
২০৬তম বিদ্যাসাগর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর ২৭ সেপ্টেম্বর বলেন,
শিক্ষামন্ত্রী বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকীতে সংস্কৃতের উপর জোর দিতে গিয়ে বলেছেন, বিদ্যাসাগরের ইংরেজিতে দখল থাকলেও সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর ইতিহাস সচেতনতা আমাদের বিস্মিত করেছে। কারণ, যে সংস্কৃত কলেজ ১৮২৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সে কাজ বিদ্যাসাগরকে করতে হলে তাঁকে ৪ বছর বয়সে করতে হত। দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন বিদ্যাসাগর ত্রিভাষা নীতির পক্ষে ছিলেন, অর্থাৎ তিনি সংস্কৃত, বাংলা ও ইংরেজির পক্ষে ছিলেন। আসলে বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজে আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনে ইংরেজি ও বাংলা ভাষা শিক্ষার উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংস্কৃত ততটুকুই শিখতে হবে যতটুকু বাংলা ভাষার বিকাশের জন্য প্রয়োজন। এমনকি তিনি সংস্কৃতে লীলাবতীর বীজগণিত বাদ দিয়ে ইংরেজিতে বীজগণিত চালু করেছিলেন, তাতে শিখতে সুবিধা হবে বলেই। তৃতীয়ত, শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রবাদী ভাবনায় বিদ্যাসাগরের চর্চা করার কথা বলেছেন। তাঁদের রাষ্ট্রবাদী ধারণা সাভারকারের ‘হিন্দুত্ব’ ভাবনার অনুসারী। অথচ বিদ্যাসাগর ১৮৫১ সালেই বলেছিলেন, সাংখ্য-বেদান্ত যে ভ্রান্ত দর্শন– এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। তাই সংস্কৃত কলেজে প্রাচ্য দর্শনের পরিবর্তে জে এস মিলের দর্শন, বীজগণিত, পলিটিকাল ইকনমি, ন্যাচারাল ফিলজফি প্রভৃতি আধুনিক বিষয় পড়ানোর কথা বলেছিলেন। ফলে রাষ্ট্রবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ্যাসাগরের চর্চার কথা বিভ্রান্তিকর।
স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যে ভাবে কর্তৃপক্ষের ফরমান উপেক্ষা করে ‘নমো সেবা’ নাটক মঞ্চস্থ করতে অস্বীকার করেছেন, তার জন্য তাঁদের অভিনন্দন।