
স্বাধীন ভারতে পশ্চিমবঙ্গ বহু গণআন্দোলনের ইতিহাস রচনা করেছে। কিন্তু এ বছর ২১ জানুয়ারি রাজ্য জুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করল এক অভূতপূর্ব সংগ্রামের চেহারা। পাহাড় থেকে সমুদ্র প্রতিটি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, শহর এবং মহানগরী কলকাতায় একযোগে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার সে দিন যেন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ? জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিযুক্ত হাজার হাজার আশাকর্মীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল রাজ্য সরকারের পুলিশ এবং স্টেশনে স্টেশনে রেল পুলিশ ও কেন্দে্রর অধীন আরপিএফ। এই যুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী হয়ে থাকল আর একটা দৃশ্যেরও। এ রাজ্যেরই মা-বোন আশাকর্মীরা অসীম সাহসিকতায় এই বীরপুঙ্গব পুলিশ বাহিনীকে মোকাবিলা করে পরাস্ত করলেন সর্বত্র। সরকার আশাকর্মীদের ঠেকানোর জন্য গোটা পশ্চিমবঙ্গকেই কার্যত দুর্গে পরিণত করেছিল, অবশেষে সরকার মাথা নত করে আশাকর্মী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে স্বাস্থ্য ভবনে বৈঠকে বসতে বাধ্য হল। মেনে নিতে বাধ্য হল অনেকগুলি দাবি।

শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়ন যৌথ ভাবে ডাক দিয়েছিল তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং সুনির্দিষ্ট কতগুলি দাবিতে ২১ জানুয়ারি রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের। সরকারের সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত এই দাবিতে তাঁরা বারবার সোচ্চার হয়েছেন। রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার নিযুক্ত করেছে এই আশাকর্মীদের। কিন্তু সরকারি কর্মী হিসেবে তাঁদের স্বীকৃতি দেয়নি। স্কিম বা প্রকল্প হিসাবে ঘোষণা করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার অতি সামান্য অনারারিয়াম বা সাম্মানিক বরাদ্দ করেছে এঁদের জন্য।
এই স্কিমের সূচনা ২০০৫ সালে। ২০ বছর বাদে ২০২৬-এ এসে এঁদের মাসিক ‘সাম্মানিক’ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫,২২৫ টাকা। আর অন্য কাজ থাকলে ভাতা আছে, না থাকলে নেই। মা ও শিশুর জন্য নির্ধারিত সমস্ত দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সরকার প্রতিনিয়ত চাপিয়ে দিচ্ছে যেমন খুশি নতুন নতুন কাজের বোঝা, যার কোনও পারিশ্রমিক নেই। কেন্দে্রর বরাদ্দ ইনসেনটিভ আর রাজ্য সরকারের সাম্মানিক এবং এই নানা প্রকার খুচরো যোগ করে সর্বোচ্চ এঁরা কোনও মতেই দৈনিক ২৫০ টাকার বেশি পেতে পারেন না। যা সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির থেকেও অনেক কম। এই খুচরো বিষয়গুলোর হিসাব সব সময় বোঝা যায় না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টাকা পাওয়া যায় না। অথচ খেলা, মেলা, ভোটের ডিউটি, বোর্ড পরীক্ষা, জল পরীক্ষা, নুন পরীক্ষা থেকে শুরু করে সরকারি নেতা মন্ত্রীদের সমাবেশ কোনও কিছুই বাদ নেই এঁদের ‘ডিউটি’ থেকে। রবিবার কিংবা কোনও সরকারি ছুটি, রাত কিংবা দিন– কোনও কিছুতেই এঁদের রেহাই নেই। করোনার লকডাউনেও এই আশাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পরীক্ষা করতে হয়েছে ও রিপোর্ট দিতে হয়েছে। যত গভীর রাতই হোক না কেন জীবন বিপন্ন করে হলেও প্রসূতি মাকে নিয়ে হাসপাতালে এঁদের যেতেই হবে। তা না হলে কেবল টাকাই কাটা যাবে না, জুটবে সরকারি কর্তাদের দ্বারা চূড়ান্ত হেনস্থা।

সরকারের কাছে আশাকর্মীরা চেয়েছেন – সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি, মাসে ন্যূনতম ১৫০০০ টাকা ভাতা, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, দিন-রাত কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার গ্যারান্টি। এগুলি কি কোনও অন্যায় দাবি, নাকি অপরাধ? জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এঁদের স্বাস্থ্য বিভাগের ‘স্তম্ভ’ আখ্যা দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এঁদের ‘গ্লোবাল লিডার্স হেলথ আওয়ার্ড’ দিয়েছে। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এঁদের ‘বঙ্গ জননী’, ‘বীরাঙ্গনা’ প্রভৃতি কত ভাবে আখ্যায়িত করেছেন! কিন্তু এঁদের জীবন ধারণ করবার ন্যূনতম দায়িত্ব কেউই নেয়নি। উৎসবের নাম করে ক্লাবগুলোকে লক্ষ লক্ষ টাকা দান খয়রাত সহ হাজার হাজার কোটি টাকা দরাজ হাতে বিলানো হচ্ছে। এই অত্যন্ত ন্যায্য দাবিগুলি তোলার জন্য সরকার সে দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭৫ হাজার আশাকর্মী মা বোনের উপর রাজ্য জুড়ে পুলিশি বর্বরতা নামিয়ে আনল।
