
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ যে জনসাধারণ, গণতন্তে্র তাঁদের ভূমিকা কী? তা কি শুধুই পাঁচ বছর অন্তর একটা করে ভোট দেওয়া? মানুষ যাঁদের ভোট দেন তাঁরা কি সত্যিই সেই সব মানুষের সামগ্রিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন?
প্রশ্নটা ওঠার কারণ আছে। শাসক কিংবা বিরোধী যে দলই হোক, রাজনীতিতে এখন শুধুই অর্থের আস্ফালন। অধিকাংশ প্রার্থীর হলফনামা ঘাঁটলে দেখতে পাওয়া যাবে, তাঁদের সম্পত্তি কী বিপুল পরিমাণে ফুলেফেঁপে উঠছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বে জনগণের নাভিশ্বাস উঠলেও তাঁদেরই ভোটে নির্বাচিত এমএলএ-এমপিদের গাড়ি-বাড়ির বহর এবং জাঁকজমক বাড়তে সময় লাগে না। বেকারত্বে যখন দেশ ছেয়ে যাচ্ছে, দেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন যখন বাড়ার পরিবর্তে কার্যত কমে চলেছে, কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে, তখন এই সব জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের বেতন এবং অন্যান্য অজস্র সুযোগ-সুবিধা নিজেরাই বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে চলেছেন। মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছুঁয়ে যায়, শিক্ষা চিকিৎসা থেকে সরকার হাত গুটিয়ে নেয়, এসব নিয়ে ব্যবসা করার জন্য তুলে দেয় মুনাফালোভী বেসরকারি মালিকদের হাতে। অথচ এমএলএ-এমপিরা, যাঁরা নাকি জনপ্রতিনিধি, তাঁরা এ সবই হয় না দেখার, না শোনার ভান করে চুপ করে থাকেন, আর না হয় তাঁদেরই সমর্থনে লোকসভা-বিধানসভায় জনগণের মতামত ছাড়াই একের পর এক স্বৈরতান্ত্রিক আইন, অর্ডিন্যান্স জারি হয়ে যায়। তারা যদি জনগণের উপর চেপে বসা এই সব সমস্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলেন তা হলে তাঁরা জনগণের প্রতিনিধি হন কী করে? তা হলে জনগণের ভোটের মর্যাদা থাকে কোথায়?
কেন এমনটা হয়, কেন ভোট শেষ হলেই এমএলএ-এমপি-মন্ত্রীরা জনগণের কথা ভুলে যান? আসলে এই সব জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে জয়ী হলেও আসলে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশের শাসক ধনিক শ্রেণির, মালিক শ্রেণির। যদিও এটাই দেশের ভোট রাজনীতির প্রধান দিক, তবু এর বিপরীত রাজনীতিও আছে, যাঁরা সত্যিই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁরা সংখ্যায় কম হলেও অনেক সময় একা হলেও আইনসভায় দাঁড়িয়ে জনস্বার্থে লড়াই করেন। এমনকি সব দলের প্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে লোকসভা-বিধানসভায় নতুন নিয়ম এনে যখন নিজেদের বেতন বাড়িয়ে নেন, তখন তার তীব্র প্রতিবাদ করেন, বাড়তি বেতন নিতে অস্বীকার করেন। সাম্প্রতিক কালে একমাত্র এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) এমএলএ-এমপিরা এমন ভূমিকা পালন করেছেন।
কারা কোন শ্রেণির প্রতিনিধি
