
এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ ১৫ জুন এক বিবৃতিতে বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে ভাবে এবং যে পদ্ধতিতে রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে তা আন্তর্জাতিক আইন কানুন ও রীতি-নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। কোনও সভ্য সরকার এই ধরনের অগণতান্ত্রিক, হৃদয়হীন ও মানবতাবিরোধী পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে না। কোনও বিদেশি নাগরিক বেআইনি ভাবে এ দেশে বসবাস করতে পারে না। আইনসম্মত পদ্ধতিতে এদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইনসম্মত ভাবে তাদের বিচার করতে হবে। বিচারের মাধ্যমে যদি নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হয় যে কোনও ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক তা হলে তাঁকে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এবং সংশ্লিষ্ট দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের হাতে সমর্পণ করতে হবে। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সাথে আমরা লক্ষ করছি যে, এই আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কেন্দ্র এবং রাজ্যের পুলিশ যথেচ্ছ ভাবে মানুষকে গ্রেপ্তার করছে এবং রাতের অন্ধকারে বিএসএফ এদের ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিককেও বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনও হচ্ছে যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী পুশব্যাক করছে আবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তাঁদের ঢুকতে দিচ্ছে না, কিংবা তারা পাল্টা ‘পুশব্যাক’ করে এঁদের আবার এ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই ভাবে অনেক মানুষ এখনও জিরো পয়েন্টে অনাহারে আশ্রয়হীন অবস্থায় অবস্থান করছেন।
আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী, সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগণতান্ত্রিক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।
আমরা দাবি করছি– অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং এই সংক্রান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন এবং অনুশাসন কঠোর ভাবে অনুসরণ করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাঁদের দেশের সরকারের সম্মতির ভিত্তিতে তাঁদের নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। দেশের জনসাধারণের প্রতি আমাদের আহ্বান, উপরোক্ত দাবিগুলি কার্যকর করার জন্য দেশের সর্বত্র তীব্র জনমত গড়ে তুলুন।