
অল ইন্ডিয়া পাওয়ারমেন্স ফেডারেশনের তৃতীয় সর্বভারতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৩-১৪ ডিসেম্বর কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দে্র। কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, বিহার, দিল্লি, সিকিম, মণিপুর এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের ১২টি রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংবহন ও বন্টন কেন্দে্র কর্মরত ৩১২ জন প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলন উপলক্ষে গত তিন মাস ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিদ্যুৎ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার হয়েছে। এআইইউটিইউসি-র নেতৃত্বে পরিচালিত পাওয়ারমেন্স ফেডারেশনের কার্যক্রম এবং বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কিছু নতুন রাজ্যের যথা বিহার, মণিপুর এবং ওড়িশার মালকানগিরি জেলার বালিমেলা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
১৩ ডিসেম্বর সকালে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি এবং এআইইউটিইউসি-র সহ-সভাপতি কমরেড স্বপন ঘোষ। শহিদ বেদিতে মাল্যদান করেন কমরেড স্বপন ঘোষ এবং প্রধান বক্তা এআইইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শংকর দাশগুপ্ত, কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং অফিস সম্পাদক কমরেড দীপক দেব সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কমরেড কে সোমশেখর, কমরেড ভি কে সদানন্দন, কমরেড রমেশ পরাশর এবং কমরেড জয়সেন মেহেরকে নিয়ে গঠিত সভাপতিমণ্ডলী সম্মেলন পরিচালনা করেন। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক কমরেড সমর সিনহা।
১৪ ডিসেম্বর অধিবেশনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন এআইইউটিইউসি-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক কমরেড অশোক দাস। তিনি বিদ্যুৎ শিল্প সহ দেশের বিভিন্ন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের উপর আজ যে সর্বাত্মক আক্রমণ নেমে এসেছে তা প্রতিহত করার জন্য সংগঠিত এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের সর্বস্তরের কর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সম্মেলন থেকে কমরেড কে সোমশেখরকে সভাপতি এবং সমর সিনহাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ জনের একটি কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়। কমরেড সমর সিনহা সম্মেলনকে সফল করার জন্য এআইইউটিইউসি-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি সহ বিভিন্ন রাজ্যের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনে বিদ্যুৎ শিল্পের বেসরকারিকরণ এবং জনবিরোধী বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রধান বক্তা এআইইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শংকর দাশগুপ্ত নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের কাছে সংগঠন বিস্তারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করার আহ্বান জানান।