
শুধু কোচবিহার জেলা থেকেই ২ লক্ষাধিক বৈধ নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে ১ এপ্রিল উত্তাল হয়ে উঠল জেলা শহর। ‘ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চে’র আহ্বানে এ দিন পাঁচ শতাধিক মানুষের এক বিশাল মিছিল রাস মেলা মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। মিছিলটি কাছারি মোড়ে পৌঁছালে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদানে তা এক বিশাল রূপ নেয়।
ক্ষোভের সাথে নাগরিকরা বলেন, বছরের পর বছর ভোট দিয়ে এসেছি। কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই ‘সন্দেহভাজন’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ আপিল করার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা বা SOP (Standard Operating Procedure) প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি এসডিও অফিসগুলিতে আবেদন গ্রহণ নিয়ে চরম অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
জেলাশাসকের সাথে ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের পাঁচ জনের একটি প্রতিনিধি দল দীর্ঘ আলোচনা করেন। আলোচনায় জেলাশাসক প্রতিনিধিদের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন এবং বলেন, বিডিও, এসডিও এবং ডিএম অফিসে ছুটির দিন সহ প্রতিদিন আপিলের আবেদন জমা নেওয়া হবে। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে কর্তৃপক্ষ সিল ও স্বাক্ষর সহ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (অ্যাকনলেজমেন্ট) দিতে বাধ্য থাকবে। কোথাও সমস্যা হলে ওনাকে জানাতে বলেছেন। ট্রাইবুনাল ও এসওপি সংক্রান্ত ধোঁয়াশা কাটাতে জেলাশাসক নির্বাচন কমিশন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। মঞ্চের পক্ষ থেকে জেলাশাসককে জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা আপিল ফর্ম ফিলাপকে কেন্দ্র করে জেলায় চরম কালোবাজারি চলছে। ১০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং সাইবার ক্যাফেগুলিতে ফর্ম ফিল আপের নামে ৩০০-৪০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এফিডেভিটের জন্য ১৫০০-২০০০ টাকাও নেওয়া হচ্ছে কোথাও কোথাও।
জেলাশাসক এই বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। মঞ্চের দাবি, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০-এর ২১(৩) ধারা মেনে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার নিরিখেই নির্বাচন করতে হবে। ভোটার ডিলিট করার সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ভোটারকে জানানোর দাবি তোলে মঞ্চ দ্রুত ট্রাইবুনালের স্বচ্ছ SOP প্রকাশ করা এবং ব্লক স্তরে ট্রাইবুনালের ব্যবস্থা করা, ফিল্ড ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, আপিলের সময়সীমা বৃদ্ধি প্রভৃতি দাবি জানানো হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক দিলীপচন্দ্র বর্মন, জাকির হোসেন, আসিফ আলমরা জানান, প্রশাসন কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাদের লড়াই থামবে না।