Breaking News

ডিলিটেড বৈধ ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার দাবিতে উত্তর ২৪ পরগণায় বিক্ষোভ

বারাসাত

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক মাস পার হয়ে গেল। দেশের বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা বিচারাধীন হয়ে থাকা উত্তর ২৪ পরগণার কয়েক লক্ষ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ জানতে পেরেছেন। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যে সব ভোটারদের নাম ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাতিল হয়েছিল (মৃত, অন্য জায়গায় চলে যাওয়া এবং দু’বার নাম আছে ইত্যাদি ছাড়া) তাঁদের নামের তালিকা, ২০০৩ সালের ভোটার লিস্টে যাঁদের নাম ছিল অথচ এবার নেই– তাঁদের নামের তালিকা এবং ট্রাইবুনালে ২৭ লক্ষ ভোটারের বিচারের পর যাঁরা বাদ পড়বেন, তাঁদের নামের তালিকা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে পাঠাতে হবে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিচার করে যদি মনে করে এঁরা ভারতীয় নাগরিক, তা হলে তাঁদের নাম নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে ভোটার তালিকাভুক্ত করবার নির্দেশ দেবে।

যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁরা যে এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, প্রজন্মের প্রজন্ম ধরে তাঁদের পূর্বপুরুষ এ দেশে বসবাস করেছেন, তার সমস্ত বৈধ নথিপত্র নির্বাচন কমিশন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। অথচ তার পরেও ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই আতঙ্ক তাঁদের পিছু ছাড়ছে না। কারণ, স্বরাষ্ট্র দপ্তর এইসব নথিপত্র দেখেই তো বিচার করবে! তাঁদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে তো! উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় এমন অনেক নির্বাচনী বুথ আছে যেখানে ১০০০ ভোটারের মধ্যে ৩৫০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে জেলার ব্লকে ব্লকে এই সব হতভাগ্য মানুষ সংগঠিত হন। ৪ জুন বসিরহাট মহকুমার ছ’টি ব্লক থেকে প্রায় দু’হাজার মানুষ ‘ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির’ ব্যানারে সংগঠিত হয়ে এসডিও-র কাছে ডেপুটেশন দেন। এর আগে এসডিও অফিসের সামনে এক বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন এই আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা শংকর ঘোষ। তিনি বৈধ ডিলিটেড ভোটারদের সংগঠিত হওয়ার জন্য গ্রামে গ্রামে কমিটি গঠন করে স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নাগরিকরা তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে সম্মতি জানান। বলেন, তাঁরা আরও বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলার বিশিষ্ট জননেতা অজয় বাইন এবং বিভিন্ন ব্লক থেকে আগত নেতৃবৃন্দ। অজয় বাইনের নেতৃত্বে সাত জনের এক প্রতিনিধিদল এসডিও-র হাতে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। ৮ জুন জেলা শহর বারাসাতে জেলা শাসকের দফতরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ডেপুটেশনের কর্মসূচি হয়।

বসিরহাট