Breaking News

‘বেগুসরাই একসময় বামপন্থীদের ঘাঁটি ছিল’

বিহার নির্বাচনের প্রচার চলছে, এসেছি কোরিয়া গ্রামে। যাকে একসময় বিহারের ‘মস্কো’ বলা হত। ই-রিক্সায় মাইক বেঁধে এসইউসিআই(সি)-র প্রার্থীর সমর্থনে বাজারে প্রচার চলছে। বক্তব্য রাখছেন দলের এক ছাত্র নেতা। একজন দোকানদার কাছে ডেকে বললেন, তোমরা মহাগঠবন্ধনে নেই? কমিউনিস্ট পার্টি তো মহাগঠবন্ধনে আছে!

এসইউসিআই(সি) যে বিজেপি জোটের পাল্টা পুঁজিবাদীদেরই বিকল্প জোট মহাগঠবন্ধনে নেই– এ কথা বুঝিয়ে বলা হলে তাঁর ভুরু কোঁচকানো মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় আগে কমিউনিস্টদের ঘাঁটি ছিল, কিন্তু সব কেমন শুকিয়ে গেছে। এখন তারা হয় ভাজপা করছে না হয় অন্য দল করছে। তাদের পার্টি এখন কংগ্রেস বা আরজেডি-র বিরুদ্ধে এতদিনের লড়াই ছেড়ে তাদেরই ভোট দিতে প্রচার করছে। ওরা বামপন্থাকে ভোটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তোমরা ভোটের পরে অবশ্যই এসো, আমরা বসব। নতুন করে কিছু করতে চাই’।

———–

নওলা বাজার, মাইকে ভাষণ দিচ্ছেন প্রার্থী ও আর একজন কমরেড। প্রচারপত্র বিলির সময় বামপন্থী মনোভাবের বেশ কিছু জন এগিয়ে এসে কথা বললেন। এসইউসিআই(সি) আলাদাভাবে লড়ছে– এতে তাঁদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বললেন, বামপন্থার উত্থান বড় প্রয়োজন, তোমরা বড় হও, সব জায়গায় যাও। আর ভোটের পরে কিন্তু অবশ্যই এসো।

———–

বেগুসরাই জেলা আদালত চত্বরে প্রায় তিন দিন ধরে প্রচার চলছিল। দলের প্রচারপত্র এবং একটি নমুনা ব্যালট বিলি করছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। অনেকেই খুব আগ্রহ সহকারে নিচ্ছেন। ‘মুন্সি’ কোর্টের কিছু কর্মচারী ও আইনজীবীকে দেখা যায় বেগুসরাই স্টেশনে অনেকের মধ্যে জোরে জোরে প্রচারপত্রটি পড়ছেন। প্রচারপত্রটি হাতবদল হতে থাকে, ট্রেনে ফেরার পথে অনেকেই পড়েন। পরের দিন কোর্টে এসে এক আইনজীবী এসইউসিআই(সি)-র স্থানীয় নেতার কাছ থেকে প্রচারপত্র সংগ্রহ করে বলেন, ‘এটি সকলের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। এখানে অনেক তথ্য আছে। ভোট মানে তো শুধু জাত-ধর্ম আর টাকা-পয়সার লেনদেন নয়, আপনারা এটা আরও বেশি করে ছাপিয়ে সকলের কাছে পৌঁছে দিন।’

ওই কোর্ট চত্বরেই এক চায়ের দোকানে বসে এক বর্ষীয়ান আইনজীবী বললেন, আপনাদের ওই ফোষ্প্ররটি পড়েই জানতে পারলাম যে ভাগলপুরে পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য আদানিকে ১০৫০ একর জমি দিচ্ছে মাত্র প্রতি একর ১ টাকা দরে, সেই জমিতে ১০ লক্ষ আম গাছ আছে। এগুলি ধ্বংস হলে পরিবেশ ও বাস্তুতন্তে্রর বড় ক্ষতি হবে। আপনাদের লেখা পুরোটা পড়েছি। এমন বিষয় জোরালো ভাবে ওঠা উচিত।

———–

ওই আদালত চত্বরেই ডেকে নিলেন দু’জন প্রবীণ। ‘এই বেগুসরাইতে এক সময় কমিউনিজমের জোয়ার ছিল, হাজার হাজার মানুষ কমিউনিজমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কিন্তু আজ তারা কোথায়? তারা তাদের চিন্তাগুলো আজকে বিকিয়ে দিয়েছে। নেতারা নিজেদের স্বার্থ গুছিয়ে নিয়েছেন। দল বদল করেছেন, আদর্শ বদল করেছেন’! তাঁর চোখ দুটো যেন চকচক করতে থাকে। ‘–আপ তো সচ্চে কমিউনিস্ট হ্যাঁয়, পার্টি প্রচারকে লিয়ে ইতনা মেহনত করতা হ্যাঁয়।’ তাঁর কথার মধ্যে এতটাই আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল যা দলের কর্মীদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়েছিল। আন্দোলিত করেছিল বিবেককে।