
হকার এবং বস্তি উচ্ছেদ চলছে রাজ্য জুড়ে। বিভিন্ন রেল স্টেশনে যাঁরা ছোটখাটো দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁদের অনেকেই উচ্ছেদ হয়েছেন, অনেকেই বিরাট উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নিয়ে জীবিকা অবসানের দিন গুনছেন। উচ্ছেদ হওয়া গরিব বস্তিবাসীরা এই বর্ষাতে মাথার ছাদ হারিয়ে পুরো সংসার সম্পত্তি নিয়ে ছোটদের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছেন। উপযুক্ত পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদ কেবল অমানবিক নয়, এ হল সংবিধানের জীবন-জীবিকা রক্ষার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। ট্রেনের মধ্যে যারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে হকারি করেন তাঁদেরও রেহাই নেই। ট্রেনের ভিতর হকারি বন্ধ হওয়ার ধমকি তো আছেই, তার উপর তাঁরা প্রতিনিয়ত রেল কর্তৃপক্ষের নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ২৮ জুন কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন ঝালমুড়ি বিক্রেতা কার্ত্তিক সাউ। রেল তাঁকে ১৪০০ টাকা জরিমানা করেছিল কয়েকদিন আগে। ছিল ব্যবসা বন্ধের আতঙ্ক। সব মিলিয়ে আত্মহত্যাকেই তিনি পরিত্রাণের পথ হিসাবে বেছে নিয়েছেন।
এই মৃত্যুর জন্য সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে না কেন? যাদের ভূমিকার জন্য এই মৃত্যু তাদের সাজা কে দেবে? দারিদ্রের কারণেই তো এই হকারের কাজ করতে গরিব মানুষ বাধ্য হন। যারা তাঁদের এই অবস্থার জন্য দায়ী, যারা তাঁদের এ হেন দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে বা যারা তাঁদের এই বৃত্তিতে এভাবে নামতে বাধ্য করেছে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন?
গৌরীশঙ্কর দাস, সাঁজোয়াল, খড়গপুর