Breaking News

পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে এ আই ইউ টি ইউ সি-র দাবি

পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ১৮ আগস্ট ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে এআইইউটিইউসি-র রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস ২০ আগস্ট বলেন, করোনার সময় থেকে শ্রম আইন ‘ইন্টার স্টেট মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কমেন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করা ও পরিচয়পত্র প্রদান সহ আইন অনুযায়ী সমস্ত সুযোগ তাঁদের দেওয়ার দাবি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার রাজ্য সরকারের কাছে করা হয়েছে। এই রাজ্যে বাঁচার মতো মজুরিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করার দাবিও আমরা জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে পরিষ্কার, আমাদের সংগঠনের দাবির যৌক্তিকতা রাজ্য সরকার স্বীকার করেছে এবং দুটি দাবি আংশিক মেনে নিয়েছে।

রাজ্য সরকার বলেছে, রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের নথিভুক্ত সংখ্যা বর্তমানে ২২ লক্ষ ৪০ হাজার। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। করোনা অতিমারির সময় বলা হয়েছিল ৪০ লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছিলেন। বর্তমানে রাজ্যে নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা থেকে অ-নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। এঁদের নাম দ্রুত নথিভুক্ত করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

লক্ষণীয়, অন্যান্য রাজ্যে নানা অত্যাচারের পরও সেখান থেকে ফিরে আসা পরিবারের সংখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী ২ হাজার ৭৩০টি। মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান সত্তে্বও কেন পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসছেন না? এর কারণ রাজ্যে কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং কম মজুরি। তাই প্রচারসর্বস্ব এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁদের ফিরে আসা সম্ভব নয়। কারণ মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব।

এটাও লক্ষণীয় যে, স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী কয়েক দশকে অন্য রাজ্যের শ্রমিকরা কাজ করতে আসতেন পশ্চিমবঙ্গে। এ রাজ্য থেকে সামান্য কিছু দক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিক বাইরের রাজ্যে কাজে যেতেন। এখন পরিস্থিতি উল্টে গেল কেন? পরের পর সরকারকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্কটের আশু সমাধানের জন্য এআইইউটিইউসির দাবি–১) ভাষা-ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনও ভারতীয় নাগরিকের পছন্দের যে কোনও রাজ্যে কাজ করার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ২) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে ইন্টার স্টেট মাইগ্রান্ট ওয়ার্কমেন অ্যাক্ট ১৯৭৯ অনুযায়ী সকল ঠিকাদার ও সরকারকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সকল সুবিধা দিতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ সকল রাজ্যকে নথিভুক্ত এবং অ-নথিভুক্ত সকল পরিযায়ী শ্রমিকের নাম নথিভুক্ত করে দ্রুত পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যে পরিচয়পত্র সব রাজ্যে মান্যতা পাবে,৩) পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের অবিলম্বে বাঁচার মতো মজুরিতে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে, ৪) যত দিন কাজ দেওয়া সম্ভব না হচ্ছে, তত দিন কমপক্ষে মাসিক ১৫ হাজার টাকা অনুদান দিতে হবে, ৫) পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্তে্যাদয় প্রকল্পে রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের পরিবারের সকল সদস্যের শিক্ষা ও স্বাস্থে্যর দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে নিতে হবে, ৬) কোনও অজুহাতেই ভোটার তালিকায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নিজ রাজ্যের বাসস্থান এলাকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।