আবার একটি নির্বাচন এসে গেছে। শাসক শ্রেণির দলগুলি বিপুল পরিমাণ অর্থ আর প্রচারযন্ত্র নিয়ে নেমে পড়েছে। সেই প্রচারে আবার একবার ভেসে না গিয়ে এ বার কিছু বিষয় বিচার করে দেখার জন্য আমরা জনগণের সামনে রাখছি। বিচার করে দেখতে হবে– কোন দলটি সত্যিই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, আর কারা মুখে জনগণের কথা বললেও বাস্তবে মালিক শ্রেণির প্রতিনিধি। কারা সারা বছর জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে রাস্তায় থাকে। কারা সরকারের জনবিরোধী নীতিগুলির বিরোধিতা করে, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই করে। এই বিচারটি ঠিক মতো না হলে পুঁজিপতিদের পরিচালিত মিডিয়ার তৈরি করে দেওয়া দুই পক্ষের ছদ্ম লড়াইয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খেতে হবে। মালিক শ্রেণির স্বার্থে কাজ করা কোনও একটি দলের জনস্বার্থ বিরোধী ভূমিকায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওই শ্রেণিরই স্বার্থবাহী আর একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে।
এ রাজ্যে এক সময় পুঁজিপতি শ্রেণির অতি বিশ্বস্ত দল কংগ্রেসের অপশাসনে অতিষ্ঠ মানুষ মুক্তির আশায় সিপিএম ফ্রন্টকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু সিপিএম মুখে বামপন্থার কথা বললেও, দলটি সত্যিই বামপন্থী কি না, জনগণের স্বার্থরক্ষার দল কি না, তাকে সমর্থন করলে সত্যিই মুক্তি আসবে কি না, সে দিন এই প্রশ্নগুলি মানুষ যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে বিচার করেনি। তারা সিপিএমের বামপন্থী স্লোগান, মুখে মার্ক্সবাদের কথা, লাল পতাকা ইত্যাদি দেখে তাকে একটি যথার্থ বামপন্থী দল হিসাবে ভেবে নিয়েছিল। ধরতে পারেনি এই দলটি নিজের সোসাল ডেমোক্রেটিক চরিত্রের জন্য, শ্রম ও পুঁজির মধ্যে আপসকামী শক্তি হিসাবেই কাজ করবে।
শাসকের বদল হয়, দুঃশাসনের বদল হয় না কেন
স্বাভাবিক ভাবেই সরকারে বসে সিপিএম সরকার একের পর এক জনবিরোধী নীতি নিতে থাকল। বাস-ট্রামের ভাড়া বাড়াতে থাকল, জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকল। সবচেয়ে বড় আঘাতটি এল শিক্ষার উপর। প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি এবং পাশফেল প্রথা তুলে দিল। দীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলা মাধ্যম স্কুল ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়তে থাকল। ব্যয়বহুল বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে রাজ্য ভরে গেল। এতে সবচেয়ে ক্ষতির মুখোমুখি হল রাজ্যের সাধারণ মানুষ। সব শেষে তারা নিয়ে এল কৃষক স্বার্থ বিরোধী জমিনীতি। গায়ের জোরে কৃষকের বহুফসলি জমি কেড়ে নিয়ে পুঁজি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করল। এতে প্রমাদ গুনল রাজ্যের কৃষক সমাজ। স্বাভাবিক ভাবেই সিপিএম সরকারের জনবিরোধী চরিত্রটা রাজ্যের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল। সিঙ্গুরের চার-ফসলী কৃষিজমি টাটার হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি অপচেষ্টা এবং নন্দীগ্রামে জমি রক্ষার আন্দোলন দমনে পুলিশ ও ভাড়াটে গুন্ডাদের কাজে লাগিয়ে সিপিএম-ফ্রন্ট সরকারের ফ্যাসিস্টসুলভ আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ উঠল। এই আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বকারী ভূমিকা নিয়েছিল এসইউসিআই(সি)। আন্দোলন সংগঠিত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসও। এই আন্দোলন থেকেই সিপিএম-ফ্রন্ট সরকারের বিকল্প হিসাবে মানুষের ভাবনায় এসে যায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। মানুষ তখন এই দলটির পেটিবুর্জোয়া চরিত্র খতিয়ে দেখেনি। শুধু ‘কে সিপিএমকে হারাতে পারবে’– সেটুকু বিচার করেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরকারে বসিয়েছিল।
স্বাভাবিক ভাবেই সরকারে বসে দলটির পেটিবুর্জোয়া চরিত্রের কারণে তৃণমূল কংগ্রেস মানুষকে সিপিএমের অপশাসনের হাত থেকে রক্ষা করার অজস্র প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন করল না এবং সিপিএমের দেখানো পথে হেঁটেই দুর্নীতির গভীর পাঁকে গিয়ে ডুবল। কেন এমন হল, গভীরে গিয়ে দলটির শ্রেণি চরিত্র বিচার না করেই মানুষ আবার এখন খোঁজ করতে শুরু করেছে, কে তৃণমূলকে হারাতে পারবে। কিন্তু এমন করেই যদি রাজনীতির ভাল-মন্দ, সৎ-অসৎ, নীতি-দুর্নীতি, শোষক শ্রেণি-শোষিত শ্রেণির বাছ-বিচার না করে মানুষ বার বার শুধু অন্ধের মতো পথ হাতড়াতে থাকে, তবে সরকারে পরিবর্তন এলেও কয়েক বছরের মধ্যেই আবার খোঁজ করতে হবে– এই বদলানো শাসক দলকে আবার কে বদলাতে পারবে।
দল বিচারের মাপকাঠি
অথচ বিচারটা তো হওয়া উচিত এই ভাবে যে, কোন দলটি যথার্থই সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারী দল। কোন দল শাসকের ভূমিকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর একের পর এক আক্রমণ নামিয়ে আনছে, আর কোন দল সেগুলির বিরোধিতা করতে গিয়ে লড়াই গড়ে তুলছে, রক্ত ঝরাচ্ছে। দেশের শ্রমিক-কৃষক-সাধারণ মানুষ, শোষিত মানুষের স্বার্থরক্ষাই হওয়া উচিত দল বিচারের যথার্থ মাপকাঠি। এই মাপকাঠিতে বিচার করলেই ধরা পড়বে যে, এই সব দলগুলি, তাদের পতাকার রঙ যা-ই হোক, তাদের স্লোগান যা-ই হোক, যত লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতিই তারা দিক, আসলে তারা মালিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী দল। এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) ছাড়া বাকি দলগুলির প্রায় সবাই সরকারে গিয়ে শাসক শ্রেণির সেবক হিসাবে পরীক্ষিত। তাদের নীতি কী, জনগণের জন্য ভূমিকা কী, কারও অজানা নয়। মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতা, এই দলগুলি প্রতিটিই হয় কেন্দ্রে কিংবা রাজ্যে রাজ্যে সরকারে বসে যে নীতি নিয়ে চলে তা সবই শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এবং পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে।
দক্ষিণ, বাম কিংবা মাঝামাঝি যে পন্থার কথাই মুখে বলুক, এই সব দলগুলির নীতি যে শেষ পর্যন্ত একই, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন শোষক পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করা, তা এদের কর্মকাণ্ড দিয়ে যেমন বোঝা যায় তেমনই নেতাদের অনবরত দল বদল থেকেও তা স্পষ্ট। এই দলগুলির নেতাদের এক দল থেকে আর এক দলে যেতে তাই নীতিগত কোনও অসুবিধা হয় না। তা ছাড়া সদ্য আর জি কর আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে, জনগণের দাবির সামনে, নানা রঙের শাসক দলগুলি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তম্ভগুলি কী ভাবে এক হয়ে যায়। মানুষ দেখল, রাজ্যের তৃণমূল সরকার, কেন্দে্রর বিজেপি সরকার, শীর্ষ আদালত, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা একটি খুন-ধর্ষণের তদন্ত এবং শাস্তির দাবিতে দেশ জুড়ে ওঠা বিক্ষোভের উত্তাল ঢেউয়ের সামনে কী চমৎকার ভাবে শ্রেণিস্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল! জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনকে সঙ্কীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে রঙ নির্বিশেষে শাসক দলগুলি কী ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রাজ্যের মানুষ তার প্রত্যক্ষদর্শী। একমাত্র এস ইউ সি আই (সি) এই আন্দোলনকে সমস্ত দিক থেকে ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে তার সর্বশক্তি নিয়ে ছিল। রাজ্যের মানুষ তা লক্ষ করেছেন। শাসক দলগুলির একই রকম ঐক্য দেখা গেল অজস্র বঞ্চনার বিরুদ্ধে আশা ও পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের রাজ্যব্যাপী আন্দোলনে দমন-পীড়নের সাম্প্রতিক ঘটনায়। আন্দোলনে রাজ্যের পুলিশ যেমন সারা রাজ্যে আশাকর্মীদের উপর অত্যাচার নামিয়ে এনেছে, ঠিক একই রকম ভাবে সর্বত্র কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন রেল-পুলিশও তাঁদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। এর দ্বারাই তারা প্রমাণ করেছে, দলের নামগুলি আলাদা হলেও চরিত্রে তারা একই– জনবিরোধী।
আজ যখন বিজেপি সমাজটাকে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করে দিতে চাইছে, ধর্মের নামে ধর্মীয় জিগিরকে ফেনিয়ে তুলছে এবং শাসক তৃণমূলও তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তখন একমাত্র এস ইউ সি আই (সি) নিরলস ভাবে তার বিরুদ্ধে আদর্শগত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মারাত্মক ক্ষতির দিকগুলি তুলে ধরে, শোষিত মানুষের স্বার্থরক্ষার পথে এই মানসিকতা কী ভাবে বাধা তৈরি করছে, তা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করছে। ধর্মনিরপেক্ষতার চিন্তা যে শুধু একটি বিশেষ ধরনের মনোভাবই নয়, তা যে গণতন্তে্রর অপরিহার্য অঙ্গ এস ইউ সি আই (সি)-ই তা তার সমগ্র রাজনীতি দিয়ে তুলে ধরছে।
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত যে রাজনীতি, তার মধ্যে ধর্মকে টেনে এনে শাসক বিজেপি রাজনীতির এই মৌলিক পরিপ্রেক্ষিতটাকে বদলে দিচ্ছে। এস ইউ সি আই (সি) তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিজেপির রাজনীতির এই মারাত্মক দিকটিকেই মানুষের কাছে তুলে ধরছে।
রাজনীতিতে একচেটিয়া পুঁজির আধিপত্য বাড়ছে
আজ অর্থনীতিতে যতই পুঁজির কেন্দ্রিকরণ ঘটছে, রাজনীতিতে যতই একচেটিয়া পুঁজির আধিপত্য বাড়ছে, ততই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে দু-পায়ে মাড়িয়ে শাসকরাও স্বৈরাচারী হয়ে উঠছে এবং রাষ্ট্রও ক্রমাগত বেশি বেশি করে একচেটিয়া পুঁজির লেজুড়ে পরিণত হচ্ছে। এরই সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রের কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষার দিকটি বাতিলের ঝুড়িতে চলে যাচ্ছে। এই বক্তব্যও একমাত্র এস ইউ সি আই (সি) সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরছে। পুঁজির সর্বগ্রাসী আধিপত্যের বিপরীতে এস ইউ সি আই (সি) দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থকে তুলে ধরে লড়াই চালাচ্ছে।
জনজীবনের এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যা নিয়ে এস ইউ সি আই (সি) আন্দোলন গড়ে তুলছে না। সিপিএম শাসনে ইংরেজি ও পাশফেল তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, তৃণমূল সরকারের সর্বনাশা শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করার জন্য লড়াই চালাচ্ছে, আর জি করে চিকিৎসক ছাত্রীর ন্যায়বিচারের দাবি সহ মহিলাদের উপর অজস্র রকমের আক্রমণের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে এই দল। বেকারদের কাজ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, আশা-পৌর স্বাস্থ্যকর্মী সহ সমস্ত স্কিম ওয়ার্কারদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষাহত্যাকারী নয়া জাতীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে একমাত্র এই একটি দলই দেশজোড়া আন্দোলন চালাচ্ছে। শ্রমিকদের উপর মালিকী শোষণের অবাধ ছাড়পত্র দেওয়া শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে দল এবং ট্রেড ইউনিয়ন। বিজেপি-আরএসএসের সমাজে ভয়ঙ্কর বিভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে আদর্শগত সংগ্রাম চালাচ্ছে এস ইউ সি আই (সি)।
সংগ্রামী বামপন্থাই বিকল্প
তথাকথিত বৃহৎ বামপন্থী দলগুলি যখন পুঁজির এই আধিপত্যের সামনে মাথা নত করে বামপন্থার সংগ্রামী রাস্তা পরিত্যাগ করে আপসকামী সংস্কারপন্থী রাস্তা গ্রহণ করছে, একচেটিয়া পুঁজির বেঁধে দেওয়া রাস্তাতেই হেঁটে চলেছে, তখন সংগ্রামী বামপন্থার পথে অবিচল থেকে এস ইউ সি আই (সি)-ই একমাত্র সাধারণ মানুষের যথার্থ প্রতিনিধি হিসাবে সাম্যবাদের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এগিয়ে চলেছে।
সংসদীয় সব দলগুলিই আজ তাদের রাজনীতি থেকে নীতিকে বিদায় দিয়েছে। যে কোনও উপায়ে ক্ষমতায় বসা ও তা টিকিয়ে রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। সমস্ত বুর্জোয়া, পেটিবুর্জোয়া ও মেকি বামপন্থী দলগুলি যতই সরকারে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শোষক শিল্পপতি-ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে সরকার পরিচালনা করছে, ততই তারা নীতিহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে। ততই তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করছে, নীতি-নৈতিকতা-সংস্কৃতি ধ্বংস করছে। নানা অনৈতিক সুবিধা দিয়ে একাংশের মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিচারবোধকে ধ্বংস করছে। তার বিপরীতে এসইউসিআই(কমিউনিস্ট) এ যুগের মহান মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক কমরেড শিবদাস ঘোষের চিন্তার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উন্নত নীতি-নৈতিকতা ও বিপ্লবী বামপন্থী আদর্শের ভিত্তিতে জনস্বার্থকে একমাত্র লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কমরেড শিবদাস ঘোষ বলেছিলেন, মনে রাখবেন, একটা জাতি খেতে না পেলেও উঠে দাঁড়ায়, না খেতে পেলেও সে লড়ে যদি মনুষ্যত্ব থাকে। সমাজে এই মনুষ্যত্ব রক্ষার লড়াইটি এস ইউ সি আই (সি) অবিরাম চালিয়ে যাচ্ছে। এস ইউ সি আই (সি)-ই একমাত্র দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছে, এই শোষণমূলক, আধিপত্যবাদী, দুর্নীতিগ্রস্ত পুঁজিবাদী ব্যবস্থাই শেষ কথা নয়। এর বিকল্প রয়েছে। এই বিকল্প হল সমাজতন্ত্র– যেখানে জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, রাষ্ট্রের পরিচালক, নীতিনির্ধারক। যার মধ্যেই রয়েছে জনগণের জন্য সত্যিকারের গণতন্ত্র।
তাই কেন আপনি এস ইউ সি আই (সি)-কেই ভোট দেবেন, অন্য কোনও দলকে নয়, যুক্তি দিয়ে বিচার করলে আপনি নিজেই তা ধরতে পারবেন। আপনার একটি ভোট আপনারই স্বার্থে লড়াই করা এই সংগ্রামী শক্তিকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে।