
অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর ৯ ফেব্রুয়ারি এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য দূর করার জন্য ইউজিসি রেগুলেশন সুপ্রিম কোর্টের আদেশে জারি করা হয়েছিল গত ১৩ জানুয়ারি। এটিকে ২০১২ সালের প্রায় একই ধরনের রেগুলেশনের একটি সম্প্রসারণ বলে মনে হয়েছিল। পুরনো রেগুলেশনে ৩ (সি) ধারাতে উল্লেখিত এসসি-এসটির সঙ্গে এবার ওবিসিকে যোগ করা হয়েছিল। এই ২০২৬ রেগুলেশন সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হলে শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে শীর্ষ আদালত তার নিজস্ব আদেশে জারি করা রেগুলেশন নিজেই স্থগিত করল। আশ্চর্যজনক বিষয় হল, আদালতে ইউজিসি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল আবেদনকারীদের যুক্তির বিরোধিতা করেননি। অর্থাৎ ইউজিসির আনা রেগুলেশনের পক্ষেই তিনি দাঁড়াননি।
এ প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি হল, আমরা সব সময়েই সব ধরনের বৈষম্যের বিরোধিতা করি, যার মধ্যে জাত-বর্ণভিত্তিক বৈষম্যও অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের বৈষম্য রোধ করার জন্য কোনও বিল আনা হলে, আমরা অবশ্যই তা সমর্থন করব। তবে, কেবল এই ধরনের বিল বা আইন তৈরি করেই জাত-বর্ণভিত্তিক বৈষম্য দূর করা যাবে না। এটি নির্মূল করার জন্য শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে তোলার একটি প্রক্রিয়া থাকা উচিত। এর জন্য, সকলের জন্য ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং বৈজ্ঞানিক শিক্ষা চালু এবং বিশেষ করে নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পূর্ণ রূপে বাতিল করার দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সমাজ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আমাদের দেশের জাত-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদান, সমাজ সংস্কার আন্দোলন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকার কথা পড়ানো উচিত। এগুলি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এই প্রক্রিয়াতেই তারা জাত-বর্ণ বা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং চরিত্র এবং মানবতার ভিত্তিতে একে অপরকে বিচার করতে শিখবে। তবেই প্রকৃত অর্থে জাত-বর্ণভিত্তিক বৈষম্য দূর হবে।