Breaking News

মেয়েরা কত বিপন্ন আবার দেখা গেল হায়দরাবাদে

একটা ছোট খবর হয়ত কেউ দেখেছেন, আবার অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। হায়দরাবাদ পুলিশ তাদের এক মহিলা আইপিএস অফিসার বি সুমতিকে সামনে রেখে একটি অভিনব অপারেশন চালায়। শহরের এক জনশূন্য বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ পোশাক পরে, হাতে একটা সাধারণ ব্যাগ নিয়ে রাত সাড়ে বারোটা থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিলেন সুমতি।

সেই তিন ঘণ্টায় প্রায় চল্লিশ জন পুরুষ তাঁকে উত্যক্ত করতে এগিয়ে আসে। কেউ মদ্যপ অবস্থায় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, কেউ কুপ্রস্তাব দেয়। দূর থেকে নজর রাখা সাদা পোশাকের পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এই ‘রিয়েলিটি চেক’ দেখিয়ে দিয়ে গেল নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি প্রচার কত ফাঁকা।

হায়দরাবাদ তেলেঙ্গানার রাজধানী, দেশের একটি মেগা-সিটি। সেখানেই যদি নারী নিরাপত্তার এই হাল হয়, তাহলে দেশের ছোট শহরগুলিতে বা গ্রামাঞ্চলে, বা হাইওয়েতে পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর সহজে অনুমেয়। দেশ জুড়ে আজ নির্যাতিত নারীর হাহাকার। প্রতি ঘণ্টায় ৫১ জন নারী নির্যাতিত হন ভারতে। অতি সম্প্রতি, বিহারের গয়া-পাটনা রুটে চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে এক যুবতীকে পাশের জঙ্গলে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে পাঁচ দুষ্কৃতী।

বিহারেই প্রকাশ্যে এক মহিলার শ্লীলতাহানি করে কিছু দুর্বৃত্ত। সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছেন অনেকে। দেশের ও রাজ্যের সরকারগুলির নেতা-মন্ত্রীদের হুঙ্কার সত্যেও এটাই বাস্তব অবস্থা। যতদিন না মদ-মাদক দ্রব্য-জুয়া-সাট্টা নোংরা সিনেমা-অশ্লীল বিজ্ঞাপন ইত্যাদি বন্ধ করা হচ্ছে, দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক আশ্রয়দান নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ততদিন এই নির্মম চিত্র সমাজকে দেখতে হবে। মধ্যযুগের হারুন-অল-রশিদের মতো মধ্যরাতে ছদ্মবেশে শহর পরিদর্শন করা, বা জাহাঙ্গিরের ‘ন্যায়ের শিকলে’ টান দিয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে বাদশাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো অভিনবত্ব দিয়ে পুলিশ-প্রশাসন যতই চমক দিন না কেন।