Breaking News

মহান এঙ্গেলসের শিক্ষা থেকে

শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগ্রাম

রাজনীতির সংস্রব থেকে কেউই নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না। যে সব সংবাদপত্র নিজেদের অরাজনৈতিক বলে ঘোষণা করে তারাও প্রতিদিনই রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়ায়। তাই কোন জাতের রাজনীতির সঙ্গে কী ভাবে নিজেকে যুক্ত করব– মূল প্রশ্ন এইটাই। বাস্তব জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, ক্ষমতাসীন সরকারগুলির উৎপীড়ন শ্রমিককে বাধ্য করে রাজনীতিকে হাতিয়ার করতে। সে চাক বা না চাক, তার লক্ষ্য রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যসাধন যা-ই হোক না কেন, রাজনীতিকে হাতিয়ার না করে সে পারে না। তাই, ‘রাজনীতি থেকে দূরে থাক’ বলে শ্রমিকদের উপদেশ দেওয়ার মানে হল বুর্জোয়া রাজনীতির খপ্পরে তাদের ঠেলে দেওয়া।

ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিং মেনস অ্যাসোসিয়েশনের লন্ডন কনফারেন্সে (১৮৭১) ভাষণ (সাংবাদিকের লিখিত নোট)।

শ্রমিক শ্রেণির পার্টি

শ্রেণির অবলুপ্তি আমরা চাই। কিন্তু কী ভাবে সেই লক্ষে্য আমরা পৌঁছাব, কী আমাদের হাতিয়ার? আমাদের হাতিয়ার হল সর্বহারা শ্রেণির রাজনৈতিক আধিপত্য। …

রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল বিপ্লব। তাই বিপ্লব যাঁরা চান তাঁদের এই হাতিয়ারটি আগে চাই। অর্থাৎ রাজনৈতিক সংগ্রাম চাই, যে সংগ্রাম বিপ্লবের জমি তৈরি করবে, শ্রমিক শ্রেণিকে বিপ্লবী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবে। এই বিপ্লবী শিক্ষা যদি না থাকে তবে লড়াই একটু ঠাণ্ডা হলেই লড়াকু শ্রমিক ফাভরে এবং পায়াতের মতো লোকেদের পেতে রাখা সুবিধাবাদের ফাঁদে আটকে পড়বেই। তাই শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতিই আমাদের একমাত্র চর্চা করতে হবে। শ্রমিক শ্রেণির পার্টি কখনওই কোনও বুর্জোয়া পার্টির লেজুড় হতে পারে না, এ পার্টির থাকবে নিজস্ব লক্ষ্য, নিজস্ব নীতি– এ পার্টি হবে স্বতন্ত্র, ভিন্ন জাতের একটা পার্টি। (ওই)

বুর্জোয়া মর্যাদাবোধ ও শোষিত জনগণ

‘বুর্জোয়া মর্যাদাবোধের’ ধারণাটাই আজ এখানকার শ্রমিকদের একেবারে মজ্জায় মজ্জায় ঢুকে গিয়েছে। এইটেই সবচেয়ে জঘন্য।

মানুষের সমাজ বহু সামাজিক স্তরে বিভক্ত। প্রত্যেকটি স্তরভেদই আবার নিঃসন্দেহে সামাজিকভাবে স্বীকৃত। প্রতিটি স্তরের মানুষের নিজের নিজের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে নিজস্ব গর্ববোধও আছে। কিন্তু তারই পাশাপাশি প্রত্যেকটি স্তরের মানুষের তার থেকে ‘উপরের’ স্তর বা ‘উন্নত’ স্তর সম্পর্কে একটা আজন্মলালিত ভক্তিও রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারের ফলে মনের এত গভীরে তার শিকড় যে, সুবিধামতো সেই ভক্তিকে কাজে লাগিয়ে বুর্জোয়ারা আজও অতি সহজে শোষিত মানুষকে নিজের দিকে টেনে আনে এবং প্রতারিত করে। –এফ এ সোর্গে-কে লেখা চিঠি, ডিসেম্বর ১৮৮৯।

অর্থনৈতিক নিশ্চয়তাবাদ

ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা অনুযায়ী, চূড়ান্ত বিচারে সামাজিক উৎপাদন এবং উৎপাদন সম্পর্কই হল ইতিহাসের নিয়ামক। এর চেয়ে বেশি কিছু মার্ক্স বা আমি কেউই কখনও বলতে চাইনি। সুতরাং এ কথাকে বিকৃত করে যদি কেউ বলেন– অর্থনৈতিক বিষয়গুলিই ইতিহাসের একমাত্র নিয়ামক, তবে তার দ্বারা আমাদের বক্তব্যকে অর্থহীন, কাল্পনিক এবং অবাস্তব একটি ধারণায় পর্যবসিত করা হবে। অর্থনৈতিক বিষয়গুলিই হল ভিত্তি। কিন্তু উপরিকাঠামোর নানা উপাদান, যেমন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শ্রেণিসংগ্রাম ও তার ফলাফল অর্থাৎ সংগ্রামের পর বিজয়ী শ্রেণির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংবিধান প্রভৃতি বিষয়গুলি, আইনের ধাঁচা, বিশেষ করে বাস্তব সংগ্রামে নিযুক্ত মানুষগুলির মস্তিষ্কে সংগ্রামের প্রতিফলনে গড়ে ওঠা রাজনীতি, আইন ও দর্শনের তত্ত্ব, ধর্মীয় ভাবাদর্শ এবং তার বিকাশের পথে সৃষ্ট সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় ব্যবস্থা, আচার, রীতিনীতি– এগুলিও ইতিহাসের গতিপথে আপন প্রভাব বিস্তার করে এবং বহু ক্ষেত্রে ইতিহাসের রূপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

–যোশেফ ব্লশ-কে লেখা চিঠি, ১৮৯০।