
মালদাঃ এই অঙ্গীকার যাত্রা সত্যিই মালদা শহরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। শুধু মালদা শহর নয়, যেন জেলার প্রতিটা গ্রামে এর অঙ্গীকার শোনা যাচ্ছিল। শুধু শহর নয়, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পাড়ার মানুষ এই কর্মযজ্ঞে সাড়া দিয়েছেন। গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, কালিয়াচক, মানিকচক সহ আরও অনেক গ্রাম থেকে অনেক মেয়ে নিজেদের পরিসীমার বাইরে এসে এই অঙ্গীকারে শামিল হয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহর ও অনেক গ্রামের মানুষ শামিল হয়েছেন। গান, নৃত্যনাট্য, আবৃত্তি সবকিছু দিয়ে তারা সুন্দর অনুষ্ঠান করেছেন। ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’-র আহ্বানে এই মহতী প্রয়াস সুসম্পন্ন করতে ৭৩ বছরের প্রবীণ রেলকর্মী শ্রীমতী রীতা দাশগুপ্তকে কার্যকরী সভাপতি করে চল্লিশ জনের অভ্যর্থনা কমিটি গঠিত হয়। মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১২টি অভ্যর্থনা কমিটি মনপ্রাণ দিয়ে অঙ্গীকার যাত্রার প্রস্তুতি গড়ে তোলে।
ঘুণ ধরা সমাজের নারীদের প্রতি বিরূপ মনোভাবের বিরুদ্ধে, নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য, নারীর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার সংকল্প নিয়ে এই শুভশক্তির উত্থান দেখাটাও তৃপ্তির।
১১ ডিসেম্বর মালদা টাউন স্টেশন থেকে অঙ্গীকার যাত্রীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে স্থানীয় রেল ইনস্টিটিউট হলে আনা হয়। সেখান থেকেই একটি মিছিল শহর পরিক্রমা করে স্থানীয় পোস্ট অফিস মোড়ে ছয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে একটি সাংস্কৃতিক সভা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শিল্পীরা তাঁদের উজ্জ্বল উপস্থাপনা পরিবেশন করেন। নৃত্য, গান, নাটকের মাধ্যমে সভা আবেগে উদ্বেল হয়ে ওঠে। পরে অঙ্গীকার যাত্রীরা মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে রওনা হন।

মানুষ চাইছে প্রতিবাদ। আমিও অত্যাচারের শিকার– কত নারী চোখের জলে তাঁদের অব্যক্ত যন্ত্রণা প্রকাশ করে গেলেন! তার মূল্য দিতে হবে আমাদের! কর্মসূচির প্রচার করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল–এই অঙ্গীকার যাত্রা সফল করতেই হবে। এগিয়ে আসতেই হবে। রথবাড়ি রেল লাইনের ধারে সহায় সম্বলহীন পরিবারগুলির মেয়েরা, বৃদ্ধারা আমাদের কাছে তাদের মনের কথা খুলে বলে জানতে চান– বস্তিতে মদ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তোমরা পাশে থাকবে তো? আমরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কুর্নিশ জানাই অঙ্গীকার যাত্রী দিদিদের। তাদের আগমন বিবেক জাগিয়েছে।