Breaking News

লোকাল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার কোনও চেষ্টা নেই সরকারের

লোকাল ট্রেন দেরিতে চলছে কেন, তার জবাব দিতে গিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ডিআরএম বলেছেন, ‘পরিকাঠামো যা রয়েছে আমরা তার উপর নির্ভর করে যতটা সম্ভব ঠিক সময়ে ট্রেন চালাচ্ছি। কিন্তু খড়গপুর থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত নতুন লাইনের প্রয়োজন রয়েছে। সেই লাইন যতক্ষণ না বাড়ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যা থাকবেই’’ (আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৬/০৬/২০২৫)। অর্থাৎ তিনি চতুর্থ লাইনের কথা বলতে চাইছেন। একই কথা দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারেরও। তিনি মুম্বাইয়ে সময়মাফিক ট্রেন চলার উদাহরণ টেনে এসইউসিআই(সি)-র প্রতিনিধিদের বলেছিলেন, ট্রেন লেট আটকাতে চতুর্থ লাইনের প্রয়োজন।

চতুর্থ লাইন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হল, দু’তিন বছর আগেও তো বর্তমানের এই পরিকাঠামো ছিল এবং তখন লোকাল ট্রেন এমন অস্বাভাবিক দেরিতে চলত না। গড় দেরি ধীরে ধীরে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু লোকাল ট্রেনকে ৪/৫ ঘণ্টা দেরিতেও গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে দেখা যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের নানা দিক থেকে হয়রানি এবং ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস কোনও কর্তৃপক্ষের থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে কেবল চতুর্থ লাইনের অনুপস্থিতি দেখিয়ে সমস্যাকে লঘু করে দেখা চলে না। অধিক থেকে অধিকতর মুনাফা দেখতে গিয়ে রেল তার কর্মীসংখ্যা ক্রমাগত কমাচ্ছে। কমাচ্ছে পরিষেবার গুণগত মান। কখনও টিকিটের দাম বাড়িয়ে, কখনো বা লোকাল ট্রেনকে এক্সপ্রেসের তকমা লাগিয়ে, বরিষ্ঠ নাগরিকদের কন্সেশন তুলে দিয়ে যাত্রীভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। দেরি হওয়ার কারণ কর্মী সংখ্যা কমানোর মধ্যে কতটা লুকিয়ে আছে তা দেখা হচ্ছে না। দেখতে হবে চটজলদি জনপ্রিয়তা লাভের আশায় যেভাবে ‘বন্দে ভারত’ বা এই জাতীয় মহার্ঘ বিভিন্ন ট্রেন চালু করে তাদের গমনাগমনকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে –তার প্রভাব এখানে কতটা। কোন সুদূরে সেই ট্রেন আসছে তার জন্য লোকাল ট্রেনকে মাত্রাতিরিক্ত সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। দেখতে হবে নিরাপত্তার দিকটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিগনালিং ব্যবস্থাকে আরও কত উন্নত করা যায়।

চতুর্থ লাইনের প্রয়োজনকে সত্যিই কি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে? বাস্তবে অগ্রাধিকার পাচ্ছে সাধারণ স্টেশনগুলির অমৃত স্টেশনে রূপান্তরিতকরণ। কয়েকদিন আগে দেশ জুড়ে যে ১০৩টি অমৃত স্টেশনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তার ৩টি পশ্চিমবঙ্গে। কেবল এই ৩টির জন্য খরচ হয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন আরও অমৃত স্টেশনের উদ্বোধন হবে অনতিবিলম্বে। প্রধানমন্ত্রী বা রেলমন্ত্রক এখানে চতুর্থ লাইন নির্মাণের চেয়ে এভাবে অমৃত স্টেশন নির্মাণকে গুরুত্ব দিলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ দিনে দিনে বাড়বে।