
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বাইশহাটা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের মদতে নজিরবিহীন চুরি, দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর বাইশহাটা লোকাল কমিটির উদ্যোগে ২৪ জুন পঞ্চায়েতে গণডেপুটেশন দেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন দলের বারুইপুর জেলা সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদক কমরেড নিরঞ্জন নস্কর। তিনি বলেন, চুরি-দুর্নীতিতে ডুবে যাওয়া তৃণমূলের নেতারা আজ মানুষের রোষের ভয়ে গর্তে লুকিয়ে পড়েছে। অথচ ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা বাইশহাটায় গুন্ডামি ও দখলদারির রাজত্ব কায়েম করেছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পঞ্চায়েত জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। তিনি ট্রাইবুনালে নথিভুক্ত সমস্ত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে এবং স্মার্ট মিটার চালুর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন।
এ দিন তথ্যের অধিকার আইন অনুযায়ী পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, পথশ্রী প্রকল্পে কোথায় কী কাজ হয়েছে ও কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, ‘দিদিকে বলো’ প্রকল্পে ঘরপ্রাপকদের তালিকা-সহ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।
প্রথমে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। পরে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ ও পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাওয়ের ফলে কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এর পর দলের বাইশহাটা লোকাল কমিটির অন্যতম সংগঠক আমির আলি ঘরামি, প্রাক্তন প্রধান আব্দুর রসিদ ঘরামি, পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তাহের আলি মোল্লা-সহ পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল প্রধানের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। বৈঠকে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক কাজের অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় চাওয়া তথ্য ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড গৌরহরি মিস্ত্রি। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নন্দ কুণ্ডু, জেলা কমিটির সদস্য কমরেড সালামত মোল্লা সহ অন্যরা।