
ন্যূনতম মজুরি, শ্রমিকদের আইনসিদ্ধ অধিকার, মর্যাদার সঙ্গে বাঁচা এবং অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর কারখানার শ্রমিকদের সুরক্ষার দাবিতে মুখ খুলেছিলেন শ্রমিকরা। সেই অপরাধে পুরুলিয়ার আনাড়ায় অবস্থিত রেডিকেম পিগমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ এআইইউটিইউসি অনুমোদিত ৯০ শতাংশ শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কারখানার একমাত্র রেজিস্টার্ড ইউনিয়নের সম্পাদক মহেশ্বর দাস সহ ১৪ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে দেয়।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি শোনার পরিবর্তে মালিকপক্ষ যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও প্রতিহিংসামূলক পথ বেছে নিয়েছে, তা শুধু শ্রম আইন বিরোধী নয়, মানবিকতার বিরুদ্ধেও এক জঘন্য আঘাত। যে শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমে কারখানার উৎপাদন চলে, মুনাফার পাহাড় গড়ে ওঠে, সেই শ্রমিকদেরই আজ প্রতিবাদ করার শাস্তি হিসেবে ছাঁটাই করা হচ্ছে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী শোষণ যত বেড়েছে, প্রতিবাদও তত শক্তিশালী হয়েছে। এই অন্যায় ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে এ আই ইউ টি ইউ সি অনুমোদিত রেডিকেম পিগমেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নেমেছেন। ভয়, হুমকি, চাপ কিংবা দমননীতি কোনও কিছুই তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে সরাতে পারেনি।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী আসানসোলে শ্রম কমিশনার আলোচনার জন্য সভা ডাকেন। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসার ন্যূনতম সদিচ্ছাও মালিকপক্ষ দেখায়নি। শ্রম কমিশনারের ডাকা সেই গুরুত্বপূর্ণ সভায় মালিকপক্ষ অনুপস্থিত থেকে কার্যত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেই অবমাননা করেছে এবং অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
শ্রমিকরা পাড়া থানায় অভিযোগ জানালে থানা কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য থানায় ডেকে পাঠায়। সেখানে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক পক্ষ অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ভাবে তাদের ন্যায্য দাবিগুলি সেখানে তুলে ধরে। মালিকপক্ষও তাদের বক্তব্য জানায়। সব কিছু শোনার পর থানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এই শ্রমিক-মালিক বিরোধের মীমাংসা করার যথাযথ কর্তৃপক্ষ হলেন শ্রম কমিশনার। অতএব আইনি ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
তবুও মালিকপক্ষ নিজেদের অনড় ও শ্রমিকবিরোধী মনোভাব থেকে সরে আসেনি। ফলে বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা তাঁদের আন্দোলন জারি রেখেছেন।
এই আন্দোলন কেবল ১৪ জন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকের রুটি-রুজির প্রশ্ন নয়। এটি সমগ্র শ্রমিক শ্রেণির অধিকার, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের লড়াই।
ইউনিয়নের সভাপতি এবং পুরুলিয়া জেলার এ আই ইউ টি ইউ সি-র সম্পাদক কমরেড প্রবীর মাহাতো জানিয়েছেন, দাবিগুলির সন্তোষজনক মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কোনও রকম চাপের কাছে আত্মসমর্পণ না করে শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবে।