Breaking News

পাঠকের মতামতঃ শ্রমিকের প্রাণের দাম নেই

শ্রম, যাকে ভিত্তি করে আদিম সমাজ থেকে আধুনিক সমাজ গড়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা যে সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করি তা মানুষের বুদ্ধির এবং দৈহিক শ্রমের বিনিময়ে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু যে শ্রমিক এই সম্পদ সৃষ্টি করে ব্যক্তি মালিকানাধীন সমাজ ব্যবস্থায় সেই শ্রমিক যে শুধু যথার্থ শ্রমের মূল্য পায় না তা নয়, পাশাপাশি আজ তার কর্মক্ষেত্রে জীবনের মূল্যও নেই বললেই চলে।

প্রায় প্রতিদিন আমাদের দেশে কোথাও না কোথাও মর্মান্তিকভাবে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। কখনও বৃহৎ অট্টালিকা, জাতীয় সড়ক বা ব্রিজ তৈরি, কিংবা কলকারখানায় কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু, অথবা সম্প্রতি কলকাতার কাছে নরেন্দ্রপুরে ওয়াও মোমো কারখানায় ২৭ জন শ্রমিকের নির্মম মৃত্যু এর জ্বলন্ত নিদর্শন। ভারতে বিগত কয়েক বছরে কলকারখানায় দুর্ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, গত বছর তেলেঙ্গানা থেকে শুরু করে তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিক মৃত্যুর ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।

অপর দিকে শুধুমাত্র মালিকের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে কেন্দে্রর সরকার ২৯টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইন বাতিল করে, চারটি শ্রমকোড এনেছে। যা চূড়ান্ত ভাবে শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়টি ইতিমধ্যেই শিথিল করা হয়েছে, নিরাপত্তা বিধি থেকে যে কোনও কলকারখানাকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

আগের মতো শ্রম আধিকারিকরা যে কোনও সময়ে কোনও কলকারখানা পরিদর্শন করতে পারবেন না, কলকারখানার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ত্রুটি পাওয়া গেলেও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবেন না, ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা কাজ চালু করা, শ্রমিকদের নিজস্ব দাবি-দাওয়াকে ভিত্তি করে ইউনিয়ন করার অধিকার খর্ব করা সহ নানা শ্রমিক বিরোধী নীতি ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। যার যাঁতাকলে প্রতিদিন শ্রমিকরা মালিকের দ্বারা অত্যাচারিত ও লুণ্ঠিত হচ্ছে, জীব-জন্তুর মতো বেঘোরে প্রাণ দিচ্ছে। যারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার জয়গান করতে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মুণ্ডপাত না করে জলগ্রহণ করেন না– সেই সব বুদ্ধিজীবীরা স্বীকার করুন আর নাই করুন এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যে শ্রমিকের প্রাণের কোনও দাম নেই, তা প্রতিদিন নানা ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে।

অর্ঘ্য প্রধান, পূর্ব মেদিনীপুর