
রাজ্যে এস আই আর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ৩৪ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে৷ এঁদের কেডই মৃত, স্থানান্তরিত বা একাধিক জায়গায় নাম আছে এমন ভোটার নন৷ এনুমারেশন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে, অ্যাডজুডিকেশন এবং ট্রাইব্যুনালের স্তর মিলে কয়েক দফায় নামগুলি বাতিল হয়েছে৷ এরা সকলেই ট্রাইবুনাল সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে আবেদন করেছেন, কিন্তু তাঁরা জানেন না কবে তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হবে৷ ইতিমধ্যে ট্রাইবুনালের ২ জন বিচারক পদত্যাগ করেছেন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে মাত্র ৩৮০০০ মতো ভোটারের বিচার নিষ্পত্তি হয়েছে৷ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ট্রাইবুনালের বিচার শেষ করে অতিদ্রুত সমস্ত নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় তোলার দাবিতে ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি ১৪ জুলাই ডাক দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের সিইও দপ্তর অভিযানের৷ শিয়ালদা ও হাওড়া থেকে মিছিল করে হাজার হাজার মানুষ রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে শামিল হন৷ এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা জানান, তাঁরা কী ভাবে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আটক শিবির ও পুশব্যাকের আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন৷ সরকারি সুবিধা, রেশন, অন্নপূর্ণা যোজনা, আবাস যোজনা, জমিজমা রেজিস্ট্রি ইত্যাদি ব্যাহত ও বন্ধ হচ্ছে৷ অনেকেই অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দলগুলি ভোট হয়ে যাওয়ার পর এই অসহায় আতঙ্কগ্রস্ত মানুষগুলির দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না৷ যদিও অনেকেই নির্বাচনের আগে বলেছিলেন ভোট শেষ হলে এক মাসের মধ্যে তাঁরা সকলের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেবেন৷ এখন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট দেখাচ্ছেন৷ সকলের পক্ষে কি বিপুল টাকা খরচ করে কোর্টে যাওয়া সম্ভব? এই অবস্থায় ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগীরা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে তৈরি করেছেন সংগ্রাম ও দাবি আদায়ের হাতিয়ার ‘ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি, পশ্চিমবঙ্গ’৷ ব্লকে ব্লকে, জেলায় জেলায় গড়ে তুলেছেন সমিতির অসংখ্য শাখা৷ জেলায় জেলায় মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ, ব্লক–এসডিও–ডিএম অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া হয়৷
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমিতির অন্যতম আহ্বায়ক পূর্বতন শিক্ষক শিশির সরকার৷ বক্তব্য রাখেন শিল্পী সাংসৃক্তিক কর্মী বুদ্ধিজীবী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী, মানবাধিকার আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা সুজাত ভদ্র, প্রাক্তন সাংসদ ও কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক ডাঃ তরুণ মণ্ডল, বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী রণেন ধাড়া, সমিতির অন্যতম সংগঠক শঙ্কর ঘোষ এবং মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস–এর রাজ্য সম্পাদক রাজকুমার বসাক৷
দেড় লক্ষাধিক ডিলিটেড ভোটারের স্বাক্ষরিত আবেদন নিয়ে ডাঃ তরুণ মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দাবিপত্র পেশ করেন৷ প্রাক্তন শিক্ষক শিশির সরকারের নেতৃত্বে আর এক প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে দাবিপত্র পেশ করে সমস্ত ডিলিটেড ভোটারের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান৷ তাঁরা বলেন, কোনও অজুহাতেই এঁদের সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না৷ দুটি ক্ষেত্রেই এই দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে৷ সভায় নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্বাক্ষর সংগ্রহ, এলাকায় এলাকায় সমিতির শাখা কমিটি গঠন ও অন্যান্য আন্দোলনের কর্মসূচি চলবেন৷ যতক্ষণ পর্যন্ত একজনও প্রকৃত নাগরিক ও ভোটার, ভোটার তালিকার বাইরে থাকবে, তত দিন পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে এই আন্দোলন চলবে ও আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে৷