এই পর্যায়ে আশাকর্মীরা গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে অনন্যোপায় হয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ৭ জানুয়ারি প্রায় ৬৫ হাজার আশাকর্মী স্বাস্থ্যভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন সরকারের সাথে কথা বলতে। কিন্তু পুলিশ স্বাস্থ্যভবনের অনেক দূরে ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকেছে। কিন্তু আশাকর্মীদের তীব্র বিক্ষোভ সমস্ত ব্যারিকেড ভেঙে স্বাস্থ্য ভবনের মূল গেটের সামনে আছড়ে পড়ে। সে দিন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম সহ একগুচ্ছ আধিকারিক আশাকর্মীদের দুটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এআইইউটিইউসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে কিছু প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু মূল ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিতে নিশ্চুপ থাকেন। আন্দোলনের চাপে স্বাস্থ্য সচিব আবার ২১ জানুয়ারি আলোচনায় বসবেন বলে জানান। এর ভিত্তিতেই রাজ্য জুড়ে প্রস্তুতি চলে আরও বিপুল জমায়েতের। সর্বত্র এই প্রস্তুতির আঁচ পেয়ে ভীত সরকার সন্ত্রাস নামিয়ে আনার পথ বেছে নেয়। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায় ২০ জানুয়ারি, যখন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শশী পাঁজা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করবার জন্য বলেন, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যে আশাকর্মীরা বেশি টাকা পান, যা ডাহা মিথ্যা। কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, সিকিম, হরিয়ানা এমনকি ঝাড়খণ্ড প্রভৃতি রাজ্যের আশাকর্মীরা এ রাজ্যের থেকে বেশি টাকা পান। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কেবল মিথ্যা তথ্য দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন আশাকর্মীদের প্রতি।
গোটা রাজ্য প্রশাসন নেমে পড়েছিল আশাকর্মীদের আটকানোর জন্য। তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ার অথবা পুলিশ হুমকি দিয়েছে। পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা কেকা পালকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় এনে মানসিক পীড়ন চালিয়েছে। আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুনের বাড়ি ঘিরে রেখেছে। নজিরবিহীন ভাবে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর কেন্দ্রীয় অফিস পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি মাধবীলতা পাল, ও সম্পাদক মিনতি সরকার বাড়ি থেকে বার হওয়ার সময় পুলিশ আটকেছে। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় তাঁরা ও অন্য কর্মীরা স্টেশনে পৌঁছালে বিশাল পুলিশ বাহিনী ট্রেন না ছাড়া পর্যন্ত সকলকে ঘিরে রাখে এবং হেনস্থা করে। ট্রেন ছাড়ার পর তাঁরা বাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও পুলিশ আটকে দেয়। এর প্রতিবাদে ২১ জানুয়ারি আশাকর্মীরা রায়গঞ্জে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আশাকর্মী ইউনিয়নের সম্পাদিকা শিপ্রা ঘোষালকে আগের রাতে বাড়ি থেকে তুলে তার বিরুদ্ধে ‘ঘুষ নেওয়ার’ মিথ্যা মামলা কোর্টে দায়ের করেছে। মুর্শিদাবাদের জাঙ্গিপাড়াতে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় পুলিশ বাস আটক করে সকলকে থানায় নিয়ে গেছে। ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় পুলিশ বাস আটকে আশাকম¹দের নামিয়ে দেয়। ফলতা ব্লকের আশা কর্মীদের বাস আমতলায় আটকে দিয়ে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়। বসিরহাটে, বাদুড়িয়াতে গাড়ির জন্য অপেক্ষারত সকলকে গ্রেফতার করে। তারকেশ্বর, ডানকুনি, ডায়মন্ডহারবার, খড়গপুর, মেদিনীপুর, সাঁতরাগাছি, বারাসাত প্রভৃতি স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময়ে, এমনকি ট্রেন থেকে নামিয়ে রেল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ফলতা ব্লকের আশাকর্মী তথা আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা সুজাতা মাইতির বাড়িতে রাতে শাসক দলের দুষ্কৃতীরা হামলা করে ও আন্দোলনে থাকলে বিপদ ঘটবে বলে তাঁকে হুমকি দেয়। তাঁর স্বামীকে মেরে রক্তাক্ত করে দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে এসে শুধু ছবি তুলে ফিরে যায়। এমনকি পরদিন ওই আশা কর্মীকে তৃণমূল অফিসে ডেকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

