Breaking News

শ্রমিক, কৃষক, নারীদের বাজেট প্রতিক্রিয়া

শ্রমজীবী জনগণকে ঠকানো হল — এ আই ইউ টি ইউ সি

২০২৬-’২৭-এর কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এআইইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শঙ্কর দাশগুপ্ত ১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন,

শ্রমজীবী জনগণের প্রতি প্রতারণামূলক এই কেন্দ্রীয় বাজেটের তীব্র নিন্দা করছে সংগঠনের সর্বভারতীয় কমিটি। অন্যান্য বারের মতোই পরিসংখ্যানের বিভ্রম ও বড় বড় বুলির আড়ালে এ বারের বাজেটও সম্পূর্ণ ভাবে গরিব মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে একচেটিয়া মালিকদের স্বার্থ রক্ষার প্রকট উদাহরণ।

এখনকার টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প-পরিস্থিতির ভয়ানক চেহারা উঠে এসেছে বাজেট-পূর্ব আর্থিক সমীক্ষায়। কিন্তু এই সমীক্ষা রিপোর্টের সঙ্গে সামান্য সঙ্গতিও না রেখে এই বাজেট সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছে, বিশ্বগুরু হওয়ার লক্ষ্যে এই দেশ অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে জোর কদমে এগিয়ে চলেছে। এই বাজেট দেশের ভয়াবহ বেকার সমস্যা নিয়ে একটি কথাও বলেনি, কথা বলেনি আশা, আইসিডিএস, মিড ডে মিল, এনআরএলএম-এর স্কিম-কর্মী এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের দুর্দশা নিয়েও। দরিদ্র কৃষক ও খেতমজুরদের দুর্দশা দূর করার বিষয়েও এই বাজেট নীরব। নিপীড়িত জনগণের জীবন থেকে ভয়াবহ দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করার কোনও কথা স্পষ্টতই এই বাজেটে উচ্চারণ করা হয়নি।

অন্য দিকে এই বাজেটে বেশ কিছু সুবিধা ও করছাড় দেওয়া হয়েছে একচেটিয়া পুঁজিপতিদের সংস্থাগুলিকে। একচেটিয়া সংস্থাগুলির জন্য সহজে ব্যবসা করার ব্যবস্থা আর ব্যাপক সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের জন্য সহজে মরার ব্যবস্থা করার যে মূল নীতি এই সরকার নিয়ে চলছে, তার সঙ্গে এই বাজেট অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাস্তবে আমাদের মতো পুঁজিবাদী সমাজের এটাই লক্ষ্য এবং লক্ষ্যপূরণের কার্যক্রম।

এই বাজেটকে সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাখ্যান করে দেশের পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থবাহী কেন্দ্রীয় সরকারের নৃশংস নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য এআইইউটিইউসি-র সর্বভারতীয় কমিটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে গোটা দেশের মেহনতি মানুষকে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘট সফল করার ডাক দেওয়া হয়েছে।

কৃষক-খেতমজুরের স্বার্থবিরোধী — এ আই কে কে এম এস

এআইকেকেএমএস-এর সর্বভারতীয় কমিটি এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটকে কৃষক সহ মেহনতি মানুষের স্বার্থের সম্পূর্ণ বিরোধী ও একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থবাহী বলে মনে করে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড শঙ্কর ঘোষ ২ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন,

কৃষক-খেতমজুরদের দাবি পূরণ দূরে থাক, এই বাজেটে তাঁদের দাবিগুলির উল্লেখ পর্যন্ত নেই। উৎপাদন খরচের দেড়গুণ হারে কৃষিপণ্যের ন্যূনতম দাম ধার্য করা এবং কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক কৃষিপণ্য কেনা নিশ্চিত করা, ব্যাঙ্কঋণ মকুব, বীজ-সারের মতো কৃষি-উপকরণ কম দামে সরবরাহ করা, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ বন্ধ করা ও বিদ্যুৎ বিল-২০২৫ প্রত্যাহার করা, সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা ও দৈনিক ৮০০ টাকা মজুরি ইত্যাদি দাবিতে কৃষক ও খেতমজুররা দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করছে। কারওরই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে চাষি ও খেতমজুরদের বাঁচাতে হলে এই দাবিগুলি পূরিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাজেট বরাদ্দ ও কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্পষ্ট যে, তারা এই সব দাবি পূরণ করতে চায় না। এমএনরেগার বদলে যে জিরামজি প্রকল্প চালু করা হচ্ছে, তার বিজ্ঞাপন বাবদ বিপুল খরচ করা হলেও ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ৬৫.৯ শতাংশ ছাঁটাই করা হয়েছে। গত বাজেটের ৮৮ হাজার কোটির জায়গায় এবার বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। কৃষক ও খেতমজুরদের সম্পর্কে এই বাজেট সম্পূর্ণ নীরব।

পাশাপাশি দেশ ও বিদেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলির মুনাফা-লালসা নানা উপায়ে পূরণের লক্ষ্যে এবারের বাজেট বরাদ্দ স্থির করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, আমাদের দেশে পুঁজিবাদী শোষণের ফলস্বরূপ জনসাধারণকে নিঃস্বে পরিণত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এই বাজেট সেই প্রক্রিয়াকেই শক্তিশালী করবে। এর ফলে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান আরও গভীর হবে। এই অবস্থায় আমাদের অবশ্যকর্তব্য হল এই জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী বাজেটের বিরোধিতা করা।

দেশ জুড়ে শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুর ও গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মানুষের প্রতি শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা এবং শাসক শ্রেণি ও তার সেবাদাস বিজেপি সরকারের হীন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে এআইকেকেএমএস।

মহিলাদের জন্য কিছু নেই — এ আই এম এস এস

কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে এআইএমএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড ছবি মহান্তি ৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারীদের পক্ষে এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেট অত্যন্ত হতাশাজনক। অন্যান্য বারের মতো এ বারের বাজেটও মহিলাদের প্রকৃত প্রয়োজনগুলির প্রতি অবহেলা দেখিয়েছে। এই বাজেট সামাজিক ন্যায়, লিঙ্গ সমতা এবং সমাজের নিপীড়িত অংশের সমস্যার মতো বিষয়গুলি এড়িয়ে গিয়েছে। সংগঠিত ও অসংগঠিত উভয় ক্ষেত্রেই এই বাজেট মহিলাদের কল্যাণ, সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তার উন্নতি বিধানের কোনও ব্যবস্থা করেনি। মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির নিরিখে বিচার করলে সামাজিক ক্ষেত্রগুলিতে বাস্তবে বরাদ্দ ছাঁটাই করা হয়েছে। আশা, অঙ্গনওয়াড়ি ও মিড ডে মিল-এর মতো মহিলা স্কিমকর্মীদের এ বারের বাজেটে বঞ্চিত করা হয়েছে। এআইএমএসএস সর্বস্তরের মহিলাদের এই কেন্দ্রীয় বাজেট প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছে।