
বছর বছর বন্যা যেন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভবিতব্যে পরিণত হয়েছে। ঘাটাল, সবং, পিংলা, ময়না, ভগবানপুর, পটাশপুর, দুবদা বেসিন প্রতি বছর বন্যায় বিপর্যস্ত হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য মানুষের প্রত্যাশা পূরণ কি একেবারেই অসম্ভব কোনও দাবি? নাকি বন্যা রোখা সরকারের আর্থিক ক্ষমতায় কুলোয় না?
কেলেঘাই ও কপালেশ্বরী বাগুই নদী সংস্কার, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান– এ সব যেন সোনার পাথরবাটি। বছরের পর বছর ভোটের জন্য প্রতিশ্রুতির বাইরে আর কিছু নয়। প্রতি বছর কেলেঘাই, বাগুই নদীর বাঁধ ভেঙে ভেতরের জমা জলে মানুষকে ভেসে যেতে হয়। হাজার হাজার মানুষ এক দুর্বিষহ জীবনের মধ্যে পড়েন দীর্ঘ কয়েক মাস। পানীয় জলের অভাব, খেতের ফসল ডুবে যাওয়া, পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়া নিত্য বছরের ঘটনা। স্কুল-কলেজ অফিস তো বন্ধ থাকেই মানুষের জীবন জীবিকার নূ্যনতম উপায়টুকুও স্তব্ধ হয়ে যায়। অথচ বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও মূল নদী এবং তার শাখা নদীগুলির কোনও সংস্কার হয় না। জলনিকাশির উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার সম্বলটুকু তলিয়ে যায় রাজনীতির ঘোলা জলে।
এই আবহেই এ বারও বন্যায় বিধ্বস্ত এলাকায় ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও সবং, ভগবানপুর, বাজকুল সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় দুর্গত মানুষের হাতে সংগৃহীত ত্রাণসামগ্রী তুলে দেয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ কমরেড সুরজিৎ সামন্ত ও পশ্চিম মেদিনীপুর উত্তর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক কমরেড সুমন মহাপাত্র। পূর্ব মেদিনীপুর এর ভগবানপুর বাজকুলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেড লক্ষ্মণ ঘোড়াই ও রাজ্য কাউন্সিল সদস্য কমরেড অর্ঘ্য প্রধান।