
কলকাতাঃ এন্টালি কেন্দ্রের এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) প্রার্থী হিসেবে এ বারের ভোটে লড়ছেন শামস মুসাফির। পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য, প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ। বাঁকুড়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই চিকিৎসক সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা খুব ভাল করেই বোঝেন, আর তাই নিজের পেশাকে তিনি ব্যবহার করছেন জনসেবার হাতিয়ার হিসেবে।
সাম্প্রতিক আরজি কর আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন শামস। রাতদখল কর্মসূচি থেকে শুরু করে টানা আন্দোলনের সূত্রে এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। তবে তাঁর এই পরিচিতি শুধু আন্দোলনের ময়দানেই আটকে নেই। এন্টালির বস্তি এলাকাগুলিতে একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে। ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, ডায়রিয়া থেকে শুরু করে নানা রকম চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময়ে তিনি ও তাঁর দলের কর্মীরা প্রান্তিক এলাকাগুলিতে নিয়মিত বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেন। গরিব খেটে-খাওয়া মানুষদের স্বাস্থ্যের খোঁজ অন্য রাজনৈতিক দলগুলি না রাখলেও এই ধারাবাহিক কাজ তাঁকে ভোটারদের কাছে এক ভরসার জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলেই দাবি শামসের। আর সেই পরিচিতি ভোটের ময়দানেও তাঁকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছে দল। শামস বলছেন, ‘এলাকার বহু মানুষ আরজি কর আন্দোলনের কারণে হোক বা মেডিক্যাল ক্যাম্প– আমাকে চেনেন।’
ভোটের প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেসরকারিকরণের তীব্র বিরোধিতা করছেন। শাসকদল তৃণমূলের ইস্তেহারে থাকা ‘দুয়ারে চিকিৎসা’র প্রতিশ্রুতিরও কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, সরকারি চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নয়ন না করে এবং নিয়মিত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ না করে শুধুমাত্র কিছু ট্রেনি ডাক্তার দিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চিকিৎসা করানোর কথা বলাটা আসলে এক বিরাট ভাঁওতা। শামস স্পষ্ট ভাষায় ভোটারদের বোঝাচ্ছেন, স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারতের মতো স্বাস্থ্যবিমা নির্ভর প্রকল্পগুলি আসলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে তিল তিল করে ধবংস করে কর্পোরেট হাসপাতালগুলিকে মুনাফা লোটার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তাই দুয়ারে চিকিৎসা সমাধান নয়, বরং সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির হাল ফেরাতে যেন মানুষ তাঁকে বেছে নেন। শামসের স্পষ্ট বার্তা, সাময়িক প্রলেপ বা চমক নয়, সরকার যদি সত্যিই গরিব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চায়, তবে বর্তমান ত্রিস্তরীয় সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকেই আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে হবে।
ভোটের আবহে লড়াকু চিকিৎসক হিসেবে তিনি মানুষকে নিখরচায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বাঁচানোর লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে পার্টির কমিউনেই সংসার তাঁর। ফলে ভোটের আবহে সন্তানকে সময় দিতে না-পারা দম্পতি মেয়ের জন্যে চিন্তিত নন। কারণ মেয়েকে দেখার জন্যে পার্টিকর্মীরাই আছেন! (এই সময়। ১২ এপ্রিল, ২০২৬)