
প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির চমক, নির্বাচন শেষে মুখে কুলুপ
২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে কালো টাকা উদ্ধার এবং প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ও বছরে দুই কোটি বেকারের চাকরি দেওয়ার মোদিজির চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের পরে এ নিয়ে মুখে আর কোনও কথা নেই।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষকের আয় ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতির কথা তিনি আর উচ্চারণ করেননি।
সবচেয়ে বেশি অনুদান প্রাপক ধনকুবেররা
অনুদানের জন্যই রাজকোষ ঘাটতি, বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী গত বাজেটে বলেছেন রাজ্যগুলো সব মিলিয়ে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার অনুদান দেয়। কেন্দ্রীয় নানা ওয়েলফেয়ার স্কিম ধরে তা মোট ৭ লক্ষ কোটি টাকার কাছে। কিন্তু দেশে সবচেয়ে বেশি অনুদান প্রাপক কারা? কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার বৃহৎ পুঁজি মালিকদের কর্পোরেট কর কমাচ্ছে প্রতি বছর। এর পরেও গত বছর ৪ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি কর্পোরেট কর সরকার মকুব করেছে।
এসইজেড, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের জন্য (আইএফএসসি) কোম্পানিদের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় দিয়েছে। গত ৫ বছরে ৬ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ ব্যাঙ্কের খাতা থেকে ‘রাইট অফ’ করে মুছে দিয়েছে। এর বেশিরভাগটাই নিয়েছিল দেশের ধনকুবেররা। একেবারে বিনা পয়সায় বা এক টাকায় হাজার হাজার একর জমি, বিদ্যুৎ, জল, কয়লা, খনিজ সম্পদ সরকার কর্পোরেট পুঁজিমালিকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। বোঝা যায় বিজেপি সরকার ওদেরই
একচেটিয়া পুঁজিপতিদের মুনাফা আকাশছোঁয়া
টাটাদের মুনাফা গত অর্থ বছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি, আম্বানিদের ৮১ হাজার ৩০৯ কোটি, আদানিদের ৪০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষের আয় কোথায় দাঁড়িয়ে?
বিপুল সংখ্যক সরকারি পদ খালি
কেন্দ্রীয় সরকারের মোট পদের ২৫ শতাংশই খালি। এর পরিমাণ ৯ লক্ষ ৭০ হাজার। রেলে প্রায় ৩ লক্ষ পদ বিলোপের পরেও আরও ২ লক্ষ ৬০ হাজার পদ খালি।
গরিবের আয় কমছে
পারিবারিক আয়ের সরকারি সমীক্ষা দেখাচ্ছে ২০২৩-২৪-এ দেশের ১০ শতাংশ বা প্রায় ১৪ কোটির বেশি মানুষের মাথাপিছু আয় মাসে মাত্র ৮৪৯ টাকা। আর সর্বোচ্চ আয়ের ১০ শতাংশের গড় হল মাথাপিছু মাসে ২০,৫৯৯ টাকা (সিএমআইই তথ্য, পিপলস আর্কাইভ ফর রুরাল ইন্ডিয়ার সংগৃহীত)। মনে রাখা দরকার এই গড় আয়ের মধ্যে মুকেশ আম্বানির ঘণ্টায় ৯০ কোটি টাকা আয়, সরকারি উচ্চপদস্থ অফিসার মন্ত্রী সাংসদদের বিপুল বেতনের সাথে একই সাথে ধরা আছে খেটে খাওয়া মানুষের রোজগারও!
অপুষ্টিতে শিশুরা
ভারত চরম অপুষ্টিতে ভোগা, খর্বকায় ও অত্যন্ত কম ওজনের শিশুর সংখ্যায় বিশ্বে সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে (প্রায় ৫ কোটি)। অপুষ্ট শিশুর সংখ্যাতেও ভারত বিশ্বে সর্বোচ্চ (২ কোটি ১০ লক্ষ)। রাম রাজত্বে ধনী-গরিবের এই বৈষম্য ঢাকবে কীসে?
মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে নারী সুরক্ষার নমুনা!
২০২৪ সালের ৩ জুলাই মধ্য প্রদেশ বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি সরকার জানায়– ২০২১ থেকে ২০২৪, এই তিন বছরে ওই রাজ্যে ২৮ হাজার ৮৫৭ জন মহিলা ও ২৯৪৪ জন নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরে মোট নিখোঁজের সংখ্যা ৩১ হাজার ৮০১ জন। গড়ে প্রতি দিন নিখোঁজ ৩১ জন। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১)
ধর্ষকদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত
১) উত্তর প্রদেশের হাথরসে দলিত কিশোরী গণধর্ষিতা মৃত্যুর আগে জবানবন্দিতে অপরাধীর নাম বলা সত্ত্বেও ক্রিমিনালরা বিজেপির দ্বারা সুরক্ষিত।
২) বিজেপির এমএলএ কুলদীপ সেঙ্গার তার দলবল নিয়ে একটি দরিদ্র মেয়েকে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিকবার ধর্ষণ করে। মেয়েটির বাবা পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মিথ্যা অভিযোগে তার বাবাকেই আটক করে। বিজেপি অভিযুক্ত এমএলএ-র পক্ষ নিয়ে মিছিল করে।
৩) জম্মুতে যাযাবর জাতির এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনে যারা অভিযুক্ত, তাদের পক্ষ নিয়ে দলবল সহ মিছিল করেছে বিজেপির জম্মুর এমএলএ ও ওই রাজ্যের মন্ত্রী।
৪) বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে এক কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ করলে, তার উপর চাপ দেওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়। অবশেষে মেয়েটি অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য হয়।
৫) বিজেপির এমপি ও ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং মহিলা কুস্তিগীরদের নিগ্রহ করতেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় মহিলা কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাত, সাক্ষী মালিকরা প্রতিবাদ জানান। দেশের বিবেক আলোড়িত হলেও দেশের প্রধানমন্ত্রী সহ কোনও বিজেপি নেতা টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করেননি। বিজেপির সৌজন্যে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং সুরক্ষিতই রয়েছেন।
৬) গুজরাটে বিলকিস বানোকে ধর্ষণের মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কারসাজিতে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয় সেই ধর্ষকদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে বিজেপির লোকেরা।