
কেন্দ্রের পর রাজ্যেও ক্ষমতায় বসার পর ইতিহাস বদল করার এক ব্যাপক পরিকল্পনা কার্যকর করতে নেমেছে বিজেপি৷ শুরু হয়েছে ইতিহাসের নতুন নির্মাণ৷ এই প্রেক্ষাপটে কষ্টিপাথর হিসাবে কাজ করতে পারে ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন৷ যাচাই করে নেওয়া যায় স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন দল এবং নেতাদের ভূমিকা৷ আগামী ৯ আগস্ট এই আন্দোলনের ৮৫তম দিবস৷ এই উপলক্ষে একবার তাকানো যাক সেই ইতিহাসের দিকে৷
বহু বছর ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে ১৯৪২–এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন ছিল দেশজোড়া এক ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ত গণভ্যুত্থান৷ দুশো বছরের ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের ফলে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জীবন কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছিল৷ এর বিরুদ্ধে মানুষের মনে জমা হয়েছিল প্রবল অসন্তোষ৷ ১৯০৫ থেকে শুরু করে দেশের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই যখন ঢেউয়ের পর ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে চলেছে, তখন বারে বারে কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আন্দোলনের রাশ টেনে ধরার ঘটনাও জনমনে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল৷ এই অসন্তোষই দেশজোড়া আন্দোলনের আকারে ফেটে পড়েছিল, যা ‘ভারত ছাড়ো’ বা ‘আগস্ট আন্দোলন’ নামে খ্যাত৷ ১৯২১–এর অসহযোগ আন্দোলনের পর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মতো এত ব্যাপক গণজাগরণ ভারতে আর ঘটেনি৷
এই আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য– এই সংগ্রামে কোনও নেতার কোনও নির্দেশ ছিল না৷ কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছিল না৷ কোনও অস্ত্রশস্ত্র ছিল না৷ এক স্থানে লড়াইয়ের সঙ্গে অন্য স্থানের লড়াইয়ের যোগাযোগ ছিল না৷ থাকলেও তা ছিল খুবই ক্ষীণ এবং কংগ্রেসের মঞ্চকে ভিত্তি করেই৷ ভারতের ইতিহাসে আগস্ট আন্দোলন এক স্বতঃপ্রণোদিত জনজাগরণ৷ এক দিকে পরাধীন ভারতবাসীর স্বাধীনতার তীব্র আকাঙক্ষা, অন্য দিকে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রয়েছে এই আন্দোলন৷ এমন নেতৃত্বহীন গণআন্দোলন ইতিহাসে খুবই কম৷ বাস্তবে এই আন্দোলনে ছিল– জনতাই নেতা৷
১৯৪২–এর ৮ আগস্ট মুম্বইতে এআইসিসি–র অধিবেশনে বিপুল ভোটাধিক্যে ‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব গৃহীত হয়৷ প্রস্তাবে দাবি করা হয়, ভারতে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হোক এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে ব্রিটিশের স্বাধীন মিত্রের মতো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হোক৷ গান্ধীজি বললেন, পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া অন্য কিছুতেই আমি সন্তুষ্ট হব না৷ … এই মন্ত্র আপনাদের হূদয়ে মুদ্রিত হোক, প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রকাশিত হোক৷ মন্ত্রটি হল– হয় আমরা ভারতকে স্বাধীন করব, না হয়তো এই চেষ্টায় মৃত্যুবরণ করব৷
আন্দোলনের নামে কংগ্রেস নেতৃত্বের ব্রিটিশের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা
‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব গৃহীত হল৷ নেতারা সংগ্রামের ডাক দিলেন৷ কিন্তু এই সংগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হল না৷ ইংরেজ ভারত না ছাড়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালানোর জন্য জনতাকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে প্রস্তুত করার দরকার ছিল, তা করা হল না৷ এই সংগ্রাম যে দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা বুঝে জনতাকে সে ভাবে প্রস্তুত করা হল না৷ নেতারাও গ্রেফতার এড়িয়ে দীর্ঘদিন সংগ্রাম পরিচালনার জন্য কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন না৷ প্রবল অত্যাচারী সাম্রাজ্যবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এতবড় সম্ভাবনাপূর্ণ সংগ্রামকে কেবল স্বতঃস্ফূর্ততার উপর ছেড়ে দেওয়া হল৷
হয়তো কংগ্রেস নেতৃত্বের ধারণা ছিল, এ আন্দোলন তাঁদের শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যিই করতে হবে না৷ তাই আন্দোলনের হুমকির ভাষা যতখানি কঠোর ছিল আন্দোলনের সাংগঠনিক পরিকল্পনা তার ধারেকাছেও ছিল না৷ আন্দোলন শুরুর কোনও নির্দিষ্ট দিনও নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি৷ ৮ আগস্ট মুম্বইয়ে কংগ্রেস কমিটির বৈঠক শেষে গান্ধীজি বললেন, আমি আন্দোলন শুরুর আগে বড়লাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব৷ অর্থাৎ তাঁর আশা ছিল, আন্দোলনের ঘোষণাই ব্রিটিশকে একটা সমঝোতায় আসতে বাধ্য করবে৷ কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের নেতা আবুল কালাম আজাদের মতে, আন্দোলনের রূপরেখা সম্পর্কে গান্ধীর কোনও স্পষ্ট ধারণা ছিল না৷ কিন্তু ইংরেজরা আলোচনায় বসবে, তখনই সবাইকে গ্রেফতার করবে না– এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের বশে তিনি কোনও নির্দেশাবলি রচনা করেননি (স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস, অমলেশ ত্রিপাঠী, পৃঃ ৩১৫)৷
নেতৃত্বের ডাক ছাড়াই আন্দোলনে দেশের মানুষ
বাস্তবে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের নেতৃত্বে ১৯৪০–এ রামগড়ে আপসবিরোধী সম্মেলন থেকে দেশজোড়া আন্দোলন গড়ে তোলার যে ডাক ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল তা দেশের মানুষকে উদ্বেল করে তুলেছিল৷ এই অবস্থায় ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার পরিবর্তে পর দিন ৯ আগস্ট ভোরেই গান্ধীজি এবং এআইসিসি–র সব নেতাকে গ্রেফতার করে৷ সেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে৷ বাস্তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ ছাড়াই দেশ জুড়ে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, ব্রিটিশ শাসনকে অচল করে দিতে মরিয়া সংগ্রামে সামিল হয়৷ সারা বাংলা জুড়ে ছাত্র যুবক মহিলা কিশোর কৃষক শ্রমিক সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণে আন্দোলন গণচরিত্র নেয়৷ দেশব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলন, ট্রেন–স্টেশন, সরকারি অফিস, পোস্ট অফিস জনতা দখল করে নেয় অথবা পুড়িয়ে দেয়৷ রাস্তা কেটে, রেললাইন উপড়ে ফেলে, টেলিগ্রাফের তার কেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলে৷ সর্বত্র বিরাট বিরাট শোভাযাত্রা বের হয় যেখানে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য৷ ছাত্ররা সুক্ল কলেজ ছেড়ে বেরিয়ে আসে৷ আন্দোলনে ব্রিটিশ সরকারের সীমাহীন কঠোরতা ও অমানুষিক অত্যাচার জনসাধারণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়৷ পরিণতিতে আন্দোলন ‘অহিংসা’র সীমা অতিক্রম করে যায়৷ অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর, ফরওয়ার্ড ব্লক, কংগ্রেস সোসালিস্ট পার্টি সহ স্বদেশি সংগঠনগুলি, যারা আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের প্রায় সব নেতাদেরই গ্রেফতার করে আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করে ব্রিটিশ৷ মেদিনীপুরে আন্দোলন সবচেয়ে তীব্র রূপ নেয়৷ সর্বত্র থানা ও সরকারি কার্যালয়গুলি কোথাও আন্দোলনকারীরা দখল করে নেয়, কোথাও আগুন লাগিয়ে দেয়৷ মেদিনীপুরে পটাশপুর, সুতাহাটা, খেজুরি থানা আন্দোলনকারীদের দখলে চলে যায়৷ মহিষাদল, ভগবানপুরে পুলিশের আক্রমণে বিদ্রোহীদের পিছু হঠতে হয়৷ তমলুকে শোভাযাত্রার উপর ব্রিটিশ পুলিশ গুলি চালালে ৭৩ বছরের বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা প্রাণ হারান৷ তমলুকে সতীশ সামন্তের নেতৃত্বে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠিত হয়৷ হুগলি, হাওড়া, বীরভূম, নদীয়া মুর্শিদাবাদ, ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, ময়মনসিংয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে৷
আন্দোলন দেশজোড়া
সারা বাংলার সাথে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে মুম্বই, আমেদাবাদ, পুনা, পাটনা, ঢাকাতে৷ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, বিহার, আসাম, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা প্রভৃতি রাজ্যের জেলায় জেলায় আন্দোলন ব্যাপক রূপ নেয়৷ উত্তরপ্রদেশের বালিয়া, মহারাষ্ট্রের সাতারা প্রভৃতি অনেক জায়গায় জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়৷ শ্রমিকরা জামশেদপুর, কানপুর, নাগপুর, আমেদাবাদ ও দিল্লিতে ধর্মঘট করে৷ কৃষকরা দলে দলে আন্দোলনে যোগ দেয়৷ বহু জায়গায় কৃষকরা খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়, জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শ্রেণি সংগ্রামের রূপ নেয়৷ উল্লেখ্য, মুসলিম লিগ, হিন্দু মহাসভা ও অন্য হিন্দু সংগঠনগুলি এবং তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টি সিপিআই এই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল এবং আন্দোলন থেকে সংগঠন এবং সমর্থকদের দূরে রেখেছিল৷ তা সত্ত্বেও ছ’মাস নেতৃত্বহীন অবস্থাতেই ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন ইতিহাস তৈরি করে৷
এই আন্দোলন দমনে ব্রিটিশ শাসকদের পাশবিকতা ছিল সীমাহীন৷ তারা কঠোর থেকে কঠোরতর দমন–পীডন চালায়৷ সরকারি হিসাব অনুসারে ’৪২–এর ৯ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্রিটিশ সরকার ৬২,২২৯ জনকে গ্রেফতার করে, ভারতরক্ষা আইনে ১৮,০০০ জনকে নজরবন্দি করে৷ পুলিশ ও মিলিটারির গুলিতে ১৪০ জন নিহত এবং লাঠি ও গুলিতে ১৬৩০ জন আহত হয়৷ নিঃসন্দেহে বাস্তব পরিসংখ্যান এর থেকে অনেক বেশি৷ নেতৃত্ববিহীন জনতার সমস্ত বীরত্ব এবং আত্মত্যাগ সত্ত্বেও মিলিটারি এবং পুলিশি বল প্রয়োগে এই বিদ্রোহ ধবংস করা হয়৷ এর ফলে স্বাধীনতার লড়াই অনেকখানি নিস্তেজ হয়ে যায়৷ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলি– হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লিগ শক্তিশালী হয়৷
আন্দোলনে জনগণের কৃতিত্ব আত্মসাতের চেষ্টা কংগ্রেসের
কংগ্রেস নেতারা যত দিন জেলবন্দি ছিলেন তত দিন তাঁরা বলেছেন, আগস্ট আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই, এ কংগ্রেসের আন্দোলন নয়৷ জওহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই প্যাটেল এবং গোবিন্দবল্লভ পন্থ ২১ সেপ্ঢেম্বর ১৯৪৫ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এআইসিসি বা গান্ধীজি কোনও আন্দোলন শুরু করেননি৷ নেহেরু আন্দোলনকে ‘মূঢ় ও অকালোচিত’ বলে দেগে দেন (ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া)৷ আন্দোলন হিংসাত্মক হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তার প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য জেলের মধ্যে গান্ধীজি ২১ দিন অনশন করলেন৷ অথচ বিস্ময়কর ভাবে, জেল থেকে বাইরে এসে আন্দোলনে মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ দেখে কংগ্রেসের নেতারা ‘আগস্ট আন্দোলনের সমস্ত দায়িত্ব আমাদের’ বলে আন্দোলনের জনগণের কৃতিত্বে