Breaking News

স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ পালন অনৈতিকঃ এস ইউ সি আই (সি)

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ পালনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য ২১ জুন এক বিবৃতিতে বলেন,

রাজ্য সরকার ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ ঘোষণা করেছে এবং তা সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালন করার নির্দেশ জারি করেছে। কিন্তু যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন স্বাধীন দেশের শিক্ষক এবং ছাত্র সমাজ সাড়ম্বরে উদযাপন করবে কোন নৈতিকতায়? ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ঘোষণার পর তার বিরোধিতা করে হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি হিসাবে ২৬ জুলাই তৎকালীন বাংলার গভর্নর জন হার্বার্টকে চিঠি লিখে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রশাসনের এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ওই আন্দোলন এই রাজ্যে শক্ত ভিতের উপর না দাঁড়াতে পারে। ভারতীয়দের মধ্যে যাতে ব্রিটিশ রাজের প্রতি আস্থা তৈরি হয়– তিনি সেই আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে যখন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছেন তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গভর্নরকে চিঠি লিখে ‘ব্রিটিশ সরকারের এমন বিপদের সময় তার পাশে থাকার’ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে তিনি বিশৃঙ্খলা ও নাশকতামূলক কাজ বলে অভিহিত করেছিলেন। উল্লেখ্য, ওই সময় অবিভক্ত বাংলায় ফজলুল হকের নেতৃত্বে যে সরকার ছিল তার শরিক ছিল শ্যামাপ্রসাদের হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লিগ।

আশুতোষ মুখোপাধ্যায় স্বাধীনচেতা উপাচার্য হিসাবে বলিষ্ঠ ভাবে বলেছিলেন, ‘আমার দেহে যতক্ষণ একবিন্দু রক্ত থাকবে, ততক্ষণ… বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি ক্রীতদাস তৈরির কারখানা বানাতে পারব না। … স্বাধীনতা প্রথম, স্বাধীনতা দ্বিতীয়, স্বাধীনতা সব সময়।’ আর, তাঁর পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন ঠিক বিপরীত ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসে ইংরেজের পতাকা অর্থাৎ ইউনিয়ন জ্যাককে অভিবাদন জানাতে অস্বীকার করায় তিনি একটি ছাত্রকে শাস্তি দেওয়ার হুকুম জারি করেন। শুধু তাই নয়, এর বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দু’জন ছাত্রকে বহিষ্কারের আদেশও দিয়েছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ যখন জীবনের পরোয়া না করে এগিয়ে আসছিল, তখন সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশকে সাহায্য করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ বঙ্গদেশকে রক্ষা করার জন্য সরকারের কাছে গৃহবাহিনী গঠনের অনুমতি চেয়েছিলেন। এই ধরনের ভূমিকা গ্রহণকারী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা নিবেদন করা স্বাধীন ভারতের শিক্ষক ও ছাত্রদের পক্ষে কি আদৌ সম্ভব?

 তিনি বলেন, আমরা এই নির্দেশনামা প্রত্যাহার করার দাবি করছি। সাথে সাথে, স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবকে বর্তমান যুগের প্রেক্ষিতে সঠিক ইতিহাসের ভিত্তিতে উপযুক্ত মর্যাদায় স্মরণ করতে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের শিক্ষক -ছাত্র সহ সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।