Breaking News

নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিকমৃত্যুর প্রতিবাদে এআইইউটিইউসি-র বিক্ষোভ

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সংগঠনের সম্পাদক কমরেড অশোক দাস

নরেন্দ্রপুর থানায় নাজিরাবাদের গুদামে আগুনে পুড়ে কমপক্ষে ২৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু ও বহু শ্রমিকের নিখোঁজ থাকার মর্মান্তিক ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মৃতদের পরিবারগুলিকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, একজনকে চাকরি এবং আহতদের ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, কোনও শ্রমিককে উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়া কাজ না করানো সহ ৪ দফা দাবিতে ২৯ জানুয়ারি কলকাতার ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির পাদদেশে এআইইউটিইউসি বিক্ষোভ দেখায়। শতাধিক শ্রমিকের বিক্ষোভ মিছিল সরকারকে ধিক্কার জানায়। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক কমরেড অশোক দাস। মিছিলে অংশ নেন সহসভাপতি কমরেড শান্তি ঘোষ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড অনিন্দ্য রায়চৌধুরী, কমরেড জয়ন্ত সাহা, কমরেড তপন মুখার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মিছিল শেষে কমরেড অশোক দাস ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড জৈমিনী বর্মন রাজভবনে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে আলোচনা করেন। অবিলম্বে দাবিগুলো না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। পুলিশের মাধ্যমে স্মারকলিপি পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রীকে।

৩০ জানুয়ারি সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক কমরেড অশোক দাস, সহসভাপতি কমরেড নন্দ পাত্র, রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেড শ্যামল রাম ও কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড সজল দাসের এক প্রতিনিধিদল নাজিরাবাদের অগ্নিদগ্ধ গুদাম এলাকা পরিদর্শনে যান। তাঁরা এলাকার মানুষের সাথে কথা বলেন। প্রকৃত সত্য জানার প্রয়োজনে প্রতিনিধিরা অগ্নিদগ্ধ গুদামে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং তাঁদের সঙ্গে পুলিশের প্রবল বাদানুবাদ হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ রাজ্য সম্পাদককে ভিতরে ঢুকতে দিতে বাধ্য হয়। উপস্থিত সাংবাদিকদের কমরেড অশোক দাস বলেন, শাসক দল ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজসে মুনাফালোভী মোমো ও ডেকোরেটর মালিকদের শ্রম আইনবিরুদ্ধ ও অমানবিক গাফিলতিই এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য মূলত দায়ী। গুদামে আগুন নেভানোর ব্যবস্থšা ছিল না শুধু তাই নয়, অভিযোগ– বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। তালা দেওয়া না থাকলে এই ভাবে এতজন শ্রমিককে পুড়ে মরতে হত না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে তালা লাগিয়েছিল ও চাবি কার কাছে ছিল? তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না রেখে কী ভাবে জলাজমিতে এই ধরনের বেআইনি গুদাম নির্মাণে প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল? তিনি দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখনও কেন ওয়াও মোমোর মালিকদের গ্রেপ্তার না করে স্টাফদের গ্রেফতার করা হয়েছে? এর মধ্যে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র নেই তো? অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া না গেলে এবং ৪ দফা দাবি মেনে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

কোচবিহারে এআইইউটিইউসি-র প্রতিবাদ মিছিল ও শোকসভাঃ ২৯ জানুয়ারি কোচবিহার শহরে শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি-র পক্ষ থেকে ক্ষুদিরাম স্কোয়ারে এক শোকসভা ও প্রতিবাদ মিছিল হয়। শহিদ বেদিতে মাল্যদান করে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক কমরেড নেপাল মিত্র, জেলা সহ সভাপতি কমরেড বিপুল ঘোষ সহ অন্যান্য জেলা স্তরের শ্রমিক নেতৃত্ব।