
ফ্রিডম সংক্রান্ত বহু মনীষীর ভুরি ভুরি উদ্ধৃতি আপনার মুখস্থ থাকতে পারে, কিন্তু ফ্রিডম তত্ত্বের যথার্থ মানে ততক্ষণ আপনার বোঝাই হল না, নেসেসিটির যথার্থ উপলব্ধি ততক্ষণ আপনার হয়নি, যতক্ষণ না নেসেসিটি বলতে আপনি যেটা বুঝেছেন সেই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সংগ্রামে নিয়োজিত হচ্ছেন৷ আর এই সংগ্রাম করার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে ফ্রিডমের উপলব্ধি আপনার মধ্যে প্রস্ফূটিত এবং প্রোজ্জ্বল হতে থাকে৷ যতক্ষণ আপনি এই সংগ্রামের মধ্যে নেই, ততক্ষণ আপনার বোঝা ভাসাভাসা থাকে এবং বোঝার মধ্যে অনেক ত্রুটি থেকে যায়৷ তারপরও যদি আপনি বলেন যা যুক্তিসঙ্গত এবং যা উচিত বলে মনে করি তার জন্য আমি কাজ করতে পারি না, যা অন্যায়, দুষ্ট, আমার পক্ষে ক্ষতিকর বলে মনে করি তা আমি আঁকড়ে ধরেই থাকি, তা হলে আমি কি নিজেকে মনুষ্য পদবাচ্য র্যাশনাল বিইং (বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব) ভাবতে পারি?
আপনারা কি এই কথাটার মানে বোঝেন যে, ইউ কানট ফাইট ফর ইওর ওন ফ্রিডম উইদাউট ফাইটিং ফর দ্য ফ্রিডম অফ আদারস (অন্যের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম না করলে নিজের স্বাধীনতার জন্য আপনি লড়তে পারেন না)৷ আগেও বহু ক্লাসে এ কথা আপনাদের বলেছি–এই ফ্রিডম কথাটা বুঝতে হবে কী ভাবে? বুঝতে হবে– তুমি যদি নিজে বিকাশলাভ করতে চাও, সমাজ বিকাশের জন্য তোমার যদি উদ্বেগ এবং আকাঙক্ষা থাকে, সংসৃক্তিসম্পন্ন, রুচিসম্পন্ন, শালীনতা এবং মর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপন করতে যথার্থই যদি তুমি চাও এবং মর্যাদা সম্পর্কে তোমার যদি কোনও ভ্রান্ত ধারণা না থাকে, মর্যাদা মানে টাকাপয়সা, মর্যাদা মানে আইসিএস অফিসার হওয়া, মর্যাদা মানে হাইকোর্টের জজ হওয়া, মর্যাদা মানে মিনিস্টার হওয়া, চিফ মিনিস্টার হওয়া, মর্যাদা মানে অ্যামবাসাডার (রাষ্ট্রদূত) হওয়া এবং গাড়িবাড়ি থাকা, লোকে আমাকে স্যার স্যার বলবে, এই রকম তোমার যদি ভাবনা না থাকে, মর্যাদা কথাটার যথার্থ উপলব্ধি যদি তোমার থাকে তা হলে এ সমাজে তার একটাই মানে৷ সেটা হচ্ছে, দ্য ওনলি ওয়ে টু লিড ইওর লাইফ ইন অ্যান অনারেবল ওয়ে ইজ টু এনগেজ ইওরসেলভস কনস্ট্যান্টলি ইন দ্য স্ট্রাগল অফ দ্য মাসেস ফর জাস্টিস (মর্যাদাময় জীবন যাপনের একমাত্র রাস্তা হল জনগণের জন্য ন্যায়প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের অবিরত নিযুক্ত রাখা)৷ ইনজাস্টিসের (অন্যায়ের) বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের জনসাধারণের সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং তাকে নিয়ে লড়াহ করা এবং এই লড়াই সংগঠিত করার কাজে এবং সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করার মধ্য দিয়েই কেবল তুমি মর্যাদা এবং ডিগনিটিসম্পন্ন জীবনযাপন করতে পার৷ বাকি সমস্ত রাস্তা হল সেল্ফ ডিসেপশন (আত্মপ্রতারণা), মর্যাদার নয়– অহম মাত্র৷ কারণ এ সমাজে ওয়াগন ব্রেকারের টাকায় সম্পত্তি করলেও মর্যাদা মেলে, ফুলের মালা মেলে৷ ডাকাতি–গুন্ডামির পয়সায় টাকাকড়ি হলে তারও কদর হয়৷ তারপরে সে এমএলএ, এমপি হয়, আর তা হয় পয়সার জোরে৷ তারপরে সে মিনিস্টার হয়৷ তারপরে তিনি বাণী দিতে থাকেন৷ তা তিনি যদি এ সব ঠুনকো মর্যাদায় আত্মসন্তুষ্টি পান তা হলে ফ্রিডম নিয়ে অত মাথা ঘামাবার দরকার কী?
(‘বিপ্লবী জীবনই সর্বাপেক্ষা মর্যাদাময়’)