Breaking News

জনস্বার্থে টাকা নেই, বিদেশ ভ্রমণে চার বছরে ২৯৫ কোটি খরচ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২১ থেকে ২০২৪, এই চার বছরে বিদেশ সফরে সরকারি কোষাগার থেকে ২৯৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন। ২৫ জুলাই রাজ্যসভায় এ কথা জানান বিদেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ।

রাজকোষের টাকা মানে জনগণের করের টাকা। এত কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ সফর কেন? এতে কী-ই বা লাভ হয়েছে দেশবাসীর? প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাবেন না, এটা কেউ মনে করে না। দেশের প্রয়োজনে তিনি যেতেই পারেন। যেতে পারেন বৈদেশিক আমন্ত্রণেও। কিন্তু তা যে জনস্বার্থে, সেটা প্রমাণ হওয়া চাই তো! সে প্রমাণ কি পাওয়া গেছে?

এই প্রসঙ্গে আরেকটি রিপোর্ট। সম্প্রতি কেন্দে্রর জলশক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রাজভূষণ চৌধরী লোকসভায় বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। কারণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বাজেটে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ হয়নি। এর ফল কী? এর ফলে দুই মেদিনীপুর বন্যায় ভাসছে। এই প্ল্যানের বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ থমকে আছে। এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দরকার ছিল না? অর্থসংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষা খাতে, চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ নামমাত্র করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা হয়ে উঠছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আর চিকিৎসার পিছনে খরচ করতে গিয়ে বহু পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। সরকার এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে জনগণকে খানিকটা স্বস্তি দিতে পারত। গ্রামীণ কর্মসংস্থান যোজনায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করে সারা বছর কাজ এবং বাঁচার মতো মজুরির ব্যবস্থা করতে পারত। সারে ভর্তুকি দিয়ে চাষির পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু অর্থসংকটের অজুহাতে জনকল্যাণমূলক নানা প্রকল্পে বরাদ্দ ব্যাপক কমানো হলেও প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের রাজকীয় আয়োজনে টাকার ঘাটতি নেই।

রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের এই সাত মাসেই ৬৭ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু ফ্রান্সেই খরচ করেছেন ২৫ কোটি, আমেরিকায় ১৭ কোটি, সৌদি আরবে ১৬ কোটি টাকা। গত চার বছরে ৩৮টি দেশ সফর সারা তাঁর। গত কয়েক দশকে ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী এত বিদেশ সফরে যাননি। কীর্তিবর্ধন সিংহ প্রধানমন্ত্রীর কীর্তি বর্ণনা করে জানান, শুধু গত বছরেই প্রধানমন্ত্রী ভ্রমণ করেছেন ১৬টি দেশ।

এত বিদেশ সফরে যাচ্ছেন কেন প্রধানমন্ত্রী? বিভিন্ন সফরের় পরেই সংবাদমাধ্যমে দেখা যায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের কিছু ব্যবসা-বাণিজ্যের চুক্তি হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কার হয়ে বাণিজ্য চুক্তি করেন? আসলে এ দেশের পুঁজিপতি, শিল্পপতিদের উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রির জন্যই এইসব বাণিজ্য চুক্তি। অর্থাৎ জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা খরচ করে, বিলাস ব্যসনের প্রাচুর্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণ করে ব্যবসায়ীদের মাল বিক্রির ব্যবস্থা করে দেন। এর মধ্য দিয়ে যে বিপুল মুনাফা অর্জন হয়, তা গিয়ে জমা হয় পুঁজিপতিদের ঘরে। এতে পুঁজিপতিদের পুঁজি আয়তনে আরও বাড়ে। কিন্তু এর জন্য বঞ্চনার বোঝা বইতে হয় দেশের মানুষকে। এর নাম কি জনস্বার্থে বিদেশ ভ্রমণ?