
আসামকে বন্যামুক্ত করার অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি আবার একটি প্রতারণা বলে প্রমাণ হল। এ বারের বন্যায় আসামে সাতটি জেলা বন্যাকবলিত। তার মধ্যে শিবসাগর ও চড়াইদেও জেলা দুটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বিগত ৬০ বছরে এত ভয়াবহ বন্যা আসামের মানুষ দেখেনি। নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টি থেকে জলোচ্ছ্বাস এসে শিবসাগর ও অন্য জেলাগুলিতে ঘর ভেঙেছে, মানুষ গৃহহীন হয়েছে, গবাদি পশু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ কৃষিক্ষেত্রও জলের তলায়। এখনও পর্যন্ত ৮১ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অথচ এই ভয়াবহ বন্যার খবর গোদি মিডিয়া তথা সরকারের ধামাধরা সংবাদমাধ্যমে নেই।
২০২১ সালে আসামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অমিত শাহ বলেছিলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে আসামকে বন্যামুক্ত করব বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। বিহারেও তিনি একই কথা বলেছিলেন। নির্বাচনে জয় এসে গেছে, প্রতিশ্রুতির ধোঁয়াও আকাশে মিলিয়ে গেছে। এই নির্লজ্জতাই আজ বুর্জোয়া রাজনীতির চরিত্র। ভোট চাই, সরকারের গদি চাই– মানুষ বাঁচল না মরল এ নিয়ে মন্ত্রীদের কোনও মাথাব্যথা নেই। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তো প্রতিদিন নিয়ম করে মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ ছড়ান অতি ঘৃণ্য ভাষায়। কত জন অনুপ্রবেশকারী ধরা হল বা তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরা হল কি না, তার জন্য বিজেপি নেতামন্ত্রীরা যতটা ভাবেন তার অর্ধেকও যদি মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবতেন তবে হয়তো মানুষের দুর্দশার সামান্য হলেও সুরাহা হত। এই ঘটনাগুলি বুঝিয়ে দেয় বুর্জোয়া রাজনীতিতে আজ জনকল্যাণের কণামাত্র নেই।
এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) আসাম রাজ্য কমিটির সম্পাদক কমরেড চন্দ্রলেখা দাস এক বিবৃতিতে দলের কর্মীদের কাছে বন্যাকবলিত জনসাধারণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ছাত্র-যুব সংগঠনের পক্ষ থেকেও একই আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে সাড়া দিয়ে কর্মীরা জনসাধারণের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের মধ্যে বিলি করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যেও ত্রাণ সংগ্রহ করে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।