
বৈধ ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, শুনানিতে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও ৬১ লক্ষ ভোটারকে বিচারাধীন রেখে দেওয়ার বিরুদ্ধে রাজ্যের সর্বত্র প্রশাসনিক দপ্তরে বিক্ষোভ দেখানো হয় দলের পক্ষ থেকে। দাবি জানানো হয়, নির্বাচনের আগেই সব বৈধ ভোটারের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
কোচবিহারঃ ১২ মার্চ কোচবিহার জেলা জুড়ে প্রবল বিক্ষোভ দেখাল এস ইউ সি আই (সি)। দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থকদের মিছিল কাছারি মোড় হয়ে জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে এগোলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা ডিএম চত্বরে ঢুকে পড়েন।

শুধুমাত্র কোচবিহার জেলাতেই ২,৩৮,১০৭ জন ভোটার বিচারাধীন এবং ৮,৪২৬ জন ভোটারের নাম বাতিল করা হয়েছে। এইভাবে নাগরিকদের হয়রানির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল ও ডিএম ডেপুটেশনে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য অসিত দে, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাজমা খন্দকার, রিনা ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অসিত দে-র নেতৃত্বে ৫ জনের প্রতিনিধি দল অতিরিক্ত জেলাশাসকের সাথে দীর্ঘ আলোচনায় দাবি জানান, মহিলা, সংখ্যালঘু, রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের লক্ষ্য করে নাম বাদ দেওয়ার হীন চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। কাগজের দোহাই বন্ধ করে, নথি না থাকলেও সশরীরে উপস্থিতির (ফিল্ড ভেরিফিকেশন) ভিত্তিতে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বহু ভোটার জানেনই না যে তাদের নাম বাদ গেছে বা বিচারাধীন রয়েছে। এমনকি ডিলিট হওয়া ভোটাররা নতুন করে আবেদনও করতে পারছেন না। অবিলম্বে বিএলও-দের মাধ্যমে এই ভোটারদের জানাতে হবে এবং তাদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে আতঙ্কে যারা আত্মঘাতী হয়েছেন বা অকালমৃত্যু বরণ করেছেন, তার দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।

নদিয়াঃ ৯ মার্চ নদিয়া জেলাশাসক দপ্তরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। নদিয়া উত্তর জেলা কমিটির সম্পাদক হররোজ আলির নেতৃত্বে পাঁচজনের প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের প্রতিনিধির কাছে দাবিপত্র দেন। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন দলের জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ চৌধুরী, সেলিম মল্লিক, সাইদুল ইসলাম, বিমান কর্মকার প্রমুখ।
কলকাতাঃ জেলার অসংখ্য বাজার, রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ ও পথসভা হয়। সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন।