কেন্দ্রীয় বাজেট অন্তঃসারশূন্য ফাঁকা বুলি

বার্ষিক বাজেট ২০২৬ বক্তৃতার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়, এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন,

‘‘আজ অর্থমন্ত্রী ২০২৬ সালের যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে দেশের বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনও ছবি প্রত্যাশিত ভাবেই নেই। বরং এটি বিজেপি সরকারের ‘জমকালো’ কর্মক্ষমতার সুন্দর ভাবে তৈরি স্ব-প্রশংসনীয় দলিল যা সন্দেহজনক ভাবে সংকলিত ভুয়ো তথ্যে ভরা।

বাজেটে কোনও নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক বরাদ্দ স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়নি, এমনকি পূর্বে ঘোষিত প্রকল্প বা কর্মসূচিগুলোর ওপর গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন বা অগ্রগতির বিষয়েও কোনও উল্লেখ নেই। বাজেট বক্তৃতাটিকে পাণ্ডিত্যপূর্ণ পরিভাষার অতিরিক্ত ব্যবহারে যথাসম্ভব দুর্বোধ্য করে তোলা হয়েছে এবং এটিতে বৃহৎ পুঁজিপতি ও কর ফাঁকিদাতাদের আরও বেশি সুবিধা ও ছাড় দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভুল মাপকাঠি এবং অনুপযুক্ত বিশ্লেষণ পদ্ধতির প্রেক্ষাপটে দেখলে ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার দাবিটি একটি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, সীমাহীন ছাঁটাই, দরিদ্র কৃষকদের আয় হ্রাস এবং সমগ্র কৃষিক্ষেত্রকে দ্রুত বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো একটি বারও উল্লেখ করা হয়নি। অথচ এগুলোই মানুষের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। নাগরিকদের ‘জীবনযাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য’ নিয়ে কোনও উদ্বেগ দেখানোর পরিবর্তে ‘ব্যবসা করার স্বাচ্ছন্দ্য’ বিষয়টিই প্রকটভাবে প্রাধান্য পেয়েছে।

বার্ষিক বাজেটকে মৌলিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান, জনগণের জীবনের সাথে প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ক্রমশ দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত ভারতীয়দের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা ছাড়াই একটি নিছক পণ্ডিতিপূর্ণ দলিলে পরিণত করার এই প্রহসনের প্রতি আমরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং এই বাজেটকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি।