Breaking News

ত্রিভাষা নয়, শিক্ষায় দ্বিভাষা নীতি দাবি সেভ এডুকেশন কমিটির

সারা ভারত সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডঃ তরুণকান্তি নস্কর ২১ মে এক বিবৃতিতে বলেছেন,

গত ১৫ মে-র সার্কুলারে কেন্দ্রীয় সরকার, সিবিএসই-র মাধ্যমে তিন-ভাষা সূত্র কার্যকর করার নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশে বলা হয়েছে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা শিখতে হবে। তার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হবে। শিক্ষার্থীরা বিদেশি ভাষা শুধুমাত্র তৃতীয় ভাষা হিসেবে নিতে পারবে যদি প্রথম দুটি ভাষা ভারতীয় হয় অথবা ঐচ্ছিক চতুর্থ ভাষা হিসেবে নিতে পারবে।

প্রথমেই স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন যে ইংরেজি কোনও বিদেশি ভাষা নয় বরং এটি এ দেশের একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা।

২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ১০ বছরের মোট ব্যয়ের পর্যালোচনা থেকে স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট কিছু তফসিলভুক্ত ও ধ্রুপদী ভাষার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে, অথচ অন্য ভাষাগুলিকে উপেক্ষা করেছে। ভাষাভিত্তিক বরাদ্দের পরিমাণ হল– সংস্কৃতের জন্য ২,৫৩২.৫৯ কোটি, উর্দুর জন্য ৮৩৭.৯৪ কোটি, হিন্দির জন্য ৪২৬.৯৯ কোটি, তামিলের জন্য ১১৩.৪৮ কোটি এবং কন্নড়, তেলুগু, মালয়ালম ও ওড়িয়া– এই চার ভাষার সম্মিলিত বরাদ্দ মাত্র ৩৪.০৮ কোটি।

দেখা যাচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যে সংস্কৃত ভাষাকে, তা দেশের কোনও অংশের সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা নয়। এরপর রয়েছে উর্দু ও হিন্দি। সুতরাং, তিন-ভাষা নীতি চাপিয়ে দেওয়া আসলে অ-হিন্দিভাষী জনগণের উপর সংস্কৃত অথবা হিন্দি, কিংবা উভয় ভাষাই চাপিয়ে দেওয়ার একটা কৌশল। একই ভাবে, হিন্দিভাষী জনগণের উপর সংস্কৃত বা অন্য কোনও ভারতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়াও সমানভাবে নিন্দনীয়।

সারা ভারত সেভ এডুকেশন কমিটির সুচিন্তিত মত হল, অন্তত স্কুল স্তর পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত মাতৃভাষা। এই সার্কুলার ইংরেজি শিক্ষার বিষয়ে নীরব, যদিও ইংরেজি ঐতিহাসিকভাবে উচ্চশিক্ষার একটি অপরিহার্য সেতু এবং বিশ্বজ্ঞান অর্জনের একটি জানালা হিসেবে গড়ে উঠেছে। সমস্ত আধুনিক ভারতীয় ভাষার সুস্থ বিকাশের ক্ষেত্রেও ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ইংরেজির সঙ্গে দেশীয় ভাষাগুলির এই পারস্পরিক সম্পর্ক ভাষাগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তাই রাষ্ট্রের উচিত মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাকেও মৌলিক অগ্রাধিকার দেওয়া। একই সঙ্গে, সমস্ত তফসিলভুক্ত ভাষার বিকাশে সরকারের সবরকম সাহায্য করা উচিত।

শিক্ষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন শিক্ষার্থীর মাতৃভাষা এবং ইংরেজি এই দুই ভাষাই শেখা উচিত। যে সব মানুষের পরিবার অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে, তাঁদের সন্তানরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভাষা এবং ইংরেজি শিখতে পারে। আমরা এই দুই-ভাষা কাঠামোকেই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত, বৈজ্ঞানিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি বলে মনে করি। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ অবশ্যই থাকা উচিত, কিন্তু তা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হতে হবে, কখনওই বাধ্যতামূলক নয়।

কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে উপরোক্ত সিবিএসই সার্কুলার প্রত্যাহার করে তিন-ভাষা সূত্র চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করুক।