
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্তমান রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বৃদ্ধি এবং মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবকদের ভাতা দেওয়া নিয়ে চতুর্দিকে পক্ষ-বিপক্ষ মতের একটা শোরগোল চলছে। সরকারের দেউলিয়া আর্থিক পরিস্থিতির কথা তুলে এর সমালোচনা করেও বিজেপি ও সিপিএম বলেছে যে তারা ক্ষমতায় এলে কোনও প্রকল্পকেই বন্ধ করবে না। কেবল এগুলির অনুদানকে দ্বিগুণ করবে।
একটা জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সরকার ভাতা-অনুদান-ভর্তুকি দিতে বাধ্য থাকে কেন? কারণ দেশে-রাজ্যে যখন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ থাকে না, কর্মসংস্থান থাকে না, সাধারণ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে থাকে, কিংবা বন্যা-ভূমিকম্প-খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে মৃত্যু এবং ফসল নষ্ট হয়, সরকার তখন অনুদান-ভর্তুকি দিয়ে থাকে। আর এই ধরনের অনুদান-ভর্তুকি উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল সকল দেশ নির্বিশেষেই দেওয়া হয়।
কিন্তু ঘটনা হল বেকার যুবকরা যখন বাঁচার মতো উপযুক্ত ভাতার দাবি রাখে, ছাত্ররা শিক্ষায় ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বলে, রোগীরা স্বাস্থ্য খাতে এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোয় বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলেন, কৃষকেরা ফসলের সহায়ক মূল্যের এবং ঋণ মকুবের দাবি তোলেন, শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির দাবি করেন তখন কিন্তু এই তথাকথিত জনকল্যাণমূলক সরকার এই ধরনের দাবির প্রতি কোনও কর্ণপাত না করে উল্টে বিরুদ্ধাচরণ করে পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করে, প্রয়োজনে গুলিও চালায়। ফলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, সরকারের এই সামান্য ভাতা-অনুদানে জনগণের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার সামর্থ্য হয় না।
আর এখানেই প্রশ্ন হল, রাজ্যে তৃণমূল সরকার মানুষের অধিকারের পাওনা কেড়ে নিয়ে কেবলমাত্র তাচ্ছিল্য আকারে ভিক্ষাসম ভাতা দিয়ে মানুষের কতটুকু উপকার করছে? তবে এই ভাতাকে কেন্দ্র করে আবার কেউ কেউ বলতে শুরু করেছেন সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ডিএ নাকি একপ্রকার ভাতা, তাছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, বোনাস ইত্যাদিও তো একপ্রকার অনুদানের সমান। কিন্তু সরকার এক দিকে সাধারণ মানুষদের বিক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং অন্য দিকে ভোটে জয়ী হতে কখনও কখনও সামান্য কিছু দান-খয়রাত করে। আর শ্রমিক-কর্মচারীদের মূল বেতন ছাড়াও ডিএ, পিএফ, গ্র্যাচুইটি, বোনাস– এগুলি হল বহু রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার।
আসল কথা হল জনগণকে মৌলিক অধিকার সহ বিভিন্ন দাবিতে যেমন সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে পাশাপাশি অধিকারগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বেতনের সমপরিমাণ বেকার ভাতা চালু করতে, শিক্ষা ও স্বাস্থে্য প্রয়োজনীয় অনুদান দিতে, কৃষিঋণ মকুব করতে, চাষের সার-বীজ- কীটনাশক সহ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিমাণে ভর্তুকি প্রদান করতে বাধ্য করার চেষ্টা জারি রাখতে হবে।
উৎপল দত্ত, পূর্ব বর্ধমান