
‘… না না, এ সরকার গরিবের নয়, বড়লোকের। স্টেশনগুলো একেবারে ফাঁকা করে দিয়েছে। আমরা প্রতিদিন কাজে যাই, ছ’টাকা দিয়ে চা পাই, ২০-২৫ টাকায় ভালো খাবার পাই। এখন আর কী পাব! ওরা তো বড় বড় দোকান করে দেবে, যেখানে ২০ টাকায় চা খেতে হবে, অনেক দাম দিয়ে টিফিন খেতে হবে’। বাজারে নিজের দুধ-ছানার দোকানে বসে গণদাবীর প্রথম পাতায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রতিবেদনে চোখ বুলিয়ে যেন দপ করে জ্বলে উঠলেন মহাদেব বাবু।
কেমন কারবার চলছে– জানতে চাইতেই মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন– ‘না না, এ কারবারটা আর থাকবে না। খাটালে দুধ পাওয়া যাচ্ছে না, গরু-মোষ বিক্রি হয়নি বলে আর কেউই নতুন গরু-মোষ তুলছে না। খাটালের ছেলেদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না, চারদিকে দেনা, গরুর খাবারের দোকানে দেনা, আর নতুন করে বাকিতে গো-খাদ্য দিতে চাইছে না।’
দেখলাম চোখ ছল ছল করছে। – ‘ওরা মুসলিমদের জব্দ করতে গেল, এ দিকে আমরাই শেষ হয়ে গেলাম। শুনছি ওদের বন্ধু, যারা ভোটের ফান্ডে কোটি কোটি টাকা জোগায়, তারা দুধের কারবার করবে, গরুর মাংস বিদেশে পাঠাবে। কবে নাকি দুধের বড় কারখানা উদ্বোধন করতে দিল্লি থেকে সব বাবুরা আসবে’।
এ বার সরাসরি চোখে চোখ রাখলেন মহাদেব বাবু। বললেন, ‘এ বারও অত্যাচার অনাচারের ঠেলায় ভোট দিয়েছিলাম যাদের, আজ তারা আমাদের পেটে লাথি মারছে। তুমি আজও হাসিমুখে সামনে দাঁড়িয়ে বলো কেমন আছি! আর আমি এমন অবুঝ, ভোটের সময় কত কিছু দেখে সব যেন গুলিয়ে যায়! না দাদা এ বার তোমাকে ভোট দেওয়া হয়নি’।
মাথাটা নিচু করে ক্ষীণ গলায় বলতে লাগলেন– ‘এক মাসের মধ্যে এরা লক্ষ লক্ষ হকারকে কর্মহীন করল, অসংখ্য অসহায় বস্তিবাসীকে ঘরছাড়া করল, খাটালওয়ালা আর আমাদের মতো দুধ-ছানার কারবার করে যারা বেঁচে আছি, সর্বনাশ করল তাদের। এই মাত্র এক মাস আগেই তো ভোট দিয়ে জেতালাম এদের! ছিঃ ছিঃ ছিঃ! কী ভুলটাই না করেছি!
বাসুদেব কাবড়ী
বাওয়ালী, নোদাখালি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা