Breaking News

৬ বছরে ৪০০ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধি মাত্র পাঁচটি পরিবারের

মোদি রাজত্ব ধনী-দরিদ্রে ফারাককে সীমাহীন করে তুলেছে। হাতে গোনা কিছু অতি ধনীর হাতে কল্পনাতীত পরিমাণ সম্পদ জমা হয়েছে। এমন তথ্যই উঠে এল সেন্টার ফর ফিনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটির পক্ষ থেকে ১ এপ্রিল প্রকাশিত ‘ওয়েলথ ট্র্যাকার ইন্ডিয়া ২০২৬’ রিপোর্টে।

এই তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ধনী পাঁচ জনের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। যে পাঁচ জন অতি ধনীর কথা বলা হয়েছে তাঁরা হলেন, মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি ও তাঁর পরিবার, সাবিত্রী জিন্দল ও পরিবার, সুনীল মিত্তল ও পরিবার এবং শিব নাদার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের সম্পদে নিম্নবিত্ত ৫০ শতাংশের অংশীদারিত্ব ৬.৪ শতাংশেই আটকে রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে অর্থনৈতিক বৈষম্য এতটাই বেড়েছে যে, তা কদর্য আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের ধারণার মধ্যেই আর নেই বিষয়টি। ১৪০ কোটির জনসংখ্যার দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৬৮৮ জনের প্রত্যেকের সম্পত্তির পরিমাণ ১০০০ কোটি বা তার বেশি। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১৬৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ভারতের জিডিপি-র প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মুকেশ আম্বানির সম্পদ বেড়েছে ১৫৩ শতাংশ, গৌতম আদানির ৬২৫ শতাংশ।

কী ভাবে সম্ভব হল এই বিপুল সম্পদবৃদ্ধি? বিজেপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে এক দিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের উপর সীমাহীন শোষণ, অন্য দিকে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জাতীয় সম্পত্তির অবাধ লুঠের ফল এই সম্পদবৃদ্ধি। তার সঙ্গে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে বিপুল পরমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা। গত ১১ বছরে বিজেপি সরকার এই সব ধনকুবেরদের ১৯.৬ লক্ষ কোটি টাকা মকুব করে দিয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় রাষ্ট্রকে আসলে চালায় ধনকুবেররাই। তাদের স্বার্থরক্ষায় যেমন প্রয়োজন শাসক দলগুলি তেমনই আইন তৈরি করে। শ্রমিক শোষণের অবাধ ছাড়পত্র হিসাবে নয়া শ্রমকোড তারই উদাহরণ– যা শুধু বিজেপি সরকারই নয়, তৃণমূল, সিপিএমের মতো নানা রাজ্যের সরকারগুলিও কার্যকর করছে। বিনিময়ে শাসক দলগুলিকে সরকারি ক্ষমতায় বসানোর জন্য টাকা, প্রচার সহ সব সহায়তা দিয়ে সাহায্য করে পুঁজিপতিরা আর ৯৯ শতাংশ জনগণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করে। আর তারা যাতে এই শোষণ-লুণ্ঠনের চরিত্রটি ধরতে না পারে, তার জন্য তাদের অশিক্ষা, কুসংস্কারের অন্ধকারে ফেলে রাখা হয়, ধর্ম-বর্ণ-জাতের শত বিভেদে বিভক্ত করে রাখা হয়।

এই হল বিজেপির ‘বিকাশ পুরুষ’ মোদিজির নেতৃত্বে দেশের পুঁজিপতিদের বিকাশ। বিজেপি-কংগ্রেস-তৃণমূলের মতো দলগুলো এই রকম ‘বিকাশক্স করার জন্যই ভোটের সময় এই ধনকুবেরদের আশীর্বাদ পেতে নিজেদের মধ্যে লড়াই করে। মানুষকে বুঝতে হবে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার নিয়মেই এই বৈষম্য। ভোটে সরকার বদলে এ রোগ সারাতে পারবে না।