
ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ইউনিটি ফোরামের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক গৌরীশঙ্কর দাস ১২ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কর্মী ও অফিসারদের ৯টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস তথা ইউএফবিইউ। ধর্মঘট হলে সারা দেশে টানা চার দিন এবং এ রাজ্যে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক। তা ছাড়া এই ধর্মঘটে একটি মাত্র দাবি উত্থাপিত হয়েছে, যার সাথে যোগ নেই ব্যাঙ্ক শিল্পের উন্নত ভবিষ্যতের, ব্যাঙ্কের বিশাল সংখ্যক গ্রাহক-স্বার্থের এবং এমনকি ব্যাঙ্কের ক্রমবর্ধমান ক্যাজুয়াল, কন্ট্রাক্ট ও পার্ট টাইম কর্মীদের সমস্যাবলিরও।
ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত নেই ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ, বেসরকারিকরণ, অনুৎপাদক সম্পদ বৃদ্ধি, মোটা অঙ্কের ঋণ মকুব বা খাতা থেকে মুছে দেওয়া, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, দুর্বল গ্রাহক পরিষেবা, সুদের হারের মতো বিষয়গুলিও। স্থায়ী কাজে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ কিংবা সম কাজে সম বেতনের নীতি লঙ্ঘনও এখানে উপেক্ষিত। ক্যাজুয়াল এবং কন্ট্রাক্ট কর্মীদের আশঙ্কা সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাঙ্ক হলে তাঁদের মাসিক আয় কমতে পারে এবং অথবা কাজের চাপ আরও বাড়তে পারে। এই আশঙ্কা অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ দিকে আরও আগে এই ধর্মঘটের ১৬ দিন পরে ১২ ফেব্রুয়ারি আর একটি ধর্মঘটের আহ্বান এসেছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং কয়েকটি জাতীয় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। সেখানে বেশ কিছু দাবির মধ্যে যেগুলি মুখ্য তা হল ৪টি শ্রমবিধি যা সম্প্রতি বলবত হয়েছে তা বাতিল করতে হবে, সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের বেসরকারিকরণ চলবে না ইত্যাদি। এই শ্রমবিধির ভাল-মন্দ নিঃসন্দেহে ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের ভাল-মন্দকেও প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করবে। বেসরকারিকরণও ব্যাঙ্ক শিল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই হিসাবে এই ধর্মঘটে ইউএফবিইউ-র ভূমিকা কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই ধর্মঘটেও ব্যাঙ্ক কর্মী ও অফিসারদের একটা সুনির্দিষ্ট ভূমিকা থাকা বাঞ্ছনীয়। অথচ এখনও এ ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট না করে ব্যাঙ্ক শিল্পে আলাদা করে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে যেখানে ব্যাঙ্ক শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অনুপস্থিত। ব্যাঙ্ককর্মীরাও যে অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষের অংশ তা বিস্মৃত হলে বা সেই অনুযায়ী তাঁদের কার্যক্রম পরিচালিত না হলে তাঁদের উপর প্রতিনিয়ত আক্রমণগুলিকে তাঁরা প্রতিহত করতে পারবেন না।