
এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ২৩ মে এক বিবৃতিতে বলেন,
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমস্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লংঘন করে গোপন সামরিক কার্যকলাপ চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ করার মতো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছে। এরপর তারা নিজের দোসর জায়নবাদী ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে বিনা প্ররোচনায় ইরানের ওপর বর্বর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে। এ বার তারা সমাজতান্ত্রিক কিউবার দিকে বন্দুক তাক করেছে। তেল ও অন্যান্য পণ্যে কঠোর অবরোধ জারি করে কিউবাকে ইতিমধ্যেই শক্তি-সংকট সহ আর্থ-সামাজিক সংকটে ঠেলে দিয়েছে আমেরিকা। বিশ্বের প্রতিটি অংশে আধিপত্য কায়েম করার কোনও সুযোগই ছাড়তে রাজি নন সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিউবাকে পদানত করে গোটা ল্যাটিন আমেরিকায় বাধাহীন আধিপত্য কায়েম করতে চাইছেন তিনি।
১৯৫৯-এর কিউবা বিপ্লব মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট স্বৈরাচারী বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করেছিল। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দস্যুবৃত্তির বিরুদ্ধে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির সংগ্রামে প্রেরণার উৎস কিউবা সেই থেকে আমেরিকার সামনে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র করে আমেরিকা বার বার কিউবায় সরকার উচ্ছেদ করতে চেয়েছে, কিন্তু বার বারই তারা ব্যর্থ হয়েছে।
সম্পূর্ণ আর্থিক অবরোধ জারির মাধ্যমে কিউবার মানুষের জীবনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করে সেখানকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমেরিকা এবার কিউবা আক্রমণ করার অজুহাত সাজাচ্ছে। কিন্তু কিউবার জনসাধারণ মাথা নত করতে অস্বীকার করে সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করেছে, ‘হয় জন্মভূমি নয় মৃত্যু— আমাদের জয় সুনিশ্চিত’। সমস্ত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের সঙ্গে একযোগে আমরা তাঁদের কুর্নিশ জানাই।
কমরেড প্রভাস ঘোষ বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই আন্তর্জাতিক গুণ্ডাগিরি ও প্রভুত্বের বাসনা যা শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক শিবিরের অনুপস্থিতির কারণে লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি। কিউবাকে পদানত করে ল্যাটিন আমেরিকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র দানবিক মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার স্যাঙাতরা কষছে, তা ব্যর্থ করার জন্য গোটা বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।