Breaking News

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শ্রমিক-কর্মচারী বিরোধী নীতির প্রতিবাদে ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে শিল্প ধর্মঘট

১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধর্মঘট এবং ভারতের অন্যান্য রাজ্যে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এআইইউটিইউসি সহ ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন এবং কর্মচারীদের অন্যান্য সর্বভারতীয় ফেডারেশন। পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় সাধারণ ধর্মঘটের পরিবর্তে শিল্প ধর্মঘট হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীদের কেন এত প্রতিবাদ? কারণ ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে যে ৪টি শ্রমকোডকে আইনে পরিণত করা হয়েছে তা চালু হলে শ্রমিকদের অধিকার বলে বিশেষ কিছু থাকবে না। নিযুক্ত শ্রমিককে মালিকের ইচ্ছামতো ছাঁটাই করা, ক্লোজার, লে-অফ, লকআউট প্রবল গতিতে বাড়বে। বেকার যুবশক্তির সঙ্গে ছাঁটাই শ্রমশক্তি যুক্ত হয়ে বেকারত্বকে বিস্ফোরণের কিনারায় নিয়ে যাবে। ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টার কর্মদিবসের সুপারিশ করা হয়েছে। এই আইন চালু হলে বাস্তবে স্থায়ী কাজ কিছু থাকবে না। সবটাই হবে অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক– হায়ার অ্যান্ড ফায়ার নীতিতে, আশা-অঙ্গনওয়াড়ি পৌর স্বাস্থ্যকর্মী সহ প্রকল্প শ্রমিকদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতিটুকু দিচ্ছে না কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। ফলে আইন মোতাবেক বেতন দেওয়ার কোনও ব্যবস্থাই নেই। রেল-ব্যাঙ্ক-বিমা-বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা, কয়লা, তেল, গ্যাস, স্টিল, টেলিকম, বিমান, বন্দর– সর্বত্রই চলছে বেসরকারিকরণ। চলছে বিপুল হারে পদবিলুপ্তি। সরকার দেশের মালিক শ্রেণির স্বার্থে এ ভাবেই শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থকে দু’পায়ে মাড়িয়ে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই সর্বনাশা নীতি কার্যকর করে চলেছে। একে রুখতে না পারলে আগামী দিনে কাজের সুযোগ আরও কমে যাবে, শ্রমিক শোষণ ব্যাপক ভাবে বাড়বে।

এআইইউটিইউসি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড শঙ্কর দাশগুপ্ত এই ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।