সমস্ত আক্রমণ সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক আশাকর্মী স্বাস্থ্যভবন সংলগ্ন সেক্টর ফাইভ এলাকায় পৌঁছে গেলে সেখানেই তাদের পুলিশ ঘিরে ফেলে সল্টলেক সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় আটক করে। সমস্ত বাধা পেরিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার আশাকর্মী জড়ো হন হাওড়া এবং শিয়ালদা স্টেশনে। পুলিশ তাদের স্টেশনে আটকে রাখার বহু চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা হুমকি উপেক্ষা করে আশাকর্মীরা মিছিল করে স্বাস্থ্যভবন ও ধর্মতলা অভিমুখে মিছিল শুরু করেন।
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছানো মাত্রই চার দিক থেকে ঘিরে ফেলে বিপুল সংখ্যক আশাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পরেও পুলিশের সব বাধার প্রাচীরকে ভেঙে আবারও হাজারে হাজারে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্যভবনের মূল গেট অবরুদ্ধ করে রাখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অপর দিকে ধর্মতলাগামী বিশাল মিছিল আসার পথে আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন পুলিশের নজরদারির বেড়াজাল এড়িয়ে আচমকা মিছিলের সম্মুখভাগে উপস্থিত হলে উল্লাসের জোয়ার সৃষ্টি হয় হাজার হাজার আশাকর্মীর মিছিলে। কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে বিশাল গার্ড রেল দিয়ে পুলিশ বাধা দিলেও আশাকর্মীরা দৃঢ়তার সঙ্গে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। গোটা এলাকা জুড়ে প্রবল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। সোচ্চারে তাঁরা বলতে থাকেন, দাবি আদায় না হলে আমরা রাত্রি যাপন করবার সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি, এখানেই থাকব।
একই সাথে বিভিন্ন জেলায় যেখানে যাদের আটক করেছে সেখানেই চলছে প্রবল বিক্ষোভ। একযোগে উত্তাল হয়েছে সারা পশ্চিমবাংলা। সরকার ভেবেছিল, ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে সময় কাটিয়ে দিলে আন্দোলন মিইয়ে যাবে, কিন্তু তারা যখন বুঝল বাস্তবে তা হওয়ার নয়, নিরুপায় হয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার মুখে স্বাস্থ্যভবন থেকে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়। দুই আশাকর্মী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি মিলে ৫ জনের সাথে স্বাস্থ্য ভবনে আধিকারিকরা আলোচনায় বসেন। আগের দিনের তুলনায় অনেক নরম সুরে আধিকারিকরা বলেন, সমস্ত বকেয়া টাকা এখনই মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি স্থির হয়েছে। কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ভাগে ভাগে নয় এক সাথে টাকা দেওয়া হবে।
নেতৃবৃন্দ মূল ভাতা ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা করার দাবি তুললে আধিকারিকরা বলেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ছাড়া তা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে সরকার ভাবছে। এই সংবাদ বাইরে আসতেই অপেক্ষারত হাজার হাজার আশাকর্মী একযোগে ধবনি তোলেন – ‘এই অন্যায় অত্যাচারের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতি আমরা চালিয়ে যাব। গ্রেপ্তার করা সমস্ত আশাকর্মী নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে’। রাজ্য জুড়ে পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে ২২ জানুয়ারি সর্বত্র ধিক্কার কর্মসূচিতে শামিল হন আশাকর্মীরা। বহু বিশিষ্ট মানুষ ও গণসংগঠন সরকারের এই চূড়ান্ত অমানবিক ভূমিকার নিন্দায় পথে নামেন। সারা বাংলা জুড়ে অসংখ্য ধিক্কার সভা হয়।