Breaking News

গ্রেপ্তার কৃষক নেতা প্রবল বিক্ষোভ ওড়িশা জুড়ে

ওড়িশার কেওনঝড় জেলার পাটানা ব্লকের যমুনাপোশী গ্রাম এখন কৃষক আন্দোলনে উত্তাল। এখানে মেগাস্টিল প্ল্যান্ট তৈরির জন্য জিন্দাল গোষ্ঠী ও পস্কো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল পূর্বতন বিজু জনতা দল (বিজেডি) সরকার। এই গ্রামের উর্বর জমি সেচসেবিত এবং বহুফসলি। গ্রামের মানুষের দাবি, স্টিল প্ল্যান্ট এখানে তৈরি না করে জেলার অকৃষিযোগ্য পতিত জমিতে করা হোক। বিজেডি সরকার কৃষকদের এই দাবি শোনেনি। ফলে দশ বছর ধরে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। অল ইন্ডিয়া কিসান-খেতমজদুর সংগঠন এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আন্দোলনে লাঠি-গুলি চলেছে। আন্দোলনের আগুন কখনও ধিকিধিকি জ্বলেছে, কখনও তীব্র ভাবে জ্বলে উঠেছে। কৃষকদের অপ্রতিরোধ্য সংগ্রামের সামনে পূর্বতন সরকার প্রকল্প স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

ইতিমধ্যে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। তারা ওই জমি মিত্তাল গোষ্ঠীকে পাইয়ে দিতে কৃষক উচ্ছেদে নেমেছে। ফলে আবারও শুরু হয়েছে গ্রামবাসীদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ। বিজেপির লক্ষ্য আন্দোলনের নেতাদের গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আন্দোলন দুর্বল করে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যেই ওড়িশা পুলিশ এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্রকাশ মল্লিককে ৩১ মার্চ গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে এবং বহু কৃষকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

এআইকেকেএমএস-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড শঙ্কর ঘোষ ১ এপ্রিল এক বিবৃতিতে প্রকাশ মল্লিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। সাথে সাথে দাবি করেন, যে কৃষকরা তাঁদের অতি মূল্যবান এবং জীবিকার একমাত্র সম্বল পৈতৃক কৃষিজমি রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের উপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে এবং কমরেড প্রকাশ মল্লিকের দ্রুত মুক্তির দাবিতে আবারও কৃষকরা রাস্তায় নেমেছেন। ২ এপ্রিল এআইকেকেএমএস রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ দিবস পালনের ডাক দেয়। পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর আন্দোলনের মতো এই আন্দোলনেও মহিলারা সামনের সারিতে। তাঁদের একটাই কথা– ‘জান দেব, জমি দেব না’। পতিত জমি থাকতে বহুফসলি জমি কেন– এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না সরকার। এআইকেকেএমএসের রাজ্য সভাপতি সদাশিব দাস ও সম্পাদক রঘুনাথ দাস সংগ্রামী কৃষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জিন্দাল ও পস্কোর সাথে বিজেপি সরকারের এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।