
আসামে বিজেপি সরকার লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ব্যাপক ভাবে বাদ দেওয়ার জন্য একটি দুষ্টচক্র কাজ করে চলেছে।
এসইউসিআই(সি)-র আসাম রাজ্য কমিটি ২২ জানুয়ারি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এক প্রতিবাদপত্রে জানিয়েছে, নানা সময় জমি থেকে উৎখাত হওয়া মানুষ, উদ্বাস্তু, বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভারতীয় নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিতে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করা হচ্ছে।
শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া দরিদ্র দুঃস্থ মানুষের অনেকেই নানা কারণে ঠিকানা বার বার পাল্টাতে বাধ্য হয়। তা সত্ত্বেও এই অজুহাতে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে একজনের কাছ থেকেই শত শত মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত বা এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা না করে অতি অল্প সময়ে শুনানিতে ডেকে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এমনকি অভিযোগকারী শুনানির সময় উপস্থিত না থাকলেও তার অভিযোগকেই সত্য ধরে প্রমাণের দায় চাপানো হচ্ছে অভিযুক্তের উপর, যা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধী। এ ভাবে বিপুল সংখ্যক নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে। এমনও দেখা গেছে, অভিযোগকারী হিসাবে যাঁর সই আছে তিনি কিছুই জানতে পারছেন না। শাসক দলের চক্রান্তকারীরা নিজেরাই ভুয়ো অভিযোগ দাখিল করে চলেছে। এর উপর নথি জমা করার কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে উপস্থিত ব্যক্তিকেও অনুপস্থিত দেখিয়ে দিচ্ছে তারা। এ ছাড়া অতি অল্প সময়ে হাজার হাজার মানুষকে শুনানিতে ডাকার ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে সুষ্ঠুভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এসইউসিআই(সি) দাবি জানিয়েছে, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় রাখার বিষয়টি সরকারকেই সুনিশ্চিত করতে হবে। একজনের কাছ থেকে নাম বাদ দেওয়ার ৭ নং ফর্ম একটিই গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত ফিল্ড স্টাডি ও প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে শুনানির মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে সেই ফর্ম গ্রহণ করা যাবে না। ভিত্তিহীন অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সারা রাজ্যে একই ধরনের নথি গ্রহণ করতে হবে, প্রশাসনের ইচ্ছামতো যেমন খুশি নথি চাওয়া চলবে না। অভিযোগ গ্রহণ বা বর্জন করার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। কারও নাম বাদ দেওয়ার আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সময় দিতে সময়সীমা বাড়াতে হবে। কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।