Breaking News

আসামে ভয়াবহ বন্যা, আর্তদের সাহায্যে সাধারণ মানুষ

আসাম রাজ্যে বন্যা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতি বছরই বন্যা হয়। তবু সরকার আজ পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করেনি। উজানি আসামের মানুষ বন্যার ভয়াবহতার সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক যে বন্যা অর্থাৎ গত ১৯ জুলাই আসামের শিবসাগর, রাজদেও, যোরহাট, গোলাঘাট জেলা সহ নাগাল্যান্ডের মন জেলার যে বন্যা, তা কোনও প্রাকৃতিক কারণে নয়।

সচেতন মহল একে বলছেন, মানুষের তৈরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই মানব সৃষ্ট বন্যা হয়েছে অবৈধভাবে কয়লা খনন, দিখৌ নদী থেকে নির্বিচারে পাথর, বালি খনন করে ব্যবসা চালানোর ফলে। কিন্তু আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আসামে কোথাও কয়লা নেই। কয়লার খননকাজ আসামে হয় না। বাস্তবে আসামের বিহুবর চনটক অঞ্চল সহ অনেকগুলি জায়গাতেই কয়লা আছে। অবৈধ ভাবে কয়লা খনন ও পাথর খননের কাজ বহু দিন ধরেই চলেছে। সেখানকার মানুষ দাবি তুলেছিল, খনন কাজ বন্ধ করার। কিন্তু প্রশাসন তাতে কর্ণপাতও করেনি। মানুষ বুঝেছিল, এর ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটবে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা বলে মানুষকে ভোলানোর চেষ্টা করছেন।

এই মানব সৃষ্ট প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। বন্যা এত ভয়াবহ ছিল যে দু-ঘণ্টার মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, খেত, কৃষি, গৃহপালিত পশু থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র– সব শেষ হয়ে গিয়েছে। দেখা গেছে, নানা দল, সংগঠন, ব্যক্তিগত ভাবে মানুষ বন্যার্তদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজেরা গিয়ে বন্যাপীড়িত লোকের ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। এনডিআরএফ-এসডিআরএফ সরকারি কর্মীরা যেখানে যেতে সাহস করেনি, সেখানে সাধারণ মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। কয়েক জন মানুষ দু-দিন ধরে ঘরের চালের উপরে আটকে ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

ত্রাণের জন্য বক্স কালেকশন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অথচ আসামের মানুষ জানেন, প্রথম সাতদিন বন্যার্ত এলাকায় সরকারি কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি। সরকারি ত্রাণও মেলেনি। এস ইউ সি আই (সি)-র উদ্যোগে যখন ত্রাণ সংগ্রহ শুরু হয়েছে মানুষ দু-হাত ভরে সাহায্য করেছেন। এক এক জন ব্যক্তি পাঁচ বার, ছ-বারও সাহায্য করেছেন। বলেছেন, আমরা আগে সাহায্য করেছি, আবার দিলাম। দেখা গেল, সমাজে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটলেও তা সম্পুর্ণ শেষ হয়ে যায়নি। বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রমাণ– মানুষ সত্যিই মানুষের জন্য। এক মহিলাকে সাহায্যের আবেদন করতে তিনি বললেন, এই দুুদর্শার মধ্যে সাহায্য না করে কী ভাবে থাকব? প্রচণ্ড গরমে এস ইউ সি আই (সি) কর্মীদের ত্রাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে দেখে অনেকেই ঠাণ্ডা জলের বোতল কিনে দিয়ে গেছেন। মানুষের ভিতর এখনও সহানুভূতিশীল, সুন্দর মন আছে। সেটাকে জাগানোই বিপ্লবী দলের কর্মীদের কাজ।