ভাগ বসাতে চাইলেন৷ অথচ পরবর্তী প্রত্যেক নির্বাচনে কংগ্রেস যে বিপুল সমর্থন লাভ করেছিল তার পিছনে ছিল এই আন্দোলনে শত শত অখ্যাত অজ্ঞাত দেশবাসীর আত্মদান, শত শত লাঞ্ছিত নারীর চোখের জল, সর্বস্ব পণ করা শত শত দরিদ্র কৃষকের অনমনীয় সঙ্কল্প৷ বাস্তবে দেশের জনগণের লক্ষ্য যে স্বাধীনতা, সে লক্ষ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের ছিল না৷ তাঁরা চেয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক পুঁজির অংশ হিসাবে ভারতীয় পুঁজিপতিদের পরিচালনায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যার সাহায্যে ব্রিটিশের মতো একই ভাবে ভারতীয় পুঁজিপতিরা দেশের জনগণের উপর শোষণ–শাসন চালাতে পারে৷
কংগ্রেস নেতৃত্ব যখন যে কোনও ভাবে ব্রিটিশের সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে ব্যগ্র, তখন নেতাজি সুভাষচন্দ্র আগস্ট সংগ্রামকে তীব্রতর করার জন্য জার্মানি থেকে দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানালেন৷ ৩১ আগস্ট ১৯৪২ তারিখে রেডিও ভাষণে তিনি বললেন, ‘ভারতবর্ষের সংগ্রাম অবাধ গতিতে চলছে৷ এই আন্দোলন আগুনের মতো শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে৷ … আমাদের দেশে এখন যে আন্দোলন চলছে, তাকে অহিংস গেরিলা যুদ্ধ বলা যেতে পারে৷ এই গেরিলা যুদ্ধকে সম্প্রসারিত করার পথ অবলম্বন করতে হবে৷ … ব্রিটিশ সমরপ্রচেষ্টা ধ্বংস করতে হবে৷ ব্রিটিশ শাসনকে অচল করে তুলতে হবে৷ প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ সমস্ত কর দেওয়া বন্ধ করুন৷ সব কারখানাতেই শ্রমিকদের হয় অবস্থান ধর্মঘট করতে হবে কিংবা কাজে ইচ্ছা করে ঢিলে দিতে হবে৷ ছাত্ররা গেরিলা দল গঠন করে দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক কাজ আরম্ভ করবে৷’
হিন্দু মহাসভার ভূমিকা
বিয়াল্লিশের স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌবনোদীপ্ত এই বিদ্রোহকে হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন৷ বললেন, ‘আমি মনে করি না যে, গত তিন মাসের মধ্যে যে সব অর্থহীন উচ্ছৃঙ্খলতা এবং নাশকতামূলক কাজ করা হয়েছে, তার দ্বারা আমাদের দেশের স্বাধীনতালাভে সহায়তা হবে’ (রাষ্ট্র সংগ্রামের এক অধ্যায়)৷ মর্যাদায় ভাস্বর এই বিদ্রোহকে শুধু ‘উচ্ছৃঙ্খলতা’ বলেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তিকে অর্থাৎ ব্রিটিশকে সহযোগিতা করার কথাও তিনি বলেছেন৷ ‘এখন যুদ্ধকালীন অবস্থায় ভারতবর্ষের … জাতীয় গভর্নমেন্ট এমন ভাবে গঠিত হবে, যাতে মিত্রপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতায় যুদ্ধ করা সম্ভব হয়’ (ওই)৷ শুধু শ্যামাপ্রসাদই নন, হিন্দু মহাসভার নেতা সাভারকারও বিয়াল্লিশ সালের আন্দোলনের সময় ব্রিটিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ও মুসলিম বিরোধী প্রচারকে তীব্র করতে বলেছিলেন৷ তাই মহাসভার সদস্যদের স্থানীয় সংস্থায়, আইনসভায়, চাকরিতে যে যেখানে ছিলেন, তাঁদের নিজ নিজ পদ থেকে না সরে নিয়মিত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করতে নির্দেশ দেন৷ তাঁর যুদ্ধকালীন স্লোগান ছিল ‘রাজনীতির হিন্দুকরণ’ এবং ‘হিন্দুত্বের সামরিকীকরণ’৷
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ না নেওয়ার মূল তত্ত্বগত কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আরএসএসের গুরুজি এম এস গোলওয়ালকর৷ বলেছেন, ‘ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ও সাধারণ (কমন) বিপদের তত্ত্বগুলিকে নির্ভর করে আমাদের জাতিসংক্রান্ত ধারণার ভিত্তি গড়ে ওঠায় আমাদের বাস্তব হিন্দু জাতীয়তার ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ক নির্যাস থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু