
৩ জুন তীব্র গরমের মধ্যেও কোচবিহারে ফেটে পড়ল ডিলিটেড ভোটারদের বিক্ষোভ মিছিল। শুধু ভোটাধিকার নয়, সব নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার যে চেষ্টা বিজেপি সরকার চালাচ্ছে, তা ক্ষোভের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নির্মাণ এবং বাংলাদেশে পুশব্যাকের ঘটনাও।
এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর কোচবিহার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নৃপেন কার্যী বলেন, রাজ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার এমন বঞ্চিত নাগরিক রয়েছেন, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করা সত্ত্বেও ধীরগতির বিচার প্রক্রিয়ার কারণে এ বারের নির্বাচনে ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই ধীরগতির দায় তো নির্বাচন কমিশনের! সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে যে নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ট্রাইবুনালের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন ধীরগতিতে কাজ চললে খোদ কলকাতার বুকে ১ লক্ষ মানুষের ট্রাইবুনালের নিষ্পত্তি করতেই ৪ বছর লেগে যাবে। এই বিশাল সংখ্যক নাগরিকদের নামের নিষ্পত্তি করতে কয়েক দশক লেগে যাবে। কী উদ্দেশ্যে এমন ঢিলেঢালা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া? ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় অবসাদে বেশ কিছু নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন আর কত মৃত্যু দেখতে চায়? মিছিল থেকে আওয়াজ ওঠে— এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নাগরিকদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে সমস্ত বৈধ নাগরিককে ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, ট্রাইবুনাল বা অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে, ট্রাইবুনালে আপিলভুক্ত নাগরিকদের চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনও রকম নাগরিক পরিষেবা বা অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নির্মাণের ঘোষণা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
পাঁচ শতাধিক মানুষ ক্ষুদিরাম স্কোয়ারে জমায়েত হয়ে মিছিল করে এসডিও অফিসের সামনে এলে তুমুল বিক্ষোভ হয়। এরপর দলের প্রবীণ নেতা নৃপেন কার্যীর নেতৃত্বে নাজমা খন্দকার, রিনা ঘোষ ও অনিল চন্দ্র রায়-এর একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি মহকুমা শাসকের হাতে দেওয়া হয়।
এসডিও অফিসের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অসিত বরণ দে এবং নাজমা খন্দকার। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। এরপর বিক্ষোভ মিছিল কোচবিহার বড় বাজার সহ শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা পরিক্রমা করে রাজা রামমোহন স্কোয়ারে গিয়ে শেষ হয়।