
অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াইয়ের এক বছরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রবীণ চিকিৎসক, প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন এলাকার অভয়া আন্দোলন কমিটিগুলির ডাকে ১৪ আগস্ট কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে নাগরিক কনভেনশন হয়। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ভূবিজ্ঞানী অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়।
শুরুতেই অধ্যাপক ডাঃ দুর্গাপ্রসাদ চক্রবর্তী সাংগঠনিকভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন তীব্র করার আহ্বান জানান। কবি শুভ দাশগুপ্ত বলেন, সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অবশ্যই অংশ নিতে হবে। নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী বলেন, স্বতঃস্ফূর্ততা নয়, সংগঠিত আন্দোলন দরকার। বিশিষ্ট আইনজীবী পার্থসারথি সেনগুপ্ত বলেন, অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলন ক্ষমতা দখলের আন্দোলন নয়, ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনার আন্দোলন। শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার বলেন, নারীদেহের পণ্যায়ন করার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের অন্যতম মুখ ডব্লিউবিজেডিএফ-এর নেতা ডাঃ দেবাশীষ হালদার বলেন, ৮ আগস্ট মশাল মিছিল, ৯ আগস্ট আরজি করে ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ মূর্তির সামনে প্রতিবাদ সভা, ১৪ আগস্ট নাগরিক কনভেনশনের উদ্যোগ যেন আন্দোলনকে একই সুরে বেঁধে দিয়েছে। আন্দোলন চালিয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর। জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের অন্যতম মুখ ডব্লিউবিজেডিএফ-এর নেতা ডাঃ অনিকেত মাহাতো বলেন, বিচারহীনতার এক বছরে পাওয়া-না পাওয়ার হিসেব দেখলে আমরা বিচার এখনও পাইনি। কিন্তু যা পেয়েছি তা-ও অনেক। এই ঘটনায় সরকার-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা যুক্ত, যা সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। আমরা আন্দোলন থেকে পেয়েছি পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের একতা। বিচার না পাওয়া অবধি আন্দোলন জোরদার ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। অভয়ার যন্ত্রণার প্রতিরূপ ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ এর ভাস্কর অসিত সাঁই বলেন, অভয়ার যন্ত্রণার মূর্ত রূপ হিসেবে এই ভাস্কর্য তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যা আসলে সকলের ব্যথা ও কষ্টের প্রতিবিম্ব। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মী-বুদ্ধিজীবী মঞ্চের অন্যতম সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, মানুষের অধিকারের আন্দোলনে নারী-পুরুষ একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
অসুস্থতার কারণে কনভেনশনে অনুপস্থিত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী গণেশ হালুই, প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল ব্যারিস্টার বিমল কুমার চ্যাটার্জী ও সঙ্গীতশিল্পী কল্যাণ সেন বরাট। কনভেনশনের আহ্বানকে সমর্থন করে বার্তা পাঠান। উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক একরাম আলি, বিশিষ্ট ক্যান্সার সার্জেন অরুণাভ সেনগুপ্ত, চিত্র পরিচালক শতরূপা স্যান্যাল, অধ্যাপক সৌমিত্র ব্যানার্জী, কবি শাহনাজ নবী, লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিরোধ আন্দোলনের নেত্রী অবন্তিকা দাস, রিক্লেম দ্য নাইট-এর পক্ষে মহাশ্বেতা সমাজদার, জাতীয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় অনিতা রায় সহ সমাজের নানা স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। হলে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
কনভেনশন থেকে ‘ভয়েস অফ অভয়া-ভয়েস অফ উইমেন’ নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়। বিশিষ্ট আইনজীবী পার্থসারথি সেনগুপ্ত সভাপতি, ডাঃ বিপ্লব চন্দ্র সম্পাদক ও কল্পনা দত্ত কোষাধ্যক্ষ এবং শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি সদস্য নির্বাচিত হন।