কর্মসূচিকেই কার্যত ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে পর্যবসিত করেছি৷ ব্রিটিশবিরোধী হওয়াকেই দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী হওয়া বলে ধরে নেওয়া হয়েছে৷ এই প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনতাসংগ্রামের সমগ্র পর্যায়ের উপর এবং তার নেতাদের ও সাধারণ মানুষের ওপর বিপর্যয়কারী প্রভাব ফেলেছে’ (উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড, গোলওয়ালকর)৷ হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ভারতবাসীর সাধারণ শত্রু বা বিপদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ হওয়া সত্ত্বেও গোলওয়ালকরজি তা মানতে নারাজ ছিলেন৷ ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদও তাঁর কাছে সমর্থনযোগ্য ছিল না৷ বাস্তবে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম তীব্র হলে হিন্দু–মুসলমান সম্প্রীতি জোরদার হবে, স্বদেশকে স্বাধীন করার জন্য প্রাণবলি দেবে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ, এর ফলে ‘হিন্দু জাতীয়তা’র নির্যাস নিঃশেষ হয়ে যাবে৷ তাই গোলওয়ালকরের কাছে ব্রিটিশবিরোধী হওয়া যথার্থ দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদীর লক্ষণ নয়৷ সাধারণ বিপদ ব্রিটিশ শোষকদের বিরুদ্ধে হিন্দু–মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম তাই ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’–এর চোখে প্রতিক্রিয়াশীল৷ তাই বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন সহ গোটা স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছিল আরএসএস৷
মুসলিম লিগের ভূমিকা
বাংলায় মুসলিম লিগ ও ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই মুসলিম লিগের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা ব্যাপক ভাবে মাথাচাড়া দিতে থাকে৷ স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল স্রোতে যুক্ত করার পরিবর্তে লিগের রাজনীতি বড় অংশের মুসলিমদের সেই স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে৷ ১৯৩৯–এ প্রাদেশিক সরকারগুলি থেকে কংগ্রেসের পদত্যাগকে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশের সহায়তায় সেগুলির দখল নেয় লিগ এবং তার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে আরও পাকাপোক্ত করে তোলে৷ এ বছরই জিন্না পাকিস্তান গঠনের প্রস্তাব আনতে চেষ্টা করেন৷ কংগ্রেস নেতৃত্ব থেকে কোনও শক্তিশালী আন্দোলনের ডাক না দেওয়ায় সাম্প্রদায়িক অনৈক্য বাড়তে থাকে, যা দেখে সুভাষচন্ত্র প্রচণ্ড উদ্বিগ্ণ হয়ে পড়েন৷ তিনি মুসলিম লিগ নেতা মহম্মদ আলি জিন্না এবং হিন্দু মহাসভার নেতা সাভারকরের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান৷ কিন্তু সে আহ্বানে কোনও সাড়া মেলে না৷ ১৯৪০–এ লিগের লাহোর অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব পুরোপুরি বর্জন করে ব্রিটিশের সঙ্গে সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান পাওয়াই জিন্নার একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে৷ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করতে ব্রিটিশ সরকারও লিগকে নানা ভাবে সহায়তা করতে থাকে এবং পাকিস্তান প্রশ্ণে আশ্বস্ত করে৷
লিগের দিল্লি অধিবেশনে (১৯৪৩) জিন্না ঘোষণা করেন, লিগ ব্রিটিশের সঙ্গে এখন কোনও সংঘর্ষে যাবে না৷ স্বাভাবিক ভাবেই লিগ ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছিল৷ বাস্তবে ব্রিটিশ বিরোধিতার প্রশ্ণে হিন্দু মহাসভা এবং মুসলিম লিগের মধ্যে অদ্ভুত মিল লক্ষ করা যায়৷
সিপিআই–এর ভূমিকা
‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন তথা আগস্ট অভ্যুত্থানের সময়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিআইয়ের ভূমিকা কী ছিল? বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে সিপিআইয়ের অবস্থান ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী৷ তখন রাশিয়া ও জার্মানি অনাক্রমণ চুক্তিতে আবদ্ধ৷ জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধে লিপ্ত৷ এই সময় সিপিআইয়ের বক্তব্য ঃ ‘এ যুদ্ধ আমাদের যুদ্ধ নয়– এ হল সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ৷’ ১৯৪১–এর ২২ জুন জার্মানি রাশিয়া আক্রমণ করে৷ এর পরও বেশ কিছু দিন সিপিআইয়ের বক্তব্য অপরিবর্তিত থাকে৷ ১৯৪১–এর জুলাইয়ে সিপিআইয়ের পলিটবুরো প্রকাশিত এক ইস্তাহারে বলা হয়, ‘ব্রিটিশ সরকার ও তাদের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের মনোভাব আগে যেমন ছিল, তেমনই আছে’ (ভারতে কমুনিজম, অমলেন্দু ঘোষ)৷ এর পরই সিপিআইয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়৷ নেতারা সিদ্ধান্তে আসেন, যুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্যতম ব্রিটেনকে সহযোগিতা করলেই রাশিয়াকে সহযোগিতা করা যাবে এবং সাথে সাথে তাদের যুদ্ধ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ঠিক বিপরীত মেরুতে পৌঁছে যায়৷ ‘সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ’ ‘জনযুদ্ধ’তে পরিণত হয়ে যায়৷ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতার কর্মসূচি পরিবর্তিত হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতায় পরিণত হয়ে যায়৷ বাস্তবে দলটি যদি যথার্থ কমিউনিস্ট পার্টি হত, নেতাদের যদি নিজস্ব মার্ক্সবাদী বিশ্লেষণী ক্ষমতা থাকত, তবে নিজেরা পরিস্থিতির বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন৷
ব্রিটিশকে সিপিআইয়ের সহযোগিতা
১৯৪২ সালের ২৩ এপ্রিল সিপিআইয়ের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে একটি গোপন স্মারকলিপি এন এফ যোশী, হিন্দু মহাসভার নেতা এম এস অ্যানে এবং মারাঠি লেখক এস ওয়াই দেশপাণ্ডের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল৷ এই স্মারকলিপি কেন্দ্রীয় সরকারের মহাফেজখানায় রক্ষিত আছে৷ সেই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সবরকম ভাবে সহযোগিতা করতে ভারতীয় কমিউনিস্টরা প্রস্তুত৷ … আমরা এই যুদ্ধকে আমাদের যুদ্ধ মনে করি৷ তাই উৎপাদনের চাকাকে কিছুতেই থামতে দেব না, … ধর্মঘট কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার নীতি যতটা সাধ্য রূপ দেব৷ … বরং আমাদের কমরেডদের মুক্তি ও ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে স্বীকৃতি দিলে আমরা উৎপাদনের গতি বাড়ানোর স্কিম নেব’ (অরুণ শৌরির নিবন্ধ, দি ইলাস্ট্রেটেড উইকলি, ১৮–২৪ মার্চ, ১৯৮৪)৷
এর পর সিপিআই সাধারণ সম্পাদক পি সি যোশী ১৯৪২–এর ১২ মে দিল্লিতে ইন্টেলিজেন্স বুরোর সিনিয়র অফিসার জি আমেদ এবং ১৪ মে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব রেজিন্যাল্ড ম্যাক্সওয়েলের সাথে দেখা করে আলোচনা করেন৷ এর পর থেকে যোশী ও ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে চিঠিপত্রের আদান–প্রদান ও আলাপ–আলোচনা চলতে থাকে৷ ১৯৪২–এর ২৩ জুলাই কমিউনিস্ট পার্টি ও তার সংগঠনগুলির ওপর থেকে ব্রিটিশ সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়৷ নেতারা ক্রমেই ছাড়া পেতে থাকেন৷ তাঁদের পত্রিকা বেশি ছাপার জন্য বিশেষ কনসেশনে পর্যাপ্ত কাগজ পাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যায়৷
সিপিআইয়ের ব্রিটিশ সহযোগিতা সোভিয়েত নির্দেশে নয়
