিত হতে পারছেন না।

উপস্থিত জনসাধারণের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অরুণাংশু ভট্টাচার্য বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্যে এই কথা স্পষ্ট যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের চাপে রাখতে, হয়রানি করতে নির্বিচারে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক কাজের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০২৬ সালের নির্বাচনে একদিকে সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটিয়ে অসৎ উপায়ে বিজেপির জয় হাসিল করা। অথচ এই চক্রান্তের বলি হচ্ছেন এ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। অতীতেও লক্ষ লক্ষ বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের বেআইনিভাবে ‘ডি’ ভোটার বানিয়ে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং ট্রাইবুনালে বিচারের নামে প্রহসন করে অনেককে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

কমিটির দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক, এমনকি শয়ে শয়ে দাখিল করা অভিযোগ তাৎক্ষণিক ভাবে খারিজ করতে হবে। খুঁটিয়ে খোঁজ ও বাস্তব সমীক্ষা না করে দাখিল করা ভিত্তিহীন অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করতে হবে। সাজানো এবং মিথ্যা অভিযোগ দাখিলকারীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, শুনানিতে উপস্থিত থাকা এবং দাখিল করা তথ্য-প্রমাণের় তালিকার প্রমাণপত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে সিলমোহর সহ অভিযুক্তকে দিতে হবে, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য রাজ্যের সর্বত্র একই ধরনের নথিপত্র স্থির করতে হবে। ইচ্ছেমতো এবং মর্জিমাফিক নথিপত্র চাওয়া চলবে না, সুস্থ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। শুনানি কেন্দ্রে বসার আসন, পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে। যথেষ্ট সংখ্যক আধিকারিক-কর্মচারীর ব্যবস্থা করতে হবে।