Breaking News

বনাঞ্চল ধ্বংস বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি

ফাইল চিত্র

‘আন্তর্জাতিক অরণ্য দিবস’ (২১ মার্চ) উপলক্ষে অরণ্য ধ্বংস বন্ধ এবং জীবন-জীবিকা-সংস্কৃতি সহ সর্বক্ষেত্রে জঙ্গলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ও জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল অরণ্যের অতন্দ্র প্রহরী আদিবাসী, পরম্পরাগত অরণ্যবাসী ও গরিব মানুষের সমস্যা নিয়ে ২৪ মার্চ ‘অল ইন্ডিয়া জন অধিকার সুরক্ষা কমিটি’ (এআইজেএএসসি)-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির এক প্রতিনিধি দল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দেন।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনের রাজ্য কমিটির সভাপতি পরিমল হাঁসদা, সহসভাপতি নেপাল সিং, কোষাধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন মাঝি ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সত্যচরণ সরদার। স্মারকলিপিতে বলা হয় একদিকে ২১ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক অরণ্য দিবস’ পালন করা হচ্ছে, অপর দিকে খনি, কারখানা, নগরায়ন, আবাসন শিল্প, সড়ক নির্মাণ বা চারকোলের জন্য প্রতি বছর নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে আকস্মিক বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ধস, ভূমিকম্প এমন নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই পরিস্থিতি দেখে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা গভীরভাবে শঙ্কিত। উদ্বিগ্ন পরম্পরাগত অরণ্যবাসী, আদিবাসী ও পাশাপাশি বসবাসকারী সাধারণ গরিব মানুষ। কেন না এদের একটা বৃহৎ অংশের মানুষের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ ভাবে অরণ্যের উপর নির্ভরশীল। এঁরা অরণ্যকে নিজেদের ‘মা’ হিসেবে গণ্য করেন এবং পরম মমতার সঙ্গে একে লালন ও রক্ষা করে আসছেন। অথচ ভারতে ইতিমধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ এমন মানুষজন উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন।

‘বন সংরক্ষণ বিধি ২০২২’ এবং ‘বন (সংরক্ষণ) সংশোধনী আইন ২০২৩’ প্রণয়ন বনাঞ্চল ধ্বংস ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে আরও সুগম করেছে। সে জন্য এআইজেএএসসি দাবি করেছে– অবিলম্বে বন ধ্বংস বন্ধ করতে হবে, বন সংরক্ষণের অজুহাতে আদিবাসী, পরম্পরাগত অরণ্যবাসী ও গরিব মানুষের উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে, ‘বন (সংরক্ষণ) সংশোধনী আইন ২০২৩’ এবং ‘বন সংরক্ষণ বিধি ২০২২’ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, ‘বন অধিকার আইন ২০০৬’ সম্পূর্ণ রূপে চালু করতে হবে, জীবিকা, বাসস্থান ও সংস্কৃতি চর্চা সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আদিবাসী, গরিব ও পরম্পরাগত অরণ্যবাসী মানুষের বনে প্রবেশের পরম্পরাগত অধিকার হরণ করা চলবে না।