যুদ্ধের পরে সিপিআই নেতারা যখন স্ট্যালিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুদ্ধের সময় তাঁদের ব্রিটিশকে সমর্থন করার কথা জানান, তার উত্তরে স্ট্যালিন সিপিআই নেতাদের ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘‘আপনারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা পরিত্যাগ করে ব্রিটিশের সঙ্গে এক প্রকার সহযোগিতা করেছেন (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিবৃত্ত, রণেন সেন)৷’
এ যুগের অন্যতম মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক শিবদাস ঘোষ সিপিআইয়ের এই ভূমিকা দেখে বলেছেন, ‘১৯৪২ সালে যখন সমস্ত দেশব্যাপী সাধারণ মানুষ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ফেটে পড়েছে, সেই গোটা আন্দোলনটাকেই জাপানি সাম্রাজ্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের দালাল আন্দোলন বলে আখ্যা দিয়ে তাঁরা যে তার ঘোরতর বিরোধিতা করলেন তাই নয়, সেই জাতীয় অভ্যুত্থানের মুখে যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ লড়ছিল, তাঁরা ফ্যাসিবাদকে রোখার নামে কার্যত সেই সাম্রাজ্যবাদেরই দালালি করেছেন৷ এই কাণ্ডটির ফলে সমগ্র দেশাত্মবোধক আন্দোলনের ‘কারেন্ট’ থেকে তাঁরা যে শুধু বিচ্ছিন্ন হলেন তাই নয়, দেশের দেশাত্মবোধক মনোভাবের সামনে কমিউনিজমের আদর্শকে তাঁরা মারাত্মকভাবে হেয় করে ফেললেন’ (কেন এসইউসি আই–কমিউনিস্ট ভারতের মাটিতে একমাত্র সাম্যবাদী দল)৷
বাস্তবে কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লিগ, সিপিআই নেতারা যখন এমন কলঙ্কজনক ভূমিকা পালন করে চলেছেন তখন দেশের মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকে বরণ করার সাহস নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে৷ স্বাধীনতার আকাঙক্ষা মানুষের মধ্যে কী দুর্দমনীয় শক্তি সঞ্চার করতে পারে, এই আন্দোলন তা দেখিয়ে দিয়েছে৷ কোনও প্রস্তুতি নেই, কোনও পরিকল্পনা নেই, আন্দোলন সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই, স্বচ্ছ রাজনৈতিক চেতনা নেই, সামনে কোনও নেতা নেই, হাতে কোনও হাতিয়ার নেই– রয়েছে স্বাধীনতার তীব্র আকুতি, অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগের মানসিকতা৷ তা নিয়েই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জনতা সাম্রাজ্যবাদী শাসনকাঠামোর ভিত্তিমূলে নাড়া দিয়ে গেছে৷ সশস্ত্র সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাকে বর্বরতায় দমন করে দিতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু মুছে দিতে পারেনি তার ঐতিহাসিক শিক্ষাকে৷ সে দিন যদি একটি সত্যিকারের মার্ক্সবাদী বিপ্লবী শক্তি এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকত, দেশজোড়া আন্দোলনকারীদের সংগঠিত রূপ দিত, তবে সে দিনই হয়তো ব্রিটিশকে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত করা সম্ভব হত, সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিও জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরির সুযোগ পেত না, দেশভাগের পরিস্থিতিও তৈরি হত না৷ কিন্তু বাস্তবে যা সম্ভব হয়নি– সেই ঐক্যবদ্ধ ভারতের স্বাধীনতাই সম্ভব হত৷ বাস্তবে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ইতিহাস নিছক একটি আন্দোলনের ইতিহাস নয়, গোটা স্বাধীনতা আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলির দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকার এক বিরাট কষ্টিপাথর৷ এই কষ্টিপাথরে যাচাই করলেই এই দলগুলির চরিত্র দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়বে৷
মহান এই আন্দোলনের উৎস এবং অনুপ্রেরণা কী ছিল, তা জানতে দৃষ্টি দিতে হবে তার আগের আড়াই দশকের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে৷ সে ইতিহাস আগামীতে৷