Breaking News

শহিদ বিরসা মুণ্ডা মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


৯ জুন ছিল শহিদ বিরসা মুণ্ডার ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে অল ইন্ডিয়া জন অধিকার সুরক্ষা কমিটির আহ্বানে পশ্চিমবঙ্গের ১৮টি জেলায় গভীর শ্রদ্ধার সাথে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এই উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানে সেই সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থা গরিব শোষিত মানুষের উপর জমিদার, মহাজন, আড়কাঠি, ঠিকাদার, ব্রিটিশ শাসকদের শোষণ, জুলুম, অত্যাচার এবং তার প্রতিকারে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং তারই ধারাবাহিকতাতে বিরসা মুণ্ডার নেতৃত্বে সংগঠিত ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সালের আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ ‘উলগুলান’ সম্বন্ধে আলোচনা হয়। এই আন্দোলনগুলির মধ্য দিয়ে ছোটনাগপুর টেন্যান্সি অ্যাক্ট, সান্তাল পরগণা টেন্যান্সি অ্যাক্ট, উইলকিনসন্স রুলস প্রভৃতি আইনি অধিকার অর্জন করেছিল আদিবাসী সহ ওই অঞ্চলের সমস্ত গরিব মানুষ।

বক্তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, স্বাধীন ভারতের সরকার অর্জিত এই সকল অধিকারগুলি বারে বারে খর্ব করেছে এবং এখনও খর্ব করার চেষ্টা করে চলেছে। ড্যাম, রাস্তা, রেলপথ, খনি, কারখানা গড়ে তোলার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ উচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি। স্বাধীন ভারতে বন (সংরক্ষণ) আইন-১৯৮০’ চালু করতে গেলে প্রায় এক কোটি মানুষ উচ্ছেদের সম্মুখীন হয়। তার বিরুদ্ধে আদিবাসী, চিরাচরিত বনবাসী, গরিব শোষিত মানুষ এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিকদের সংগঠিত প্রতিরোধ আন্দোলনের ফলে এই সকল অধিকার অনেকাংশে রক্ষিত হয়েছে এবং অরণ্যের অধিকার আইন-২০০৬ এর মতো আইনি অধিকার অর্জিত হয়। কিন্তু এই অধিকারগুলি খর্ব করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই সকল আইনে একের পর এক সংশোধনী নিয়ে আসে। কিন্তু গণ-আন্দোলনের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

অতি সম্প্রতি সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারী বন সংরক্ষণ রুল-২০২২ এবং বন (সংরক্ষণ) সংশোধনী আইন-২০২৩ চালু করার মধ্য দিয়ে এক দিকে যেমন বন অধিকার আইন-২০০৬-এর ক্ষমতা কার্যত নিশেঃষিত করেছে অপর দিকে জঙ্গলকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার পথ পরিষ্কার করেছে। গাছ কেটে জঙ্গল ধ্বংস করার পথও পরিষ্কার হয়েছে। এই সংশোধনী আইন কার্যকর হলে, পরিবেশের বিপন্নতা আরও বাড়বে। এর বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আরও তীব্র করতে হবে।

এই লেখাটি গণদাবী ৭৭ বর্ষ ৪৭ সংখ্যা ৪ – ১০ জুলাই ২০২৫ এ প্রকাশিত