Breaking News

পাঠকের মতামতঃ ‘স্মার্ট মিটার’ কাদের জন্য স্মার্ট

স্মার্ট মিটার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সুবিধার জন্য স্মার্ট নয়। গ্রাহকদের পকেট কাটার জন্য এক্কেবারে স্মার্ট। তার মানে বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের জন্য স্মার্ট। পয়সা আগে না ভরলে যেমন স্মার্ট ফোন অচল, তেমন পয়সা আগে না দিলে স্মার্ট মিটার অচল– মানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। অতএব ফেলো কড়ি মাখো তেল। কড়ি ফেললেও তেল কতটা মিলবে, তা গ্রাহকের অজানা থাকবে। এই তেল আছে, পরক্ষণে না-ও থাকতে পারে। এ ব্যাপারে মিটারটি বেশ স্মার্ট। অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা হয়ে পড়বে আরও জটিল যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

বিদ্যুৎ পরিষেবায় ‘লাভ নয় এবং লোকসানও নয়’ পদ্ধতি অনুসরণের কথা সরকারি আইনে ছিলই। কিন্তু সেই আইন পরিবর্তন হতে হতে আজ বিদ্যুৎ ক্রয়যোগ্য অত্যন্ত দামী পণ্যে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা বেসরকারি হাতে সমর্পিত হতে চলেছে বা হয়েছে। বেসরকারি মালিক ব্যবসা করবে, লাভ করবে– এটাই তো স্বাভাবিক। কারণ এরা সমাজসেবার জন্য তো ব্যবসা করে না। তা হলে বিদ্যুৎ থেকে শুধু লাভ পাবার আশায় নয়, অতি লাভের হাতছানিতে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলার বুকে স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিবাদের কথা যারা তুলছে তারা সকলেই কি সেই প্রতিবাদের আসল শক্তি? ভোটমুখী দল ক্ষমতায় থাকলে এক রূপ, ক্ষমতায় না থাকলে আর এক রূপ। এ দৃশ্য মানুষের কাছে অপরিচিত নয়। এদের রূপ রূপান্তরে মানুষ শুধু ভুলে যায় কে তাঁদের জন্য।

তবুও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদ করে। যে যতটুকু প্রতিবাদ করতে চায় করুক। নতুন বিদ্যুৎ আইন যে কর্পোরেটের স্বার্থে তা ভুক্তভোগী মানুষ বুঝতে শুরু করেছে। আর সুবিধাবাদী রাজনীতির বিরোধিতা দেখা যায় শুধু মঞ্চে আর মিডিয়া চ্যানেল বাইটে। কিন্তু সত্যিকারের প্রতিবাদের স্বর মানুষের অচেনা নয়। সেই চেনা স্বরে ‘স্মার্ট মিটার’-এর বিরুদ্ধে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি’র প্রতিবাদ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আরও তীব্র ভাবে।

পাঠক মিত্র, কলকাতা-৩৪